রাজশাহী শহরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বহু কোয়ার্টার ও কলোনির বহুতল ভবন বহুদিন ধরে জীর্ণদশা বিরাজ করছে। বছরের পর বছর এ ভবনগুলোর সংস্কার কাজ না করায় এগুলো এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। দেয়ালে ফাটল, কোথাও খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা।
জানালা-দরজা ভাঙা, চারপাশে আগাছা দিয়ে ব্লিডিংগুলো চেনা যাচ্ছে না। মনে হবে এগুলো কোনো ধ্বংসস্তূপ। সরকারি বাসা হলেও বেশি ভাড়া বা অন্যান্য সুবিধার অভাবে এসব ভবনে থাকছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ অযতেœ আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব ভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে।।
কিন্তু কবে তা আলোর মুখ দেখবে তা নিয়ে শষ্কা বিরাজ করছে। সরেজমিনে নগরীর পরিত্যক্ত সরকারি কোয়ার্টার ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এসব কোয়ার্টার গাছগাছালিতে আচ্ছন্ন, মনে হবে কোনো মুভিতে দেখা পরিত্যক্ত ভবন। কিন্তু এগুলো মূলত একসময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে ভবন এখন পরিত্যক্ত। কোথাও দেয়ালে ফাটল, কোথাও খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা।
জানালা-দরজা ভাঙা, চারপাশ আগাছার দখল। তবে নগরীর টিবি-পুকুর এলাকায় এসব পরিত্যক্ত ভবন ফাঁকা নেই। ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা ভবনের কিছু অংশে এখনো বসবাস করছেন অনেক পরিবার। জীবনের ঝুঁকি জেনেও বিকল্প আবাসনের অভাবে আর খরচ কমাতে সেখানেই বসবাস করছেন তারা। কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এ ভবনগুলোয় থাকতে হচ্ছে। কারণ আয়-রোজগার বেশি নেই।
তাই আধুনিক ভবনের বিলাসিতা জীবন আমাদের নেই। আবার তুলনামূলক ভালো অবস্থার কিছু সরকারি ভবন দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। এসব সরকারি বাসার ভাড়া তুলনামূলক বেশি, অবস্থানগত অসুবিধার কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে উঠতে আগ্রহ দেখান না। যার কারণে এসব ভবন নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সরকারী সম্পদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব ভবন সংস্কারের উপযোগী সেগুলো মেরামত করা হবে।
আর যেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী, সেগুলো অপসারণ করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম জানান, নগরীর হেলেনাবাদ ও মহিষবাথান কলোনির জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি।
যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন তারা যেন ওখানে বসবাস করতে পারেন। তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, সরকারি ভবনগুলোয় সময়ের সঙ্গে সেবার মান ও মূল্যের সমঝোতা বজায় রাখলে বাড়বে সরকারি এ আবাসিক কলোনির ব্যবহার। সেই সঙ্গে সরকারি কোষাগারে যুক্ত হবে বিপুল পরিমাণ অর্থ। তাই এই মূল্যবান সম্পদের সঠিক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ খুবই জরুরি।



















