4:37 am, Saturday, 1 August 2026

সৌদির সামুদ্রিক জোটে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:33:15 am, Saturday, 1 August 2026
  • 1
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশকে নিয়ে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। গত বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এই মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স (এমএমডিএ) গঠন করা হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট সুরক্ষায় একযোগে কাজ করবে। ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা এই সামুদ্রিক করিডর বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জোটের সদস্য দেশগুলো হলো সৌদি আরব, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কтар, জর্ডান, মিসর, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর হয়ে চলাচলকারী সৌদি জ্বালানিবাহী জাহাজে অবরোধ আরোপ এবং একাধিক হামলার ঘোষণা দেয়। এর জবাবে সৌদি আরবও হুতিদের অবস্থান লক্ষ করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্টি হওয়া সংকট বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এমন প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরব এই নতুন সামুদ্রিক জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব। তাই আন্তর্দেশীয় সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য ও পরিকল্পনা বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রয়োজনীয় সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে সদস্য দেশগুলো কী ধরনের যুদ্ধজাহাজ, টহলজাহাজ বা বিমান দিয়ে এই জোটে অবদান রাখবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। এ জোট গঠনের বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলও বৈঠকে উপস্থিত ছিল। যদিও লোহিত সাগরে আগে থেকেই ইইউর অ্যাসপাইডস নামে একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন পরিচালিত হচ্ছে, তবে নতুন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সেই মিশনের সমন্বয় বা পার্থক্য সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান এই জোটে স্বাক্ষর করেনি। তবে সৌদি আরব জানিয়েছে, অন্যান্য দেশ নিজ নিজ জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ভবিষ্যতে জোটের সনদে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই সামুদ্রিক জোট সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে এটি গঠন করা হয়নি। সৌদি আরবকে জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সদর দপ্তরের স্বাগতিক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও সদর দপ্তরের নির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই সংকীর্ণ জলপথে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, পণ্য সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন জোটকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

সৌদির সামুদ্রিক জোটে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ

Update Time : 03:33:15 am, Saturday, 1 August 2026

লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশকে নিয়ে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। গত বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এই মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স (এমএমডিএ) গঠন করা হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট সুরক্ষায় একযোগে কাজ করবে। ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা এই সামুদ্রিক করিডর বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জোটের সদস্য দেশগুলো হলো সৌদি আরব, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কтар, জর্ডান, মিসর, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর হয়ে চলাচলকারী সৌদি জ্বালানিবাহী জাহাজে অবরোধ আরোপ এবং একাধিক হামলার ঘোষণা দেয়। এর জবাবে সৌদি আরবও হুতিদের অবস্থান লক্ষ করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্টি হওয়া সংকট বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এমন প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরব এই নতুন সামুদ্রিক জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব। তাই আন্তর্দেশীয় সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য ও পরিকল্পনা বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রয়োজনীয় সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে সদস্য দেশগুলো কী ধরনের যুদ্ধজাহাজ, টহলজাহাজ বা বিমান দিয়ে এই জোটে অবদান রাখবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। এ জোট গঠনের বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলও বৈঠকে উপস্থিত ছিল। যদিও লোহিত সাগরে আগে থেকেই ইইউর অ্যাসপাইডস নামে একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন পরিচালিত হচ্ছে, তবে নতুন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সেই মিশনের সমন্বয় বা পার্থক্য সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান এই জোটে স্বাক্ষর করেনি। তবে সৌদি আরব জানিয়েছে, অন্যান্য দেশ নিজ নিজ জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ভবিষ্যতে জোটের সনদে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই সামুদ্রিক জোট সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে এটি গঠন করা হয়নি। সৌদি আরবকে জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সদর দপ্তরের স্বাগতিক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও সদর দপ্তরের নির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই সংকীর্ণ জলপথে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, পণ্য সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন জোটকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।