4:46 pm, Saturday, 1 August 2026

পরিচয় মিলেছে সিডনির অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের তিনজনের

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:36:44 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ওয়াইলি পার্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত আরও জোরদার করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন চীনা বংশোদ্ভূত ৫২ বছর বয়সী ইউ ইউন থমাস ঝং, তার ৪৩ বছর বয়সী স্ত্রী কাইচান ঝাও এবং তাদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে স্যামুয়েল ঝং। পরিবারটি সিডনির ওয়াইলি পার্কের কর্নেলিয়া স্ট্রিটের একটি বাড়ির পেছনের গ্র্যানি ফ্ল্যাটে বসবাস করত। সামনের মূল বাড়িতে থাকতেন কিশোর স্যামুয়েলের বৃদ্ধ দাদি, যিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কেউ ভেতরে প্রবেশ করে আটকে পড়া তিনজনকে উদ্ধার করতে পারেননি। একপর্যায়ে নিহত ইউ ইউন থমাস ঝংয়ের বৃদ্ধ মা আগুনের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা তাকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। নিউ সাউথ ওয়েলস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের কমিশনার জেরেমি ফিউট্রেল ঘটনাটিকে একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, গ্র্যানি ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর পথ ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং দমকলকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই আগুন পুরো স্থাপনাটি গ্রাস করেছিল। জানালা ও অন্যান্য খোলা অংশ দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা বের হচ্ছিল। ঘটনার তদন্তে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, অগ্নিকাণ্ড তদন্ত বিশেষজ্ঞ এবং স্টেট ক্রাইম কমান্ডের অগ্নিসংযোগ তদন্ত দল যৌথভাবে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বাংলাদেশি কমিউনিটি অধ্যুষিত ওয়াইলি পার্কের এই অগ্নিকাণ্ড এখন শুধু একটি দুর্ঘটনার ঘটনা নয়, বরং একটি পরিবারের আকস্মিক সমাপ্তির বেদনাদায়ক স্মারক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শান্ত-স্বভাবের এবং সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা পরিবারটির এমন করুণ পরিণতি তারা কখনো কল্পনাও করেননি। কীভাবে এক রাতেই নিভে গেল তিনটি প্রাণ—তার উত্তর খুঁজতে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাতে সিডনির ওয়াইলি পার্কের কর্নেলিয়া স্ট্রিটের একটি বাড়ির পেছনের গ্র্যানি ফ্ল্যাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর সেখান থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলকে অপরাধস্থল ঘোষণা করে তদন্ত শুরু করে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

পরিচয় মিলেছে সিডনির অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের তিনজনের

Update Time : 03:36:44 pm, Saturday, 1 August 2026

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ওয়াইলি পার্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত আরও জোরদার করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন চীনা বংশোদ্ভূত ৫২ বছর বয়সী ইউ ইউন থমাস ঝং, তার ৪৩ বছর বয়সী স্ত্রী কাইচান ঝাও এবং তাদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে স্যামুয়েল ঝং। পরিবারটি সিডনির ওয়াইলি পার্কের কর্নেলিয়া স্ট্রিটের একটি বাড়ির পেছনের গ্র্যানি ফ্ল্যাটে বসবাস করত। সামনের মূল বাড়িতে থাকতেন কিশোর স্যামুয়েলের বৃদ্ধ দাদি, যিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কেউ ভেতরে প্রবেশ করে আটকে পড়া তিনজনকে উদ্ধার করতে পারেননি। একপর্যায়ে নিহত ইউ ইউন থমাস ঝংয়ের বৃদ্ধ মা আগুনের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা তাকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। নিউ সাউথ ওয়েলস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের কমিশনার জেরেমি ফিউট্রেল ঘটনাটিকে একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, গ্র্যানি ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর পথ ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং দমকলকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই আগুন পুরো স্থাপনাটি গ্রাস করেছিল। জানালা ও অন্যান্য খোলা অংশ দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা বের হচ্ছিল। ঘটনার তদন্তে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, অগ্নিকাণ্ড তদন্ত বিশেষজ্ঞ এবং স্টেট ক্রাইম কমান্ডের অগ্নিসংযোগ তদন্ত দল যৌথভাবে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বাংলাদেশি কমিউনিটি অধ্যুষিত ওয়াইলি পার্কের এই অগ্নিকাণ্ড এখন শুধু একটি দুর্ঘটনার ঘটনা নয়, বরং একটি পরিবারের আকস্মিক সমাপ্তির বেদনাদায়ক স্মারক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শান্ত-স্বভাবের এবং সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা পরিবারটির এমন করুণ পরিণতি তারা কখনো কল্পনাও করেননি। কীভাবে এক রাতেই নিভে গেল তিনটি প্রাণ—তার উত্তর খুঁজতে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাতে সিডনির ওয়াইলি পার্কের কর্নেলিয়া স্ট্রিটের একটি বাড়ির পেছনের গ্র্যানি ফ্ল্যাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর সেখান থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলকে অপরাধস্থল ঘোষণা করে তদন্ত শুরু করে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ।