5:02 am, Monday, 3 August 2026

রংপুরের পীরগঞ্জে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা, ব্যাহত হচ্ছে চতরা হাটের কার্যক্রম

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:51:23 am, Monday, 3 August 2026
  • 2
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চতরা হাটের প্রায় ১০ একর সরকারি জমির বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে। দলখদারেরা হাটের জমি দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করায় হাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে মূল জায়গা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় সড়ক ও আশপাশের এলাকায় বাজার বসায় সাধারণ মানুষ ও যাতায়াতকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চতরা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইকলিমপুর মৌজায় অবস্থিত চতরাহাটের নামে সিএস ও এসএ রেকর্ডভুক্ত আটটি দাগে মোট ৯ একর ৮০ শতক জমি রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট ভূমি কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাটের উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন ব্যক্তি দখল করে সেখানে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছেন। ফলে হাটের নিজস্ব পরিধি ছোট হয়ে কার্যক্রম সড়ক ও জনাকীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান, হাটের নির্ধারিত জায়গা অবৈধ দখলদারদের কবলে থাকায় কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন পণ্যের বিক্রেতাদের বাধ্য হয়ে চতরা ডিগ্রি কলেজ মাঠ এবং ধাপেরহাট-চতরা সড়কের দুপাশে দোকান বসাতে হচ্ছে। ব্যস্ত সড়কের ওপর হাট বসায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে স্থানীয় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান এক বছরের জন্য ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় চতরাহাটটি ইজারা নেন। তবে দখলকৃত জমি বুঝিয়ে না পাওয়ায় তিনি পরবর্তী সময়ে আর ইজারা নবায়ন করেননি। তার দাবি, হাটটি অবৈধ দখলমুক্ত করা গেলে সরকারের ইজারামূল্য আরও বাড়বে। ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার নূরে আলম জানান, বর্তমানে হাটের জমি অন্তত ৪০০ জনের দখলে রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৩০৮ জন অবৈধ দখলদারের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়া গেলে হাটের ব্যবস্থাপনা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব বহুলাংশে বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন জানান, অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণ করে পরিকল্পিতভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলে সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদুল হাসান জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বর্তমানে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

রংপুরের পীরগঞ্জে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা, ব্যাহত হচ্ছে চতরা হাটের কার্যক্রম

Update Time : 03:51:23 am, Monday, 3 August 2026

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চতরা হাটের প্রায় ১০ একর সরকারি জমির বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে। দলখদারেরা হাটের জমি দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করায় হাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে মূল জায়গা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় সড়ক ও আশপাশের এলাকায় বাজার বসায় সাধারণ মানুষ ও যাতায়াতকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চতরা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইকলিমপুর মৌজায় অবস্থিত চতরাহাটের নামে সিএস ও এসএ রেকর্ডভুক্ত আটটি দাগে মোট ৯ একর ৮০ শতক জমি রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট ভূমি কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাটের উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন ব্যক্তি দখল করে সেখানে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছেন। ফলে হাটের নিজস্ব পরিধি ছোট হয়ে কার্যক্রম সড়ক ও জনাকীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান, হাটের নির্ধারিত জায়গা অবৈধ দখলদারদের কবলে থাকায় কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন পণ্যের বিক্রেতাদের বাধ্য হয়ে চতরা ডিগ্রি কলেজ মাঠ এবং ধাপেরহাট-চতরা সড়কের দুপাশে দোকান বসাতে হচ্ছে। ব্যস্ত সড়কের ওপর হাট বসায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে স্থানীয় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান এক বছরের জন্য ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় চতরাহাটটি ইজারা নেন। তবে দখলকৃত জমি বুঝিয়ে না পাওয়ায় তিনি পরবর্তী সময়ে আর ইজারা নবায়ন করেননি। তার দাবি, হাটটি অবৈধ দখলমুক্ত করা গেলে সরকারের ইজারামূল্য আরও বাড়বে। ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার নূরে আলম জানান, বর্তমানে হাটের জমি অন্তত ৪০০ জনের দখলে রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৩০৮ জন অবৈধ দখলদারের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়া গেলে হাটের ব্যবস্থাপনা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব বহুলাংশে বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন জানান, অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণ করে পরিকল্পিতভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলে সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদুল হাসান জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বর্তমানে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।