আজ শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬১%

তাহসিফ মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বন্ধু দ্বীপ পিবিআইয়ের হেফাজতে

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:03:32 pm, Friday, 30 October 2026
  • 11

তাহসিফ মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বন্ধু দ্বীপ পিবিআইয়ের হেফাজতে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দ্বীপ।

এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে দ্বীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

এদিকে নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে প্রয়োজনীয় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নৌ-পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভেসে থাকার খবর দেওয়া হয়।

খবর পাওয়ার পর টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে নদীর পাড়ে নিয়ে আসে। ঘটনার শুরু ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। সেদিন মাকে ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে দেখা করে আসি’ বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরি। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি। পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

তাহসিফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দ্বীপকে তিনি ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন। ঘটনার আগের রাতে তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছিল, কোথায় গিয়েছিলেন এবং কখন আলাদা হয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন দ্বীপ। তাঁর দাবি, ঘটনার আগের দিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তারা একসঙ্গেই ছিলেন। সে সময় তাহসিফকে স্বাভাবিক ও বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। তাহসিফের এমন রহস্যজনক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না দ্বীপও।

তার ভাষ্য, পুরো ঘটনাটি তার কাছেও রহস্যজনক ও অস্পষ্ট মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, ঘটনার দিন ২৭ অক্টোবরের সিসিটিভি ফুটেজে দ্বীপের গতিবিধি দেখা গেছে। ফুটেজ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে নিজের হেলমেটটি মোটরসাইকেলের ওপর রেখে পরনের কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মুছে নেন। কিছুক্ষণ পর ওপর থেকে নেমে আসেন তাহসিফ।

নিচে এসে দ্বীপের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং হাত মেলান। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি পৃথক মোটরসাইকেলে গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম

তাহসিফ মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বন্ধু দ্বীপ পিবিআইয়ের হেফাজতে

Update Time : 12:03:32 pm, Friday, 30 October 2026

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দ্বীপ।

এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে দ্বীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

এদিকে নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে প্রয়োজনীয় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নৌ-পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভেসে থাকার খবর দেওয়া হয়।

খবর পাওয়ার পর টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে নদীর পাড়ে নিয়ে আসে। ঘটনার শুরু ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। সেদিন মাকে ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে দেখা করে আসি’ বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরি। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি। পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

তাহসিফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দ্বীপকে তিনি ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন। ঘটনার আগের রাতে তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছিল, কোথায় গিয়েছিলেন এবং কখন আলাদা হয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন দ্বীপ। তাঁর দাবি, ঘটনার আগের দিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তারা একসঙ্গেই ছিলেন। সে সময় তাহসিফকে স্বাভাবিক ও বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। তাহসিফের এমন রহস্যজনক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না দ্বীপও।

তার ভাষ্য, পুরো ঘটনাটি তার কাছেও রহস্যজনক ও অস্পষ্ট মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, ঘটনার দিন ২৭ অক্টোবরের সিসিটিভি ফুটেজে দ্বীপের গতিবিধি দেখা গেছে। ফুটেজ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে নিজের হেলমেটটি মোটরসাইকেলের ওপর রেখে পরনের কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মুছে নেন। কিছুক্ষণ পর ওপর থেকে নেমে আসেন তাহসিফ।

নিচে এসে দ্বীপের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং হাত মেলান। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি পৃথক মোটরসাইকেলে গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।