আজ মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৫%

ভোগান্তির শিকার ১৫ গ্রামের মানুষ

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:06:31 am, Monday, 3 August 2026
  • 38

ভোগান্তির শিকার ১৫ গ্রামের মানুষ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের খাষ-ঘুনিপাড়া গ্রামে ২০২৩ সালে এলজিইডি প্রকল্পে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও তিন বছর ধরে সেতুর দুই পাশে গাইড ওয়াল ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে দেখা গেছে, সদরে আসার একমাত্র রাস্তা এটি। স্থানীয় আব্দুল রশিদ বলেন, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগী আনা-নেওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষকে কাদা, পানি ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানার পক্ষে ভায়া কন্টাক্টর রিপন কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ত্যাগ করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের অর্থ উত্তোলনের পর আর কোনো কাজ করা হয়নি। এ বিষয়ে সাব-কন্টাক্টর রিপন মুঠোফোনে কোনো তথ্য না দিয়ে বাড়িতে গিয়ে কথা বলতে বলেন। দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় মোটরসাইকেল, ভ্যান ও কৃষিপণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত গাইড ওয়াল ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। ইউপি সদস্য জাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর তদারকি চোখে পড়েনি। ঠিকাদার ও এলজিইডি কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়নি। সলিমাবাদ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মনির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, সেতুটির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এর পাশেই হাট-বাজার, স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে। জরুরি রোগী বহন, শিক্ষার্থীসহ অটোরিকশা, পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। বর্ষাকালে কোমরপানি দিয়ে চলাচল করতে হয়। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়নি, মাটি ভরাট ও রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটির কিছু সংশোধন করে রি-টেন্ডার দিয়ে সেতুর বাকি কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দ্রুত সংযোগ সড়ক ও গাইড ওয়ালের কাজ সম্পন্ন করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আলফাডাঙ্গায় বেস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ভোগান্তির শিকার ১৫ গ্রামের মানুষ

Update Time : 03:06:31 am, Monday, 3 August 2026

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের খাষ-ঘুনিপাড়া গ্রামে ২০২৩ সালে এলজিইডি প্রকল্পে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও তিন বছর ধরে সেতুর দুই পাশে গাইড ওয়াল ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে দেখা গেছে, সদরে আসার একমাত্র রাস্তা এটি। স্থানীয় আব্দুল রশিদ বলেন, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগী আনা-নেওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষকে কাদা, পানি ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানার পক্ষে ভায়া কন্টাক্টর রিপন কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ত্যাগ করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের অর্থ উত্তোলনের পর আর কোনো কাজ করা হয়নি। এ বিষয়ে সাব-কন্টাক্টর রিপন মুঠোফোনে কোনো তথ্য না দিয়ে বাড়িতে গিয়ে কথা বলতে বলেন। দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় মোটরসাইকেল, ভ্যান ও কৃষিপণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত গাইড ওয়াল ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। ইউপি সদস্য জাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর তদারকি চোখে পড়েনি। ঠিকাদার ও এলজিইডি কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়নি। সলিমাবাদ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মনির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, সেতুটির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এর পাশেই হাট-বাজার, স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে। জরুরি রোগী বহন, শিক্ষার্থীসহ অটোরিকশা, পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। বর্ষাকালে কোমরপানি দিয়ে চলাচল করতে হয়। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়নি, মাটি ভরাট ও রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটির কিছু সংশোধন করে রি-টেন্ডার দিয়ে সেতুর বাকি কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দ্রুত সংযোগ সড়ক ও গাইড ওয়ালের কাজ সম্পন্ন করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান এলাকাবাসী।