লালমনিরহাটে পৃথক দুটি হত্যা মামলায় আদালতের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এই রায় ঘোষণা করেন।
একই দিন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম অপর এক মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন। অর্থ অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। আদালত সূত্র জানায়, লালমনিরহাটের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় আসামি মো. আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আতিকুল ইসলাম লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাপারপাড়া মুন্সিটারী গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। আইনি বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে তার এই সাজা কার্যকর করা হবে।
অপরদিকে, স্ত্রীকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার মামলায় আসামি মো. দুলাল হোসেনকে (৪০) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম। দণ্ডপ্রাপ্ত দুলাল হোসেন পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের মোগলীবাড়ী (৮ নম্বর ওয়ার্ড) গ্রামের মৃত ওসমান আলীর ছেলে।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, ৩০২ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও তার প্রথম অপরাধ, বয়সের বিষয়, পারিবারিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, ঘটনার সময়কার তাৎক্ষণিক উত্তেজনা এবং অনুশোচনা বিবেচনা করে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহ ও সন্দেহের জেরে পাটগ্রামের মোগলীবাড়ী গ্রামে স্ত্রী মোছা. সাহিদা বেগমকে (৩৮) বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন স্বামী দুলাল হোসেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের ভাই মো. আশরাফ বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
লালমনিরহাট জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার সময় উভয় আদালতের আসামিরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ বিচারিক কাজ শেষে বিজ্ঞ আদালত দুই মামলায় দুই আসামীর বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছেন তাতে বাদীপক্ষ, রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ পেয়েছেন। এমন সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এমন রায়ের কারণে সমাজে প্রভাব পড়বে এবং অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে।






















