4:26 am, Monday, 3 August 2026

প্রশাসনিক ও বিচারিক এলাকার পাশে কুটির শিল্প মেলা: স্থান নির্বাচন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:06:07 am, Monday, 3 August 2026
  • 1
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী শিল্প ও কুটির শিল্প মেলার আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে স্থান নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রায় ৫০ গজ এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে মেলার আয়োজন করায় প্রশাসনিক কার্যক্রম, বিচারিক পরিবেশ, জননিরাপত্তা, যানজট এবং শিক্ষার্থীদের চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সচেতন নাগরিকরা। গত ১৫ জুলাই মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধনের পর থেকেই প্রতিদিন দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মেলায় মানুষের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোর আশপাশে যানবাহনের চাপ ও জনসমাগম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেলার অদূরেই জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কালেক্টরেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কালেক্টরের গ্রিন ভিউ স্কুল। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। অভিভাবকদের একাংশের আশঙ্কা, অতিরিক্ত জনসমাগম ও যানবাহনের চাপ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এ ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিদিন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার নিয়মিত উপস্থিতি থাকে। এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বিচারিক এলাকার সন্নিকটে দীর্ঘ সময়ব্যাপী মেলা আয়োজন প্রশাসনিক ও বিচারিক পরিবেশে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল ওদুদ বলেন, শিল্প ও কুটির শিল্প মেলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বিচারিক এলাকার একেবারে কাছে মাসব্যাপী মেলা আয়োজনের আগে জনস্বার্থ, নিরাপত্তা এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত ছিল। কালেক্টরেট গ্রীন ভিউ স্কুল শিক্ষার্থীর অভিভাবক মিজানুর রহমান বলেন, স্কুল ছুটির সময়ে যদি অতিরিক্ত ভিড় সৃষ্টি হয়, তাহলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়। মেলা আয়োজক কমিটির প্রধান সেলিম রেজার কাছে মেলার অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তীতে আর সাক্ষাৎ বা কোনো বক্তব্য দেননি। জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুসা জঙ্গি বলেন, মেলার উদ্দেশ্য স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকাশে সহায়তা করা। নিরাপত্তা ও যান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আদালত, সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে যাতে উচ্চ শব্দ বা হৈচৈ না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ.ন.ম. ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, মেলার অনুমতি জেলা প্রশাসন দিয়েছে। তারপরও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জনসাধারণের যেকোনো যৌক্তিক মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জজ আদালতের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি নিয়ে সমন্বিতভাবে আলোচনা করা হবে। সচেতন মহলের অভিমত, শিল্প ও কুটির শিল্প মেলা অবশ্যই আয়োজন করা উচিত। তবে এমন স্থানে আয়োজন হওয়া প্রয়োজন, যেখানে উদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক সুযোগ পাবেন, একই সঙ্গে প্রশাসনিক, বিচারিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে না এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও ন্যূনতম পর্যায়ে থাকবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও ভবিষ্যতে মেলার স্থান নির্বাচনকালে জনস্বার্থ, নিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

প্রশাসনিক ও বিচারিক এলাকার পাশে কুটির শিল্প মেলা: স্থান নির্বাচন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

Update Time : 03:06:07 am, Monday, 3 August 2026

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী শিল্প ও কুটির শিল্প মেলার আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে স্থান নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রায় ৫০ গজ এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে মেলার আয়োজন করায় প্রশাসনিক কার্যক্রম, বিচারিক পরিবেশ, জননিরাপত্তা, যানজট এবং শিক্ষার্থীদের চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সচেতন নাগরিকরা। গত ১৫ জুলাই মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধনের পর থেকেই প্রতিদিন দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মেলায় মানুষের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোর আশপাশে যানবাহনের চাপ ও জনসমাগম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেলার অদূরেই জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কালেক্টরেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কালেক্টরের গ্রিন ভিউ স্কুল। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। অভিভাবকদের একাংশের আশঙ্কা, অতিরিক্ত জনসমাগম ও যানবাহনের চাপ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এ ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিদিন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার নিয়মিত উপস্থিতি থাকে। এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বিচারিক এলাকার সন্নিকটে দীর্ঘ সময়ব্যাপী মেলা আয়োজন প্রশাসনিক ও বিচারিক পরিবেশে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল ওদুদ বলেন, শিল্প ও কুটির শিল্প মেলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বিচারিক এলাকার একেবারে কাছে মাসব্যাপী মেলা আয়োজনের আগে জনস্বার্থ, নিরাপত্তা এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত ছিল। কালেক্টরেট গ্রীন ভিউ স্কুল শিক্ষার্থীর অভিভাবক মিজানুর রহমান বলেন, স্কুল ছুটির সময়ে যদি অতিরিক্ত ভিড় সৃষ্টি হয়, তাহলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়। মেলা আয়োজক কমিটির প্রধান সেলিম রেজার কাছে মেলার অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তীতে আর সাক্ষাৎ বা কোনো বক্তব্য দেননি। জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুসা জঙ্গি বলেন, মেলার উদ্দেশ্য স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকাশে সহায়তা করা। নিরাপত্তা ও যান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আদালত, সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে যাতে উচ্চ শব্দ বা হৈচৈ না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ.ন.ম. ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, মেলার অনুমতি জেলা প্রশাসন দিয়েছে। তারপরও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জনসাধারণের যেকোনো যৌক্তিক মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জজ আদালতের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি নিয়ে সমন্বিতভাবে আলোচনা করা হবে। সচেতন মহলের অভিমত, শিল্প ও কুটির শিল্প মেলা অবশ্যই আয়োজন করা উচিত। তবে এমন স্থানে আয়োজন হওয়া প্রয়োজন, যেখানে উদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক সুযোগ পাবেন, একই সঙ্গে প্রশাসনিক, বিচারিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে না এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও ন্যূনতম পর্যায়ে থাকবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও ভবিষ্যতে মেলার স্থান নির্বাচনকালে জনস্বার্থ, নিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।