আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮১%

চিনিশিল্পে লোকসানের বৃত্ত: প্রশ্ন উঠছে ব্যবস্থাপনায়

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:11:17 pm, Saturday, 10 October 2026
  • 17
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

একদিকে রাষ্ট্রীয় চিনিকলের একের পর এক লোকসান, অন্যদিকে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের বিশাল ব্যবধান। কোথাও বছরের পর বছর চুল্লি বন্ধ, কোথাও উৎপাদন চলছে সক্ষমতার অনেক নিচে। পুরোনো যন্ত্রপাতি, আখের সংকট, ঋণের সুদ, শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যয়, সব মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় চিনিশিল্প যেন আটকে গেছে লোকসানের এক বৃত্তে।

সেই বৃত্ত ভাঙতে আধুনিকায়নের কথা হচ্ছে, বেসরকারি-বিদেশি বিনিয়োগের কথা হচ্ছে, ডিজিটাল আখ সংগ্রহের কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু মূল প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, যে ব্যবস্থাপনায় বছরের পর বছর লোকসান ঠেকানো যাচ্ছে না, সেই ব্যবস্থাপনার জবাবদিহি কোথায়? আর এসবের সাথে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য আর সরঞ্জাম কেনায় স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সবার আগে জানতে হবে, কেন এমনটা হচ্ছে, জানা দরকার কোথায় যাচ্ছে টাকা। খুঁজে বের করতে হবে, কোন সিদ্ধান্তে বাড়ছে ব্যয় এবং লোকসানের এই দীর্ঘ চক্রে দায় কার? আরও খুঁজতে হবে, গুটিকয়েক কর্মকর্তার এই স্বেচ্ছাচারিতার নেপথ্য শক্তি কি? এগুলো খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নিলেই কেবল লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে এই শিল্পকে।

বিএসএফআইসি’র সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক চিত্র এসব প্রশ্ন আরও সামনে এনেছে। ওই অর্থবছরে করপোরেশনের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর-পরবর্তী মোট নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। একই সময়ে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ২২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। বিপরীতে ব্যয় ১ হাজার ৫৭৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ১৫টি রাষ্ট্রীয় চিনিকলের মধ্যে একমাত্র কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে লাভজনক দেখা গেলেও সেই লাভ চিনি উৎপাদন থেকে আসেনি।

গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ১৬৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অথচ চিনি উৎপাদন ইউনিটেই লোকসান হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। ডিস্টিলারি, অ্যালকোহল ও অন্যান্য উপজাত পণ্যের ব্যবসার আয় দিয়ে সেই লোকসান সমন্বয় হয়েছে। ফলে মূল ব্যবসা চিনি উৎপাদন, কতটা টেকসই, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেরুকে বাদ দিলে বাকি চিনিকলগুলো সরাসরি লোকসানে। বন্ধ চিনিকলগুলোতে রাজস্ব আয় না থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও ঋণের সুদের কারণে ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ।

২০২০ সাল থেকে পাবনা, কুষ্টিয়া, রংপুর, পঞ্চগড়, শ্যামপুর ও সেতাবগঞ্জ চিনিকলে উৎপাদন বন্ধ। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের জনবল ও অন্যান্য ব্যয়ের বোঝা পুরোপুরি শেষ হয়নি। চিনিকল সংস্থার সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খুরশিদ আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, লোকসানের সবচেয়ে বড় চিত্রটি পাওয়া যায় উৎপাদন ব্যয়ে। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় চিনিকলে এক কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ২৩৭ টাকা।

সেই চিনি বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ১২৫ টাকা দামে। অর্থাৎ প্রতি কেজি চিনিতে লোকসান প্রায় ১১২ টাকা। এই ব্যবধান শুধু বাজার পরিস্থিতির কারণে তৈরি হচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা, দুর্নীতি, কম উৎপাদনশীলতা, পুরোনো প্রযুক্তি, কাঁচামালের সংকট, শ্রম ও প্রশাসনিক ব্যয় এবং ঋণের সুদ। উৎপাদনের পরিমাণ কমে গেলে একটি চিনিকলের স্থায়ী ব্যয় কমে না।

