10:08 pm, Saturday, 1 August 2026

সরকারি হাসপাতালের উন্নয়ন ছাড়া গণসেবা নিশ্চিত অসম্ভব: শাহেদ

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:52:15 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দেশের সব সরকারি হাসপাতালগুলোর সার্বিক অবস্থার দ্রুত উন্নয়ন ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ‘নিরাপদ হাসপাতাল চাই’ (নিহাচ) এর সভাপতি ফারুক আহমেদ শাহেদ (এফ এ শাহেদ)। আজ শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট, শয্যা-স্বল্পতা, অচল চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ওষুধের ঘাটতি এবং জনবল সংকটে ভুগছে। ফলে প্রতিদিন লাখো মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শাহেদ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যা দখলের হার গড়ে ১১১ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ নির্ধারিত শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেককে মেঝেতে বা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। একইভাবে জেলা হাসপাতালগুলোতেও শয্যা সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তিনি আরও বলেন, রোগ নির্ণয়ের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফিসহ শত শত যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে রয়েছে। সংসদে দেওয়া তথ্যমতে, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রায় ৮৮০টি এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট অবস্থায় রয়েছে, যা দ্রুত মেরামত বা প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ প্রয়োজন। নিহাচ সভাপতি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ওষুধ সরবরাহ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নত করাও জরুরি। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, রোগীদের হয়রানি এবং চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ফারুক আহমেদ শাহেদ বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তাই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, অচল যন্ত্রপাতি সচল করা, প্রয়োজনীয় ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উপজেলা থেকে জেলা—সব স্তরের সরকারি হাসপাতালকে কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। কারণ শক্তিশালী সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছাড়া সবার জন্য সমতাভিত্তিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কখনোই সম্ভব নয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

সরকারি হাসপাতালের উন্নয়ন ছাড়া গণসেবা নিশ্চিত অসম্ভব: শাহেদ

Update Time : 08:52:15 pm, Saturday, 1 August 2026

দেশের সব সরকারি হাসপাতালগুলোর সার্বিক অবস্থার দ্রুত উন্নয়ন ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ‘নিরাপদ হাসপাতাল চাই’ (নিহাচ) এর সভাপতি ফারুক আহমেদ শাহেদ (এফ এ শাহেদ)। আজ শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট, শয্যা-স্বল্পতা, অচল চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ওষুধের ঘাটতি এবং জনবল সংকটে ভুগছে। ফলে প্রতিদিন লাখো মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শাহেদ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যা দখলের হার গড়ে ১১১ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ নির্ধারিত শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেককে মেঝেতে বা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। একইভাবে জেলা হাসপাতালগুলোতেও শয্যা সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তিনি আরও বলেন, রোগ নির্ণয়ের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফিসহ শত শত যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে রয়েছে। সংসদে দেওয়া তথ্যমতে, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রায় ৮৮০টি এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট অবস্থায় রয়েছে, যা দ্রুত মেরামত বা প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ প্রয়োজন। নিহাচ সভাপতি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ওষুধ সরবরাহ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নত করাও জরুরি। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, রোগীদের হয়রানি এবং চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ফারুক আহমেদ শাহেদ বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তাই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, অচল যন্ত্রপাতি সচল করা, প্রয়োজনীয় ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উপজেলা থেকে জেলা—সব স্তরের সরকারি হাসপাতালকে কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। কারণ শক্তিশালী সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছাড়া সবার জন্য সমতাভিত্তিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কখনোই সম্ভব নয়।