4:35 pm, Saturday, 1 August 2026

এনসিপির ‘জুলাই জাগরণ’ পথসভায় সরকারের সমালোচনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:25:52 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সিলেটের জৈন্তাপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই জাগরণী পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার হরিপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পার্শ্ববর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় সমাবেশ শেষ হতে দেরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের জৈন্তাপুরে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সমাবেশ শুরু হয়। তবে সমাবেশ শুরুর আগেই বিকেল থেকে এনসিপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হরিপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। জৈন্তাপুর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক জাকারিয়া লাদেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও যুগ্ম সদস্য সচিব। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিলেট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জুনায়েদ আহমদ, প্রকৌশলী কামরুল আরিফসহ স্থানীয় এনসিপি ও ছাত্র এবং যুবশক্তির নেতাকর্মীরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সংসদে বাংলাদেশে একটি সংস্কার প্রস্তাবনা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে হিন্দু-মুসলিম, আলেমরা ও নারী সমাজ ভালো থাকবে। কর্মসংস্থান হবে, উন্নয়ন হবে। পুলিশ প্রশাসনও ভালো থাকবে।’ জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘গত ২৪-এর জুলাই মাসে আমরা রাজপথে ছিলাম। কেউ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, আবার অনেকে বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। সেই জুলাই মাসে অনেকে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমরা তখন দাবি করেছিলাম, আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে ১৮ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা বলেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশে নারীরা নিরাপদ নয়—এমন পরিস্থিতি আর থাকবে না। আলেমদের জঙ্গি তকমা দেওয়া হতো, ছাত্রদের রাজাকার বলা হতো। আমরা বাংলাদেশে আর কোনো জঙ্গি বা রাজাকার তকমা চাই না।’ আবু সাঈদের প্রসঙ্গ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আবু সাঈদ গুলির মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে যারা মাঠে গিয়েছিলেন, তাদের অনেকে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমরা জুলাইয়ের অস্তিত্ব আজীবন বাংলাদেশে রাখব।’ বর্তমান সরকার ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের পূর্বে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি আজ বিফলে গেছে। কোনো প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নারীদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং আলেমদের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, আমরা আবার তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি। আমরা যখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি, তারা তখন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘এ দেশে কোনো জিয়া ব্যবসা চলবে না এবং কোনো কোটা প্রথা থাকবে না।’ সিলেটবাসীর ঐতিহ্য ও আত্মমর্যাদার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘সিলেটবাসী হলেন শাহজালালের বংশধর। এই শাহজালাল বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আপনাদের রক্ত এখনো সেই টগবগে তরুণদের মতো।’ তিনি সিলেটবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের একটা দাওয়াত দিয়ে যাই—যদি মেরে ফেলে, জানাজায় উপস্থিত হয়েন অন্তত।’ জৈন্তাপুরের উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ‘জৈন্তাপুরে গ্যাসে ভাসে, কিন্তু কী আজব ব্যাপার—জৈন্তাপুরে মানুষের ঘরে ঘরে গ্যাস নেই।’ উপজেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার সমালোচনা করে তিনি দ্রুত সিলেটের রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেন। বিএনপির উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, ‘আপনারা ২১২টি সিট পেয়ে নিজেদের ক্ষমতার অধিকারী মনে করবেন না। শেখ হাসিনাও ১৫ বছর ধরে এর চেয়ে বেশি সিট পেয়েছিলেন। নিজেকে ফেরাউনের চেয়ে শক্তিশালী মনে করতেন, কিন্তু ৩৬ দিনও টিকতে পারেননি।’ সমাবেশ শেষে জৈন্তাপুর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক ও সমাবেশের সভাপতি জাকারিয়া লাদেন কর্মসূচি সফল করতে উপস্থিত হওয়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও সহযোগিতায় আজকের জুলাই জাগরণ কর্মসূচি সফল হয়েছে। এ জন্য জৈন্তাপুর উপজেলা এনসিপির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

‘দৈনিক জালালাবাদ কোনো দলের নয়, জনগণের মুখপাত্র হিসেবে নীতির প্রশ্নে আপসহীন থাকুক’