ফলে কম পরিমাণ চিনির ওপরই বেশি ব্যয় চাপ পড়ে। বাড়তে থাকে উৎপাদন খরচ। খুরশিদ আলম আরও বলেন, এসব সমস্যার সাথে আরও যোগ হয়েছে ঋণের বোঝা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এক বছরেই বিএসএফআইসিকে ঋণের সুদ বাবদ দিতে হয়েছে ৪৩৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ চিনি উৎপাদন করে যে অর্থ আয় হওয়ার কথা, তার বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে পুরোনো ঋণের সুদ পরিশোধে। এভাবে তৈরি হচ্ছে একটি ভয়াবহ আর্থিক চক্র।

কম উৎপাদন, বেশি ইউনিট খরচ, লোকসান, নগদ অর্থের সংকট, ঋণ এবং সেই ঋণের সুদ, এরপর আবার নতুন করে লোকসান। চিনিকল সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, আরেকটি বড় দুর্বলতা উৎপাদন প্রযুক্তি। পুরোনো ও জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতির কারণে আখ থেকে চিনি আহরণের হারও কম। দেশে আখ থেকে চিনি আহরণের গড় হার প্রায় ৬ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ কেজি আখে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬ কেজি চিনি।

অন্যদিকে ব্রাজিল বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে এই হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত। একই পরিমাণ আখ থেকে যদি আধুনিক কারখানায় প্রায় দ্বিগুণ চিনি পাওয়া যায়, তাহলে পুরোনো প্রযুক্তিতে রাষ্ট্রীয় চিনিকলের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কতটা কঠিন, তা সহজেই বোঝা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধু যন্ত্রপাতি পুরোনো বলেই উৎপাদন কম নয়। কারখানায় আখের সরবরাহও পর্যাপ্ত নয়।

সময়মতো আখচাষির মূল্য পরিশোধ না করা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বিকল্প বাজারে বেশি দাম পাওয়ার সুযোগ— সব মিলিয়ে অনেক কৃষক সরকারি চিনিকলে আখ দিতে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে কারখানার উৎপাদনক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। কারখানা যত কম দিন চলে, স্থায়ী ব্যয় তত বেশি হয়ে পড়ে। কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক খরচ চলতেই থাকে।

কিন্তু উৎপাদিত চিনির পরিমাণ কমে যাওয়ায় সেই ব্যয় পণ্যের ওপর বেশি করে চাপ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসানের আরেকটি জায়গা বাজারজাতকরণ। উৎপাদিত চিনি সময়মতো বিক্রি না হলে গুদামে পড়ে থাকে। পণ্যের বিপরীতে যে অর্থ প্রতিষ্ঠানের হাতে ফেরার কথা, তা আটকে যায়। এরপর নতুন মৌসুমে আখ কেনার জন্য নগদ অর্থের প্রয়োজন দেখা দিলে তৈরি হয় নতুন সংকট।

ফলে শুধু উৎপাদন করলেই হবে না; উৎপাদিত চিনি দ্রুত ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বাজারজাত করাও জরুরি। রাষ্ট্রীয় চিনিকলের ক্ষেত্রে উৎপাদন থেকে বিক্রি পর্যন্ত পুরো শৃঙ্খলটিই তাই নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে। করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, শিল্পের লোকসানের কারণ হিসেবে পুরোনো প্রযুক্তি, আখের সংকট বা ঋণের সুদের কথা বলা হলেও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড— নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, ক্রয় ও ঠিকাদারি প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এটা ভাবার সময় এসেছে, একটি প্রতিষ্ঠান যখন বছরের পর বছর শত শত কোটি টাকা লোকসান করে, তখন তার প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বা কমন সার্ভিসের আওতায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠলে তা খতিয়ে দেখা দরকার— চাহিদা কীভাবে নির্ধারণ হয়েছে, প্রাক্কলন কে করেছেন, দরপত্রে কারা অংশ নিয়েছেন, কারিগরি মূল্যায়ন কীভাবে হয়েছে, কার্যাদেশ কে দিয়েছেন এবং সরবরাহের মান ও মূল্য যাচাই করা হয়েছে কি না। কারণ লোকসানি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে একটি অপ্রয়োজনীয় বা অতিমূল্যের ক্রয় শুধু একটি কেনাকাটার ঘটনা নয়; শেষ পর্যন্ত এর অর্থের জোগান আসে জনগণের করের টাকা থেকে।

