সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুব সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল এবং জবাবদিহিমূলক করে তুলতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। সংগঠনের ভেতরে গুণগত পরিবর্তন আনার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা এবং অপকর্মের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর দিয়ে গেছে স্টিমরোলার। হাজার হাজার মিথ্যা মামলা, গুম, খুন ও কারা নির্যাতনের শিকার হয়েও রাজপথের লড়াকু সৈনিকরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন থেকে পিছু হটেনি। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর জনগণের প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়ে গেছে। জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে যুবদল : জনগণের এই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে এবং একটি গণতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণের যাত্রায় যুবদল নিজেদের অগ্রসৈনিক হিসেবে প্রস্তুত করছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন যুবদলের পরিধি ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেলেও, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে পারে এমন কোনো অপতৎপরতাকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় কমান্ড। গুণগত পরিবর্তন ও কঠোর হুঁশিয়ারি : জাতীয়তাবাদী যুবদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদল শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়, এটি শহিদ জিয়ার আদর্শে গড়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত একটি বিপ্লব ও পরিবর্তনের প্রতীক। বিগত ১৬ বছর ধরে আমাদের নেতাকর্মীরা রক্ত দিয়েছে, জেল খেটেছে। আজ যখন জনগণের রায়ে বা দেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে, তখন আমাদের দায়িত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যুবদলে কোনো পদ-পদবির লোভে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের স্থান হবে না। যুবদলে গুণগত পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অত্যন্ত পরিষ্কার, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা-ের সঙ্গে যুবদলের কোনো নেতাকর্মীর ন্যূনতম সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হবে এবং সাংগঠনিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অতীতে জনগণের অধিকারের জন্য লড়াই করেছি, আগামীতেও সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষায় যুবদল অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে। ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ার প্রত্যয় : যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন সংগঠনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য জোরদারকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমাদের মূল শক্তি আমাদের তৃণমূলের কর্মীরা। যারা দুঃসময়ে দলের পাশে থেকেছেন, তাদের মূল্যায়ন করাই আমাদের প্রথম কাজ। তবে এর পাশাপাশি আমাদের সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা যুবদলকে একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং জনমুখী যুব সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যেখানে মেধা, সততা এবং ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে। তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকার বা আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবদলের ভূমিকা হবে ইতিবাচক। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই, আমরা বিশ্বাস করি সংস্কার, জনসেবা এবং আইনের শাসনে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে আমাদের নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, দুর্যোগ-দুর্বিপাকে সহায়তা করছে এবং সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। কোনো কুচক্রী মহল যেন যুবদলের অর্জনকে ম্লান করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। অপকর্মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সনীতি : সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখল ও নানা অপকর্মের অভিযোগের বিষয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করেছে। যুবদলের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, দলের পরিচয় ব্যবহার করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক কার্যক্রম : শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন বা ক্ষমতার রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে যুবদল বর্তমানে নানা ধরনের জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ অভিযান, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুবদলের নেতাকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে দেশের যেকোনো সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা নিয়ে যুবদল মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও দিকনির্দেশনা : আগামী দিনে যুবদলকে একটি প্রগতিশীল ও আধুনিক যুবশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন: কমিটিতে স্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও সৎ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া। ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি : কেন্দ্রীয়ভাবে সকল নেতাকর্মীর সঠিক তথ্য ও কর্মদক্ষতার ডাটাবেস প্রস্তুত করা, যাতে কোনো অনুপ্রবেশকারী সুযোগ নিতে না পারে। সূত্র মতে, ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যুবদলের যেসব ইউনিটে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত সাপেক্ষে কমিটি স্থগিত বা নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যা তৃণমূলের কর্মকা- পর্যবেক্ষণ করছে। এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে সংগঠনের ভেতরে এক ধরনের শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝেও যুবদলের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
3:36 am, Monday, 3 August 2026
শিরোনাম :














