3:18 am, Monday, 3 August 2026

ফ্যাসিস্টদের ফটোকপি বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:56:11 am, Monday, 3 August 2026
  • 5
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিএনপি সরকারের মধ্যে ফ্যাসিস্ট সরকারের হুবহু ফটোকপি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তো নতুন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। তখনকার ফ্যাসিস্টরা যা করেছে, হুবহু তার একটি ফটোকপি আমরা আপনাদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। গতকাল রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জান দিব, জুলাই দিব না’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। সভার আয়োজক ছিল বাংলাদেশ লেবার পার্টি। সভায় জামায়াতের আমির বলেন, ‘তারা নিজেরাই বলেছেন, তারা ধানখেতে, পাটখেতে ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই স্মৃতি তারা ভুলে গেলেন। যে স্বভাব ফ্যাসিস্ট সরকারের ছিল, সেটি এখন তারা ধারণ করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির একজন অ্যাকটিভিস্টকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কী উদ্দেশ্যে তাকে সেখানে বসানো হয়েছে’— সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের অভিপ্রায়কে যারা সম্মান করে না, জনগণ তাদের অন্তর থেকে প্রত্যাখ্যান করে। এতে অনেকে শেষ পর্যন্ত দেশেও থাকতে পারে না, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।’ হবিগঞ্জে কিশোর আলিফ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘চোখ তো শেষ করেছিল শেখ হাসিনা, আপনারা আবার শুরু করলেন কেন? পারবেন চোখটা ফিরিয়ে দিতে? পারবেন না।’ উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার সময় চোখে গুরুতর আঘাত পান এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির এই নেতা। সংসদ নির্বাচনের আগে অন্য দল থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া একজন নেতা সম্প্রতি সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়েছেন। সেই নেতা অন্যদের হেয় করে বক্তব্য দেন এবং সরকার এসব নেতার মাধ্যমে রাজনীতিতে অশালীনতাকে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘একজন তো প্রমোশন পাইতে পাইতে সচিব হয়ে গেছে। সচিব হওয়ার জন্য এখন আর বিসিএস কোয়ালিফাই করা লাগবে না। সচিব হওয়ার জন্য দলীয় একটা পদ থাকলেই হবে।’ গত ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ রাশেদ খানকে। জামায়াতের আমির বলেন, ‘মনে রাখবেন, দুধকলা দিয়ে যদি কালসাপ পোষেন, একদিন সেই সাপের ছোবলে আপনার জীবনও যেতে পারে। মনে রাখবেন, এরা কারো নয়। এরা আসলে মতলববাজ। এরা সমাজকে ডুবায়, নিজেও ডোবে।’ ব্যক্তিকে আঘাত না করে যুক্তি দিয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তি আর দায়িত্ব এক জিনিস নয়, এ ক্ষেত্রেও ভুল করা যাবে না। যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের সমালোচনা চলবে। দায়িত্বে থাকতে চাইলে সমালোচনা সহ্য করার গুণও থাকতে হবে।’ আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান) বলেন, অনেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আলাদা করে দেখেন। দুই আন্দোলনের চেতনা এক ও অভিন্ন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে এসব আন্দোলন হয়েছিল; কিন্তু কাক্সিক্ষত পরিবর্তন এখনো আসেনি। তিনি জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান। আলোচনাসভায় প্রধান আলোচক ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেন, “তারেক রহমানের আশপাশে ‘মোসাদ’ ও ‘র’-এর এজেন্ট আছে। তিনি শত্রু দ্বারা বেষ্টিত।”

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ফ্যাসিস্টদের ফটোকপি বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি

Update Time : 01:56:11 am, Monday, 3 August 2026

বিএনপি সরকারের মধ্যে ফ্যাসিস্ট সরকারের হুবহু ফটোকপি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তো নতুন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। তখনকার ফ্যাসিস্টরা যা করেছে, হুবহু তার একটি ফটোকপি আমরা আপনাদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। গতকাল রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জান দিব, জুলাই দিব না’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। সভার আয়োজক ছিল বাংলাদেশ লেবার পার্টি। সভায় জামায়াতের আমির বলেন, ‘তারা নিজেরাই বলেছেন, তারা ধানখেতে, পাটখেতে ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই স্মৃতি তারা ভুলে গেলেন। যে স্বভাব ফ্যাসিস্ট সরকারের ছিল, সেটি এখন তারা ধারণ করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির একজন অ্যাকটিভিস্টকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কী উদ্দেশ্যে তাকে সেখানে বসানো হয়েছে’— সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের অভিপ্রায়কে যারা সম্মান করে না, জনগণ তাদের অন্তর থেকে প্রত্যাখ্যান করে। এতে অনেকে শেষ পর্যন্ত দেশেও থাকতে পারে না, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।’ হবিগঞ্জে কিশোর আলিফ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘চোখ তো শেষ করেছিল শেখ হাসিনা, আপনারা আবার শুরু করলেন কেন? পারবেন চোখটা ফিরিয়ে দিতে? পারবেন না।’ উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার সময় চোখে গুরুতর আঘাত পান এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির এই নেতা। সংসদ নির্বাচনের আগে অন্য দল থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া একজন নেতা সম্প্রতি সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়েছেন। সেই নেতা অন্যদের হেয় করে বক্তব্য দেন এবং সরকার এসব নেতার মাধ্যমে রাজনীতিতে অশালীনতাকে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘একজন তো প্রমোশন পাইতে পাইতে সচিব হয়ে গেছে। সচিব হওয়ার জন্য এখন আর বিসিএস কোয়ালিফাই করা লাগবে না। সচিব হওয়ার জন্য দলীয় একটা পদ থাকলেই হবে।’ গত ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ রাশেদ খানকে। জামায়াতের আমির বলেন, ‘মনে রাখবেন, দুধকলা দিয়ে যদি কালসাপ পোষেন, একদিন সেই সাপের ছোবলে আপনার জীবনও যেতে পারে। মনে রাখবেন, এরা কারো নয়। এরা আসলে মতলববাজ। এরা সমাজকে ডুবায়, নিজেও ডোবে।’ ব্যক্তিকে আঘাত না করে যুক্তি দিয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তি আর দায়িত্ব এক জিনিস নয়, এ ক্ষেত্রেও ভুল করা যাবে না। যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের সমালোচনা চলবে। দায়িত্বে থাকতে চাইলে সমালোচনা সহ্য করার গুণও থাকতে হবে।’ আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান) বলেন, অনেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আলাদা করে দেখেন। দুই আন্দোলনের চেতনা এক ও অভিন্ন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে এসব আন্দোলন হয়েছিল; কিন্তু কাক্সিক্ষত পরিবর্তন এখনো আসেনি। তিনি জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান। আলোচনাসভায় প্রধান আলোচক ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেন, “তারেক রহমানের আশপাশে ‘মোসাদ’ ও ‘র’-এর এজেন্ট আছে। তিনি শত্রু দ্বারা বেষ্টিত।”