কর্মকর্তারা ক্ষোভের সাথে জানান, বিএসএফআইসির সচিব মুজিবুর রহমানকে ঘিরে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও বিভিন্ন ক্রয় সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সংশ্লিষ্ট মহলে রয়েছে। কিছু অভিযোগে তার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তার সার্বিক যোগ্যতা নিয়ে চিনি কারখানাগুলোতে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তরিক অর্থে তিনি কখনোই চান না এই শিল্প ঘুরে দাঁড়াক বা বন্ধ কারখানাগুলো আবার চালু হোক।

তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ— নিয়োগের নামে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দেদার বাণিজ্য শুরু করেছেন তিনি এবং তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা। ফলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত নথি, কমিটির কার্যবিবরণী, দরপত্র, অনুমোদন ও কার্যাদেশসহ প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র গোপনে পর্যালোচনা জরুরি। একটি রাষ্ট্রীয় করপোরেশনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া যত শক্তিশালী হবে, ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তত কমবে।

বিশেষ করে নিয়োগ ও বড় অঙ্কের ক্রয়ের ক্ষেত্রে কে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন— তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সিদ্ধান্তটি কোন নথির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব স্তরের অনুমোদন ও যাচাই যথাযথভাবে হয়েছে কি না। কর্মকর্তারা আরও বলছেন, চিনিকল আধুনিকায়নের উদ্যোগেও অতীতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চিনিকল আধুনিকায়ন ও বিনিয়োগের লক্ষ্যে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে করা সমঝোতা পরে বাতিল করা হয়।

এই উদ্যোগ ঘিরে মূল প্রশ্ন হচ্ছে— রাষ্ট্রীয় শিল্পের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও বড় বিনিয়োগের প্রকল্পে অংশীদার নির্বাচনের আগে আর্থিক সক্ষমতা, ব্যাবসায়িক রেকর্ড, ঋণ পরিস্থিতি, নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সক্ষমতা কতটা যাচাই করা হয়েছিল। চুক্তি বাতিলের সরকারি আদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথিতে কী কারণ দেখানো হয়েছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ আধুনিকায়নের নামে একটি প্রকল্প নেওয়া এবং পরে তা বাতিল— দুটির আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়ও শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২০ সাল থেকে ছয়টি চিনিকল বন্ধ। উৎপাদন নেই, কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো ও সম্পদ পড়ে আছে। আবার এসব মিল পুনরায় চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে বন্ধ ও লোকসানি চিনিকলকে বেসরকারি বা বিদেশি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আধুনিকায়নের উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে।

একই সঙ্গে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, অ্যালকোহল, জৈব সার, ভিনেগারসহ বিভিন্ন উপজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর কথাও আলোচনায় এসেছে। ডিজিটাল উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শুধু ডিজিটাল পদ্ধতি কিংবা নতুন অংশীদার আনলেই লোকসানের মূল সমস্যা দূর হবে না। চিনিশিল্পের জন্য সবচেয়ে জরুরি প্রতিটি চিনিকলের পৃথক আর্থিক ও কারিগরি মূল্যায়ন।

একটি মিলের ওপর কত টাকা ঋণ, বছরে সুদ কত, কত টন আখ প্রয়োজন, বাস্তবে কত আখ পাওয়া যায়, কত চিনি উৎপাদন হয়, প্রতি কেজির উৎপাদন ব্যয় কত, কত কর্মী আছে, বেতন ও প্রশাসনিক ব্যয় কত, এসব তথ্য এক জায়গায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগ, ক্রয়, আখ সংগ্রহ, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কঠোর জবাবদিহি দরকার। যাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ, তিনি হচ্ছেন বিএসএফআইসি’র সচিব মুজিবুর রহমান।

এ ব্যাপারে তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সব অভিযোগ বানোয়াট, মিথ্য ও ভিত্তিহীন। একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি এই রুগ্ণশিল্পকে উঠে দাঁড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন যাতে বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা যায়। সুদ মওকুফ এবং কমানো নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাংক এবং সরকারের সাথেও তারা কথা বলছেন। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি বন্ধে তিনি বৈঠক করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা এবং সংশোধিত শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা কঠোরভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

দাপ্তরিক কাজের গতিশীলতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন মূল্যায়ন এবং মামলা ব্যবস্থাপনার স্ট্যান্ডার্ড বা মানদণ্ড শতভাগ বজায় রাখার ব্যাপারে তিনি তাগিদ দিয়েছেন, যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

