ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার নতুন বাইপাস এলাকা থেকে ৩৫ বস্তা ভর্তি ঘোড়ার হাড়, চামড়া ও বিভিন্ন দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোররাতে স্থানীয় বাসিন্দারা বস্তাগুলো দেখতে পান। এ ঘটনার পর স্থানীয় গরুর মাংসের বাজারে ঘোড়ার মাংস বিক্রির আশঙ্কায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাইপাস এলাকায় একসঙ্গে এতগুলো বস্তা পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। ভোর থেকেই এ নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে বস্তাগুলো খুলে ভেতরে ঘোড়ার হাড়, চামড়া ও অন্যান্য দেহাবশেষ পাওয়া যায়। তবে গভীর রাতে কে বা কারা সেখানে বস্তাগুলো ফেলে গেছে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র ঘোড়া জবাই করে এর মাংস অন্যত্র সরিয়ে নেয় এবং পরে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, ঘোড়াগুলো অন্য কোনো স্থানে জবাই করে মাংস সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গরুর মাংসের সঙ্গে ঘোড়ার মাংস মিশিয়ে বিক্রির গুঞ্জন থাকলেও এত দিন এর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এবার একসঙ্গে ৩৫ বস্তা ঘোড়ার দেহাবশেষ উদ্ধারের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের ধারণা, জামালপুরের চরাঞ্চলে একটি ঘোড়ার হাট রয়েছে। সেখান থেকে কম দামে ঘোড়া কিনে একটি চক্র বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করে থাকে। তবে অভিযোগে উঠে আসা চক্রটির সদস্যরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পাশাপাশি উদ্ধার করা চামড়াগুলো মাটিচাপা দিতে সহায়তা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্রও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘোড়ার এসব দেহাবশেষ কোথা থেকে এবং কারা সেখানে নিয়ে এসেছে, তা তদন্ত করে বের করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বস্তাগুলো মাটিচাপা দেওয়ার কাজ চলছে।

























