4:15 am, Monday, 3 August 2026

বর্ষায় কদর বেড়েছে মাছ ধরার চাঁইয়ের

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:02:29 am, Monday, 3 August 2026
  • 2

বর্ষায় কদর বেড়েছে মাছ ধরার চাঁইয়ের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

শ্রীমঙ্গল শহরের উকিলবাড়ি রোডে প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসে ব্যতিক্রমধর্মী এক হাট। এটি কোনো সবজি, গবাদিপশু বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের হাট নয়; এটি বাঁশের তৈরি মাছ ধরার ফাঁদ ‘চাই’-এর হাট। বর্ষা মৌসুম এলেই এ হাটে বাড়তে থাকে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়। স্থানীয় মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরাও ভিড় জমান এই হাটে। সাতগাঁও, রুস্তমপুর, ভুনবীর, মনারগাঁও, কামারপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার দক্ষ কারিগররা নিজ হাতে তৈরি বাঁশের চাঁই নিয়ে আসেন এই হাটে। ভোর থেকে শুরু হওয়া বেচাকেনা চলে বিকেল পর্যন্ত। সারি সারি সাজানো শত শত চাই এক অনন্য দৃশ্যের সৃষ্টি করে, যা স্থানীয়দের পাশাপাশি পথচারীদেরও আকৃষ্ট করে। শুধু শ্রীমঙ্গলের মানুষই নন, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মৎস্যজীবীরা এখান থেকে চাঁই কিনে নিয়ে যান। এছাড়া পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই হাট থেকে বিপুল পরিমাণ চাঁই কিনে সিলেটের শেরপুর, মাধবপুর, নবীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। ফলে এ হাট স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শনিবার চাঁইয়ের হাটে কথা হয় ব্যবসায়ী সুপেন বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতি ডজন চাই ১১০০-১২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে মৌসুম শেষ হলে চাহিদা কমে যায় এবং তখন প্রতি ডজন চাঁইয়ের দাম নেমে আসে ৭০০-৮০০ টাকায়। গ্রামীণ জনপদে বাঁশের চাইয়ের জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। পরিবেশবান্ধব ও সহজলভ্য এ মাছ ধরার উপকরণ আজও গ্রামীণ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। শ্রীমঙ্গলের উকিলবাড়ি রোডের এ চাঁইয়ের হাট সেই লোকজ ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে এবং স্থানীয় কারিগরদের জীবিকা নির্বাহের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

বর্ষায় কদর বেড়েছে মাছ ধরার চাঁইয়ের

Update Time : 03:02:29 am, Monday, 3 August 2026

শ্রীমঙ্গল শহরের উকিলবাড়ি রোডে প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসে ব্যতিক্রমধর্মী এক হাট। এটি কোনো সবজি, গবাদিপশু বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের হাট নয়; এটি বাঁশের তৈরি মাছ ধরার ফাঁদ ‘চাই’-এর হাট। বর্ষা মৌসুম এলেই এ হাটে বাড়তে থাকে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়। স্থানীয় মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরাও ভিড় জমান এই হাটে। সাতগাঁও, রুস্তমপুর, ভুনবীর, মনারগাঁও, কামারপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার দক্ষ কারিগররা নিজ হাতে তৈরি বাঁশের চাঁই নিয়ে আসেন এই হাটে। ভোর থেকে শুরু হওয়া বেচাকেনা চলে বিকেল পর্যন্ত। সারি সারি সাজানো শত শত চাই এক অনন্য দৃশ্যের সৃষ্টি করে, যা স্থানীয়দের পাশাপাশি পথচারীদেরও আকৃষ্ট করে। শুধু শ্রীমঙ্গলের মানুষই নন, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মৎস্যজীবীরা এখান থেকে চাঁই কিনে নিয়ে যান। এছাড়া পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই হাট থেকে বিপুল পরিমাণ চাঁই কিনে সিলেটের শেরপুর, মাধবপুর, নবীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। ফলে এ হাট স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শনিবার চাঁইয়ের হাটে কথা হয় ব্যবসায়ী সুপেন বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতি ডজন চাই ১১০০-১২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে মৌসুম শেষ হলে চাহিদা কমে যায় এবং তখন প্রতি ডজন চাঁইয়ের দাম নেমে আসে ৭০০-৮০০ টাকায়। গ্রামীণ জনপদে বাঁশের চাইয়ের জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। পরিবেশবান্ধব ও সহজলভ্য এ মাছ ধরার উপকরণ আজও গ্রামীণ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। শ্রীমঙ্গলের উকিলবাড়ি রোডের এ চাঁইয়ের হাট সেই লোকজ ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে এবং স্থানীয় কারিগরদের জীবিকা নির্বাহের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।