আজ শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬১%

তুরাগ নদী থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার, কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত সংস্থা

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:36:35 pm, Thursday, 29 October 2026
  • 26

তুরাগ নদী থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার, কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত সংস্থা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর তুরাগ নদীর একটি ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (তাওসিফ সৌরি) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। উদ্ধারকৃত মরদেহের শরীরে কোনো ধরনের দৃশ্যমান বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। রহস্য উদঘাটনে নৌ পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির সংশ্লিষ্ট টিম তদন্ত শুরু করেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, মরদেহের অবস্থান ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন না থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না, বিভিন্ন সম্ভাবনা সামনে রেখে তদন্ত চলছে। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই বিমান কর্মকর্তা মাঝেমধ্যে তুরাগ নদীর ওই ঘাট এলাকায় ঘুরতে যেতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ছোট নৌকায় নদী পারাপারের জন্য ঘাটটি ব্যবহার করেন।

ঘটনার দিনও তিনি উত্তরার বাসা থেকে বের হয়ে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম যায়। ফরেনসিক ভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি পিবিআইও তদন্তে যুক্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, মরদেহের অবস্থান এবং পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

ঢাকা অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ্ আল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কিছু নেই, যেটি দেখে মৃত্যুর কারণ বলা যায়। বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাও তদন্তে বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। ’ তিনি বলেন, নৌ পুলিশের পাশাপাশি একাধিক সংস্থা নিজেদের মতো করে তথ্য সংগ্রহ করছে।

এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরিবারের অভিযোগের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন ওই সাবেক কর্মকর্তা এক জুনিয়র বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করার পর নদীর ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন।

তদন্তে তার সঙ্গে সর্বশেষ বাইরে বের হওয়া ব্যক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিন তারা কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং এরপর কী ঘটেছিল, এসব তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। পুলিশ সূত্র আরও জানায়, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর ওই কর্মকর্তা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত কর্মকর্তাকে ঘিরে পুরোনো একটি ভিডিও সামনে এনে বিভিন্ন বক্তব্যও দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব তথ্যের অনেকটাই যাচাই করা হয়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো দাবি বা গুজবের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ কিংবা কারও সম্পৃক্ততা নির্ধারণ করা যাবে না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘নিহতের বাবা এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। তারা যদি হত্যার অভিযোগ না করেন, সে ক্ষেত্রে ইউডি মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়াও ঘটনা আপাতত নৌ পুলিশের তদন্তে রয়েছে। নৌ পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস, সন্ধ্যার মধ্যে ভিজতে পারে ঢাকা

তুরাগ নদী থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার, কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত সংস্থা

Update Time : 01:36:35 pm, Thursday, 29 October 2026

রাজধানীর তুরাগ নদীর একটি ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (তাওসিফ সৌরি) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। উদ্ধারকৃত মরদেহের শরীরে কোনো ধরনের দৃশ্যমান বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। রহস্য উদঘাটনে নৌ পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির সংশ্লিষ্ট টিম তদন্ত শুরু করেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, মরদেহের অবস্থান ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন না থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না, বিভিন্ন সম্ভাবনা সামনে রেখে তদন্ত চলছে। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই বিমান কর্মকর্তা মাঝেমধ্যে তুরাগ নদীর ওই ঘাট এলাকায় ঘুরতে যেতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ছোট নৌকায় নদী পারাপারের জন্য ঘাটটি ব্যবহার করেন।

ঘটনার দিনও তিনি উত্তরার বাসা থেকে বের হয়ে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম যায়। ফরেনসিক ভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি পিবিআইও তদন্তে যুক্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, মরদেহের অবস্থান এবং পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

ঢাকা অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ্ আল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কিছু নেই, যেটি দেখে মৃত্যুর কারণ বলা যায়। বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাও তদন্তে বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। ’ তিনি বলেন, নৌ পুলিশের পাশাপাশি একাধিক সংস্থা নিজেদের মতো করে তথ্য সংগ্রহ করছে।

এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরিবারের অভিযোগের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন ওই সাবেক কর্মকর্তা এক জুনিয়র বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করার পর নদীর ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন।

তদন্তে তার সঙ্গে সর্বশেষ বাইরে বের হওয়া ব্যক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিন তারা কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং এরপর কী ঘটেছিল, এসব তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। পুলিশ সূত্র আরও জানায়, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর ওই কর্মকর্তা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত কর্মকর্তাকে ঘিরে পুরোনো একটি ভিডিও সামনে এনে বিভিন্ন বক্তব্যও দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব তথ্যের অনেকটাই যাচাই করা হয়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো দাবি বা গুজবের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ কিংবা কারও সম্পৃক্ততা নির্ধারণ করা যাবে না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘নিহতের বাবা এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। তারা যদি হত্যার অভিযোগ না করেন, সে ক্ষেত্রে ইউডি মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়াও ঘটনা আপাতত নৌ পুলিশের তদন্তে রয়েছে। নৌ পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।