5:12 am, Saturday, 1 August 2026

পাকিস্তানে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, মৃত্যু বেড়ে ৩৪

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:11:29 am, Saturday, 1 August 2026
  • 5
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লা খনিতে জমে থাকা মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার শহরতলিতে গত বৃহস্পতিবারের ওই দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রথমে ৭ জন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ধসেপড়া অংশ থেকে আরও ২৭ জনের লাশ বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) ও জেলা প্রশাসন জানায়, খনির গভীরে এখনো কয়েকজন শ্রমিক আটকে আছেন এবং তাদের বের করে আনতে উদ্ধার অভিযান চলছে। সরকারি খনি পরিদর্শক গনি বালুচ বলছেন, উদ্ধার কাজ অব্যাহত থাকলেও আটকে থাকা শ্রমিকদের কারো জীবিত ফেরার আশা নেই বললেই চলে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গনি বালুচ বলেন, ‘মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা শূন্যে নেমে আসে। ফলে কাউকেই জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তাই উদ্ধারকর্মীদেরও খনির ভেতর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে।’ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। অন্যদিকে খনির বাইরে নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবার গভীর উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছে। বালুচিস্তানের খনি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী শোয়েব নোশেরওয়ানি জানান, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং খনিগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। এদিকে খনি শ্রমিকদের সংগঠন ‘পাকিস্তান সেন্ট্রাল মাইনস লেবার ফেডারেশন’ এই দুর্ঘটনার জন্য খনি মালিকদের অবহেলাকে দায়ী করেছে। তারা নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং দায়ী কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কিন্তু সবচেয়ে অনগ্রসর প্রদেশ বেলুচিস্তানের কয়লা খনিগুলোতে পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল ব্যবস্থা ও আধুনিক গ্যাস পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি না থাকায় মাঝেমধ্যেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। তীব্র দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে চরম ঝুঁকি জেনেও হাজার হাজার মানুষ এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

পাকিস্তানে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, মৃত্যু বেড়ে ৩৪

Update Time : 04:11:29 am, Saturday, 1 August 2026

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লা খনিতে জমে থাকা মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার শহরতলিতে গত বৃহস্পতিবারের ওই দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রথমে ৭ জন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ধসেপড়া অংশ থেকে আরও ২৭ জনের লাশ বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) ও জেলা প্রশাসন জানায়, খনির গভীরে এখনো কয়েকজন শ্রমিক আটকে আছেন এবং তাদের বের করে আনতে উদ্ধার অভিযান চলছে। সরকারি খনি পরিদর্শক গনি বালুচ বলছেন, উদ্ধার কাজ অব্যাহত থাকলেও আটকে থাকা শ্রমিকদের কারো জীবিত ফেরার আশা নেই বললেই চলে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গনি বালুচ বলেন, ‘মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা শূন্যে নেমে আসে। ফলে কাউকেই জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তাই উদ্ধারকর্মীদেরও খনির ভেতর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে।’ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। অন্যদিকে খনির বাইরে নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবার গভীর উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছে। বালুচিস্তানের খনি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী শোয়েব নোশেরওয়ানি জানান, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং খনিগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। এদিকে খনি শ্রমিকদের সংগঠন ‘পাকিস্তান সেন্ট্রাল মাইনস লেবার ফেডারেশন’ এই দুর্ঘটনার জন্য খনি মালিকদের অবহেলাকে দায়ী করেছে। তারা নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং দায়ী কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কিন্তু সবচেয়ে অনগ্রসর প্রদেশ বেলুচিস্তানের কয়লা খনিগুলোতে পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল ব্যবস্থা ও আধুনিক গ্যাস পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি না থাকায় মাঝেমধ্যেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। তীব্র দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে চরম ঝুঁকি জেনেও হাজার হাজার মানুষ এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হন।