জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে ইরানকে নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বনেতাদের সামনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে তার সামনে এখন দুটি পথ খোলা—একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি অথবা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের প্রথম দিনের অধিবেশনে ট্রাম্প গত সাত মাস ধরে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন, তেহরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় এই সামরিক পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় ছিল। ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমার সামনে এখন একটি বড় সিদ্ধান্ত। ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনো চুক্তি হবে, যা তাদের নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে? নাকি আমি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিকে চিরতরে ধ্বংস করে দেব—এবং খুব দ্রুত তা করব? আরও কঠোর সুরে তিনি বলেন, ‘আমি কি তাদের এমন এক নরকে নিক্ষেপ করব, যেখান থেকে ফেরার কোনো পথ থাকবে না?
’ তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্ভব হতে পারে। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। এবারের সাধারণ অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
ট্রাম্পের বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। বিশ্বনেতাদের সামনে দেওয়া তার এই কঠোর হুঁশিয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং চলমান আঞ্চলিক সংকটকে নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।



