রামুর নীলোৎপল বড়ুয়ার জাতীয় সাফল্য, অর্জন করলেন ডিজিস অ্যাওয়ার্ড

চিনিশিল্পে লোকসানের বৃত্ত: প্রশ্ন উঠছে ব্যবস্থাপনায়

Update Time : 10:11:17 pm, Saturday, 10 October 2026

একদিকে রাষ্ট্রীয় চিনিকলের একের পর এক লোকসান, অন্যদিকে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের বিশাল ব্যবধান। কোথাও বছরের পর বছর চুল্লি বন্ধ, কোথাও উৎপাদন চলছে সক্ষমতার অনেক নিচে। পুরোনো যন্ত্রপাতি, আখের সংকট, ঋণের সুদ, শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যয়, সব মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় চিনিশিল্প যেন আটকে গেছে লোকসানের এক বৃত্তে।

সেই বৃত্ত ভাঙতে আধুনিকায়নের কথা হচ্ছে, বেসরকারি-বিদেশি বিনিয়োগের কথা হচ্ছে, ডিজিটাল আখ সংগ্রহের কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু মূল প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, যে ব্যবস্থাপনায় বছরের পর বছর লোকসান ঠেকানো যাচ্ছে না, সেই ব্যবস্থাপনার জবাবদিহি কোথায়? আর এসবের সাথে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য আর সরঞ্জাম কেনায় স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সবার আগে জানতে হবে, কেন এমনটা হচ্ছে, জানা দরকার কোথায় যাচ্ছে টাকা। খুঁজে বের করতে হবে, কোন সিদ্ধান্তে বাড়ছে ব্যয় এবং লোকসানের এই দীর্ঘ চক্রে দায় কার? আরও খুঁজতে হবে, গুটিকয়েক কর্মকর্তার এই স্বেচ্ছাচারিতার নেপথ্য শক্তি কি? এগুলো খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নিলেই কেবল লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে এই শিল্পকে।

বিএসএফআইসি’র সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক চিত্র এসব প্রশ্ন আরও সামনে এনেছে। ওই অর্থবছরে করপোরেশনের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর-পরবর্তী মোট নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। একই সময়ে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ২২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। বিপরীতে ব্যয় ১ হাজার ৫৭৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ১৫টি রাষ্ট্রীয় চিনিকলের মধ্যে একমাত্র কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে লাভজনক দেখা গেলেও সেই লাভ চিনি উৎপাদন থেকে আসেনি।

গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ১৬৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অথচ চিনি উৎপাদন ইউনিটেই লোকসান হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। ডিস্টিলারি, অ্যালকোহল ও অন্যান্য উপজাত পণ্যের ব্যবসার আয় দিয়ে সেই লোকসান সমন্বয় হয়েছে। ফলে মূল ব্যবসা চিনি উৎপাদন, কতটা টেকসই, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেরুকে বাদ দিলে বাকি চিনিকলগুলো সরাসরি লোকসানে। বন্ধ চিনিকলগুলোতে রাজস্ব আয় না থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও ঋণের সুদের কারণে ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ।

২০২০ সাল থেকে পাবনা, কুষ্টিয়া, রংপুর, পঞ্চগড়, শ্যামপুর ও সেতাবগঞ্জ চিনিকলে উৎপাদন বন্ধ। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের জনবল ও অন্যান্য ব্যয়ের বোঝা পুরোপুরি শেষ হয়নি। চিনিকল সংস্থার সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খুরশিদ আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, লোকসানের সবচেয়ে বড় চিত্রটি পাওয়া যায় উৎপাদন ব্যয়ে। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় চিনিকলে এক কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ২৩৭ টাকা।

সেই চিনি বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ১২৫ টাকা দামে। অর্থাৎ প্রতি কেজি চিনিতে লোকসান প্রায় ১১২ টাকা। এই ব্যবধান শুধু বাজার পরিস্থিতির কারণে তৈরি হচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা, দুর্নীতি, কম উৎপাদনশীলতা, পুরোনো প্রযুক্তি, কাঁচামালের সংকট, শ্রম ও প্রশাসনিক ব্যয় এবং ঋণের সুদ। উৎপাদনের পরিমাণ কমে গেলে একটি চিনিকলের স্থায়ী ব্যয় কমে না।