এনসিপির ‘জুলাই জাগরণ’ পথসভায় সরকারের সমালোচনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

Update Time : 03:25:52 pm, Saturday, 1 August 2026

সিলেটের জৈন্তাপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই জাগরণী পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার হরিপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পার্শ্ববর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় সমাবেশ শেষ হতে দেরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের জৈন্তাপুরে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সমাবেশ শুরু হয়। তবে সমাবেশ শুরুর আগেই বিকেল থেকে এনসিপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হরিপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। জৈন্তাপুর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক জাকারিয়া লাদেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও যুগ্ম সদস্য সচিব। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিলেট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জুনায়েদ আহমদ, প্রকৌশলী কামরুল আরিফসহ স্থানীয় এনসিপি ও ছাত্র এবং যুবশক্তির নেতাকর্মীরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সংসদে বাংলাদেশে একটি সংস্কার প্রস্তাবনা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে হিন্দু-মুসলিম, আলেমরা ও নারী সমাজ ভালো থাকবে। কর্মসংস্থান হবে, উন্নয়ন হবে। পুলিশ প্রশাসনও ভালো থাকবে।’ জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘গত ২৪-এর জুলাই মাসে আমরা রাজপথে ছিলাম। কেউ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, আবার অনেকে বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। সেই জুলাই মাসে অনেকে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমরা তখন দাবি করেছিলাম, আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে ১৮ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা বলেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশে নারীরা নিরাপদ নয়—এমন পরিস্থিতি আর থাকবে না। আলেমদের জঙ্গি তকমা দেওয়া হতো, ছাত্রদের রাজাকার বলা হতো। আমরা বাংলাদেশে আর কোনো জঙ্গি বা রাজাকার তকমা চাই না।’ আবু সাঈদের প্রসঙ্গ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আবু সাঈদ গুলির মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে যারা মাঠে গিয়েছিলেন, তাদের অনেকে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমরা জুলাইয়ের অস্তিত্ব আজীবন বাংলাদেশে রাখব।’ বর্তমান সরকার ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের পূর্বে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি আজ বিফলে গেছে। কোনো প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নারীদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং আলেমদের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, আমরা আবার তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি। আমরা যখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি, তারা তখন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘এ দেশে কোনো জিয়া ব্যবসা চলবে না এবং কোনো কোটা প্রথা থাকবে না।’ সিলেটবাসীর ঐতিহ্য ও আত্মমর্যাদার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘সিলেটবাসী হলেন শাহজালালের বংশধর। এই শাহজালাল বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আপনাদের রক্ত এখনো সেই টগবগে তরুণদের মতো।’ তিনি সিলেটবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের একটা দাওয়াত দিয়ে যাই—যদি মেরে ফেলে, জানাজায় উপস্থিত হয়েন অন্তত।’ জৈন্তাপুরের উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ‘জৈন্তাপুরে গ্যাসে ভাসে, কিন্তু কী আজব ব্যাপার—জৈন্তাপুরে মানুষের ঘরে ঘরে গ্যাস নেই।’ উপজেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার সমালোচনা করে তিনি দ্রুত সিলেটের রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেন। বিএনপির উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, ‘আপনারা ২১২টি সিট পেয়ে নিজেদের ক্ষমতার অধিকারী মনে করবেন না। শেখ হাসিনাও ১৫ বছর ধরে এর চেয়ে বেশি সিট পেয়েছিলেন। নিজেকে ফেরাউনের চেয়ে শক্তিশালী মনে করতেন, কিন্তু ৩৬ দিনও টিকতে পারেননি।’ সমাবেশ শেষে জৈন্তাপুর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক ও সমাবেশের সভাপতি জাকারিয়া লাদেন কর্মসূচি সফল করতে উপস্থিত হওয়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও সহযোগিতায় আজকের জুলাই জাগরণ কর্মসূচি সফল হয়েছে। এ জন্য জৈন্তাপুর উপজেলা এনসিপির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’