3:45 am, Monday, 3 August 2026

কলাবাগানে স্ত্রী-শাশুড়িকে খুন করে থানায় হাজির জামাই

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:31:45 am, Monday, 3 August 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত মো. শিপন ওরফে হৃদয় নিজেই কলাবাগান থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে কাঁঠালবাগান আল আমিন মসজিদ-সংলগ্ন ৫২/২ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন ফারজানা আক্তার রাত্রি (২১) ও তার মা ফিরোজা বেগম (৩৪)। তবে, নিহত ফিরোজার স্বামী ও ফারজানার বাবা মো. ফারুক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পিকঅ্যাপের ড্রাইভার হৃদয় দীর্ঘতিন মাদকাসক্ত। বিয়ের পর থেকে তাকে একাধিকবার ১০-২০ হাজার টাকা করে লোন হিসেবে দিলেও আর ফেরত পেতাম না। বেশ কয়েকদিন ধরে তাকে একটি গাড়ি কিনে দেওয়ার দাবি করে আসছিল। মূলত এটা নিয়েই ক্ষোভের সূত্রপাত হতে পারে। কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে শিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী ও শাশুড়িকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই রাত্রির মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর পালিয়ে না গিয়ে শিপন নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। শিপনের বাড়ি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটটি তালা দেওয়া। পাশের ফ্ল্যাটের ফিরোজা বেগম নামে এক নারী বলেন, তারা কিছুই টের পাননি। তবে ঘটনার জানাজানি হলে, পুলিশ আসলে তারা জানতে পারেন বাড়িতে খুন হয়েছেন। মো. ফারুক বলেন, সকালে ফোনে তিনি জানতে পারেন, কাঁঠালবাগানের বাসায় তার মেয়ের স্বামী শিপনের সঙ্গে মা-মেয়ের ঝগড়া হচ্ছে। খবর পেয়ে বাসায় এসে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখেন। তখনো ফিরোজা বেগম জীবিত ছিলেন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফারুক আরও জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার বাদগাঁও গ্রামে। প্রায় ১০ দিন আগে মা-মেয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। গত শুক্রবার এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে শিপনও সেখানে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে যান। বন্ধুদের নিয়ে পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিয়ের দিন সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে শিপন অনুষ্ঠান শেষ না করেই ঢাকায় ফিরে আসেন। শনিবার রাতে মা-মেয়ে ঢাকায় ফেরেন। রোববার সকালে সেই বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, একপর্যায়ে শিপন ফারজানাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ফিরোজা বেগমকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। স্ত্রী-শাশুড়িকে ছুরিকাঘাত করতে দেখে ভয়ে আমার ৮ বছর বয়সি ছেলে পালিয়ে না গেলে তাকেও হত্যা করত। পরে তাদের এক বছর বয়সি ছেলে রায়হানকে নিয়ে শিপন চলে যান। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিপন দাবি করেছেন, রাত্রির সঙ্গে তার আইনগতভাবে বিচ্ছেদ হয়েছিল। বিচ্ছেদের পরও তারা একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ফিরোজা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার কারণ ও পারিবারিক বিরোধের প্রকৃতি খতিয়ে দেখছে কলাবাগান থানা-পুলিশ। গতকাল বিকেলেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ফারুক হোসেন নিহতদের লাশ বুঝে নেন। অভিযুক্ত শিপন তার মেয়ে ফারজানা আক্তার রাত্রির স্বামী। তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়েছিল। আবার একসঙ্গে সংসার শুরু করে তারা। রাত্রির চাচাতো বোন সুমাইয়া বলেন, প্রেমের সম্পর্কে রাত্রির বিয়ে হলেও তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। আগে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হলেও পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে আবার একসঙ্গে সংসার শুরু করেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

কলাবাগানে স্ত্রী-শাশুড়িকে খুন করে থানায় হাজির জামাই

Update Time : 02:31:45 am, Monday, 3 August 2026

রাজধানীর কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত মো. শিপন ওরফে হৃদয় নিজেই কলাবাগান থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে কাঁঠালবাগান আল আমিন মসজিদ-সংলগ্ন ৫২/২ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন ফারজানা আক্তার রাত্রি (২১) ও তার মা ফিরোজা বেগম (৩৪)। তবে, নিহত ফিরোজার স্বামী ও ফারজানার বাবা মো. ফারুক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পিকঅ্যাপের ড্রাইভার হৃদয় দীর্ঘতিন মাদকাসক্ত। বিয়ের পর থেকে তাকে একাধিকবার ১০-২০ হাজার টাকা করে লোন হিসেবে দিলেও আর ফেরত পেতাম না। বেশ কয়েকদিন ধরে তাকে একটি গাড়ি কিনে দেওয়ার দাবি করে আসছিল। মূলত এটা নিয়েই ক্ষোভের সূত্রপাত হতে পারে। কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে শিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী ও শাশুড়িকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই রাত্রির মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর পালিয়ে না গিয়ে শিপন নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। শিপনের বাড়ি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটটি তালা দেওয়া। পাশের ফ্ল্যাটের ফিরোজা বেগম নামে এক নারী বলেন, তারা কিছুই টের পাননি। তবে ঘটনার জানাজানি হলে, পুলিশ আসলে তারা জানতে পারেন বাড়িতে খুন হয়েছেন। মো. ফারুক বলেন, সকালে ফোনে তিনি জানতে পারেন, কাঁঠালবাগানের বাসায় তার মেয়ের স্বামী শিপনের সঙ্গে মা-মেয়ের ঝগড়া হচ্ছে। খবর পেয়ে বাসায় এসে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখেন। তখনো ফিরোজা বেগম জীবিত ছিলেন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফারুক আরও জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার বাদগাঁও গ্রামে। প্রায় ১০ দিন আগে মা-মেয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। গত শুক্রবার এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে শিপনও সেখানে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে যান। বন্ধুদের নিয়ে পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিয়ের দিন সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে শিপন অনুষ্ঠান শেষ না করেই ঢাকায় ফিরে আসেন। শনিবার রাতে মা-মেয়ে ঢাকায় ফেরেন। রোববার সকালে সেই বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, একপর্যায়ে শিপন ফারজানাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ফিরোজা বেগমকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। স্ত্রী-শাশুড়িকে ছুরিকাঘাত করতে দেখে ভয়ে আমার ৮ বছর বয়সি ছেলে পালিয়ে না গেলে তাকেও হত্যা করত। পরে তাদের এক বছর বয়সি ছেলে রায়হানকে নিয়ে শিপন চলে যান। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিপন দাবি করেছেন, রাত্রির সঙ্গে তার আইনগতভাবে বিচ্ছেদ হয়েছিল। বিচ্ছেদের পরও তারা একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ফিরোজা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার কারণ ও পারিবারিক বিরোধের প্রকৃতি খতিয়ে দেখছে কলাবাগান থানা-পুলিশ। গতকাল বিকেলেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ফারুক হোসেন নিহতদের লাশ বুঝে নেন। অভিযুক্ত শিপন তার মেয়ে ফারজানা আক্তার রাত্রির স্বামী। তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়েছিল। আবার একসঙ্গে সংসার শুরু করে তারা। রাত্রির চাচাতো বোন সুমাইয়া বলেন, প্রেমের সম্পর্কে রাত্রির বিয়ে হলেও তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। আগে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হলেও পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে আবার একসঙ্গে সংসার শুরু করেন তারা।