ফলে কম পরিমাণ চিনির ওপরই বেশি ব্যয় চাপ পড়ে। বাড়তে থাকে উৎপাদন খরচ। খুরশিদ আলম আরও বলেন, এসব সমস্যার সাথে আরও যোগ হয়েছে ঋণের বোঝা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এক বছরেই বিএসএফআইসিকে ঋণের সুদ বাবদ দিতে হয়েছে ৪৩৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ চিনি উৎপাদন করে যে অর্থ আয় হওয়ার কথা, তার বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে পুরোনো ঋণের সুদ পরিশোধে। এভাবে তৈরি হচ্ছে একটি ভয়াবহ আর্থিক চক্র।

কম উৎপাদন, বেশি ইউনিট খরচ, লোকসান, নগদ অর্থের সংকট, ঋণ এবং সেই ঋণের সুদ, এরপর আবার নতুন করে লোকসান। চিনিকল সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, আরেকটি বড় দুর্বলতা উৎপাদন প্রযুক্তি। পুরোনো ও জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতির কারণে আখ থেকে চিনি আহরণের হারও কম। দেশে আখ থেকে চিনি আহরণের গড় হার প্রায় ৬ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ কেজি আখে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬ কেজি চিনি।

অন্যদিকে ব্রাজিল বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে এই হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত। একই পরিমাণ আখ থেকে যদি আধুনিক কারখানায় প্রায় দ্বিগুণ চিনি পাওয়া যায়, তাহলে পুরোনো প্রযুক্তিতে রাষ্ট্রীয় চিনিকলের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কতটা কঠিন, তা সহজেই বোঝা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধু যন্ত্রপাতি পুরোনো বলেই উৎপাদন কম নয়। কারখানায় আখের সরবরাহও পর্যাপ্ত নয়।

সময়মতো আখচাষির মূল্য পরিশোধ না করা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বিকল্প বাজারে বেশি দাম পাওয়ার সুযোগ— সব মিলিয়ে অনেক কৃষক সরকারি চিনিকলে আখ দিতে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে কারখানার উৎপাদনক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। কারখানা যত কম দিন চলে, স্থায়ী ব্যয় তত বেশি হয়ে পড়ে। কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক খরচ চলতেই থাকে।

কিন্তু উৎপাদিত চিনির পরিমাণ কমে যাওয়ায় সেই ব্যয় পণ্যের ওপর বেশি করে চাপ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসানের আরেকটি জায়গা বাজারজাতকরণ। উৎপাদিত চিনি সময়মতো বিক্রি না হলে গুদামে পড়ে থাকে। পণ্যের বিপরীতে যে অর্থ প্রতিষ্ঠানের হাতে ফেরার কথা, তা আটকে যায়। এরপর নতুন মৌসুমে আখ কেনার জন্য নগদ অর্থের প্রয়োজন দেখা দিলে তৈরি হয় নতুন সংকট।

ফলে শুধু উৎপাদন করলেই হবে না; উৎপাদিত চিনি দ্রুত ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বাজারজাত করাও জরুরি। রাষ্ট্রীয় চিনিকলের ক্ষেত্রে উৎপাদন থেকে বিক্রি পর্যন্ত পুরো শৃঙ্খলটিই তাই নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে। করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, শিল্পের লোকসানের কারণ হিসেবে পুরোনো প্রযুক্তি, আখের সংকট বা ঋণের সুদের কথা বলা হলেও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড— নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, ক্রয় ও ঠিকাদারি প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এটা ভাবার সময় এসেছে, একটি প্রতিষ্ঠান যখন বছরের পর বছর শত শত কোটি টাকা লোকসান করে, তখন তার প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বা কমন সার্ভিসের আওতায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠলে তা খতিয়ে দেখা দরকার— চাহিদা কীভাবে নির্ধারণ হয়েছে, প্রাক্কলন কে করেছেন, দরপত্রে কারা অংশ নিয়েছেন, কারিগরি মূল্যায়ন কীভাবে হয়েছে, কার্যাদেশ কে দিয়েছেন এবং সরবরাহের মান ও মূল্য যাচাই করা হয়েছে কি না। কারণ লোকসানি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে একটি অপ্রয়োজনীয় বা অতিমূল্যের ক্রয় শুধু একটি কেনাকাটার ঘটনা নয়; শেষ পর্যন্ত এর অর্থের জোগান আসে জনগণের করের টাকা থেকে।

কর্মকর্তারা ক্ষোভের সাথে জানান, বিএসএফআইসির সচিব মুজিবুর রহমানকে ঘিরে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও বিভিন্ন ক্রয় সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সংশ্লিষ্ট মহলে রয়েছে। কিছু অভিযোগে তার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তার সার্বিক যোগ্যতা নিয়ে চিনি কারখানাগুলোতে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তরিক অর্থে তিনি কখনোই চান না এই শিল্প ঘুরে দাঁড়াক বা বন্ধ কারখানাগুলো আবার চালু হোক।

তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ— নিয়োগের নামে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দেদার বাণিজ্য শুরু করেছেন তিনি এবং তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা। ফলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত নথি, কমিটির কার্যবিবরণী, দরপত্র, অনুমোদন ও কার্যাদেশসহ প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র গোপনে পর্যালোচনা জরুরি। একটি রাষ্ট্রীয় করপোরেশনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া যত শক্তিশালী হবে, ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তত কমবে।

বিশেষ করে নিয়োগ ও বড় অঙ্কের ক্রয়ের ক্ষেত্রে কে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন— তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সিদ্ধান্তটি কোন নথির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব স্তরের অনুমোদন ও যাচাই যথাযথভাবে হয়েছে কি না। কর্মকর্তারা আরও বলছেন, চিনিকল আধুনিকায়নের উদ্যোগেও অতীতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চিনিকল আধুনিকায়ন ও বিনিয়োগের লক্ষ্যে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে করা সমঝোতা পরে বাতিল করা হয়।

এই উদ্যোগ ঘিরে মূল প্রশ্ন হচ্ছে— রাষ্ট্রীয় শিল্পের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও বড় বিনিয়োগের প্রকল্পে অংশীদার নির্বাচনের আগে আর্থিক সক্ষমতা, ব্যাবসায়িক রেকর্ড, ঋণ পরিস্থিতি, নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সক্ষমতা কতটা যাচাই করা হয়েছিল। চুক্তি বাতিলের সরকারি আদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথিতে কী কারণ দেখানো হয়েছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ আধুনিকায়নের নামে একটি প্রকল্প নেওয়া এবং পরে তা বাতিল— দুটির আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়ও শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২০ সাল থেকে ছয়টি চিনিকল বন্ধ। উৎপাদন নেই, কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো ও সম্পদ পড়ে আছে। আবার এসব মিল পুনরায় চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে বন্ধ ও লোকসানি চিনিকলকে বেসরকারি বা বিদেশি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আধুনিকায়নের উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে।

একই সঙ্গে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, অ্যালকোহল, জৈব সার, ভিনেগারসহ বিভিন্ন উপজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর কথাও আলোচনায় এসেছে। ডিজিটাল উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শুধু ডিজিটাল পদ্ধতি কিংবা নতুন অংশীদার আনলেই লোকসানের মূল সমস্যা দূর হবে না। চিনিশিল্পের জন্য সবচেয়ে জরুরি প্রতিটি চিনিকলের পৃথক আর্থিক ও কারিগরি মূল্যায়ন।

একটি মিলের ওপর কত টাকা ঋণ, বছরে সুদ কত, কত টন আখ প্রয়োজন, বাস্তবে কত আখ পাওয়া যায়, কত চিনি উৎপাদন হয়, প্রতি কেজির উৎপাদন ব্যয় কত, কত কর্মী আছে, বেতন ও প্রশাসনিক ব্যয় কত, এসব তথ্য এক জায়গায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগ, ক্রয়, আখ সংগ্রহ, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কঠোর জবাবদিহি দরকার। যাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ, তিনি হচ্ছেন বিএসএফআইসি’র সচিব মুজিবুর রহমান।

এ ব্যাপারে তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সব অভিযোগ বানোয়াট, মিথ্য ও ভিত্তিহীন। একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি এই রুগ্ণশিল্পকে উঠে দাঁড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন যাতে বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা যায়। সুদ মওকুফ এবং কমানো নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাংক এবং সরকারের সাথেও তারা কথা বলছেন। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি বন্ধে তিনি বৈঠক করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা এবং সংশোধিত শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা কঠোরভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

দাপ্তরিক কাজের গতিশীলতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন মূল্যায়ন এবং মামলা ব্যবস্থাপনার স্ট্যান্ডার্ড বা মানদণ্ড শতভাগ বজায় রাখার ব্যাপারে তিনি তাগিদ দিয়েছেন, যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে।