5:16 am, Saturday, 1 August 2026

মানবদেহে এইচআইভি প্রতিরোধে নতুন ওষুধের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:56:21 am, Saturday, 1 August 2026
  • 1
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

এইচআইভি সংক্রমণের চিকিৎসায় এক সম্ভাবনাময় বার্তা নিয়ে এসেছেন গবেষকেরা। এই ভাইরাস প্রতিরোধে ‘ভিএইচ-৪৯৯’ নামে একটি নতুন অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল বা এইচআইভি-প্রতিরোধী ওষুধের প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে মানবদেহে। নতুন এই ওষুধ ভাইরাসের ‘ক্যাপসিড’ নামক প্রোটিন আবরণীকে নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে কাজ করে, ফলে ভাইরাসটি শরীরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না এবং এটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতাও হারায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা ভিআইআইভি হেলথকেয়ারের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণার ফল পর্যালোচনা শেষে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেসে’ এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার দ্বিতীয় ধাপের (ফেজ-২) এই ট্রায়ালে পূর্বে কোনো ধরনের চিকিৎসা না নেওয়া ২৩ জন এইচআইভি-১ আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অংশ নেন। ট্রায়াল শুরুর আগে প্রত্যেকের রক্তে ভাইরাসের পরিমাণ ছিল বেশ উচ্চ মাত্রায়। অংশগ্রহণকারীদের তিনটি ভিন্ন মাত্রায় ভিএইচ-৪৯৯ ওষুধটি এবং একটি নিয়ন্ত্রণকারী দলকে সাধারণ প্লাসিবো দেওয়া হয়। মাত্র ১১ দিনের মাথায় দেখা যায়, যারা ওষুধটি সেবন করেছিলেন তাদের রক্তে ভাইরাসের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সেবনের মাত্রার ওপর নির্ভর করে এই কার্যকারিতা দেখা গেছে, অর্থাৎ যাদের বেশি মাত্রায় ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তাদের শরীর থেকে ভাইরাস দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে প্লাসিবো নেওয়া দলে ভাইরাসের মাত্রায় কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত অন্যান্য ইনজেকশন বা ট্যাবলেটের তুলনায় এই ওষুধটির একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এইচআইভির বিদ্যমান কিছু প্রচলিত ওষুধ মানুষের শরীরের ‘সিওয়াইপি৩এ৪’ নামে এনজাইমের কার্যকারিতায় হস্তক্ষেপ করে, যার ফলে অন্যান্য রোগের ওষুধ একসঙ্গে খেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তবে নতুন এই গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, ভিএইচ-৪৯৯ ওষুধটি ওই এনজাইমের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তেমন কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। ফলে যেসব এইচআইভি রোগী একই সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য জটিল রোগের জন্য একাধিক ওষুধ সেবন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকরী বিকল্প হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওষুধটি শুধু প্রাথমিক পরীক্ষামূলক ধাপে সাফল্য দেখিয়েছে এবং চিকিৎসকদের জন্য বাজারজাত করার আগে আরও বড় পরিসরে তৃতীয় ধাপের (ফেজ-৩) ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রয়োজন হবে। ব্যাপক জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষার মাধ্যমে এর চূড়ান্ত কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করা হবে। গবেষকদের আশা, এই ওষুধটি সফলভাবে বাজারে এলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের মধ্যে জনস্বাস্থ্য হুমকি হিসেবে এইচআইভি বিস্তার বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

মানবদেহে এইচআইভি প্রতিরোধে নতুন ওষুধের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন

Update Time : 03:56:21 am, Saturday, 1 August 2026

এইচআইভি সংক্রমণের চিকিৎসায় এক সম্ভাবনাময় বার্তা নিয়ে এসেছেন গবেষকেরা। এই ভাইরাস প্রতিরোধে ‘ভিএইচ-৪৯৯’ নামে একটি নতুন অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল বা এইচআইভি-প্রতিরোধী ওষুধের প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে মানবদেহে। নতুন এই ওষুধ ভাইরাসের ‘ক্যাপসিড’ নামক প্রোটিন আবরণীকে নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে কাজ করে, ফলে ভাইরাসটি শরীরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না এবং এটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতাও হারায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা ভিআইআইভি হেলথকেয়ারের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণার ফল পর্যালোচনা শেষে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেসে’ এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার দ্বিতীয় ধাপের (ফেজ-২) এই ট্রায়ালে পূর্বে কোনো ধরনের চিকিৎসা না নেওয়া ২৩ জন এইচআইভি-১ আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অংশ নেন। ট্রায়াল শুরুর আগে প্রত্যেকের রক্তে ভাইরাসের পরিমাণ ছিল বেশ উচ্চ মাত্রায়। অংশগ্রহণকারীদের তিনটি ভিন্ন মাত্রায় ভিএইচ-৪৯৯ ওষুধটি এবং একটি নিয়ন্ত্রণকারী দলকে সাধারণ প্লাসিবো দেওয়া হয়। মাত্র ১১ দিনের মাথায় দেখা যায়, যারা ওষুধটি সেবন করেছিলেন তাদের রক্তে ভাইরাসের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সেবনের মাত্রার ওপর নির্ভর করে এই কার্যকারিতা দেখা গেছে, অর্থাৎ যাদের বেশি মাত্রায় ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তাদের শরীর থেকে ভাইরাস দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে প্লাসিবো নেওয়া দলে ভাইরাসের মাত্রায় কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত অন্যান্য ইনজেকশন বা ট্যাবলেটের তুলনায় এই ওষুধটির একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এইচআইভির বিদ্যমান কিছু প্রচলিত ওষুধ মানুষের শরীরের ‘সিওয়াইপি৩এ৪’ নামে এনজাইমের কার্যকারিতায় হস্তক্ষেপ করে, যার ফলে অন্যান্য রোগের ওষুধ একসঙ্গে খেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তবে নতুন এই গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, ভিএইচ-৪৯৯ ওষুধটি ওই এনজাইমের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তেমন কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। ফলে যেসব এইচআইভি রোগী একই সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য জটিল রোগের জন্য একাধিক ওষুধ সেবন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকরী বিকল্প হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওষুধটি শুধু প্রাথমিক পরীক্ষামূলক ধাপে সাফল্য দেখিয়েছে এবং চিকিৎসকদের জন্য বাজারজাত করার আগে আরও বড় পরিসরে তৃতীয় ধাপের (ফেজ-৩) ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রয়োজন হবে। ব্যাপক জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষার মাধ্যমে এর চূড়ান্ত কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করা হবে। গবেষকদের আশা, এই ওষুধটি সফলভাবে বাজারে এলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের মধ্যে জনস্বাস্থ্য হুমকি হিসেবে এইচআইভি বিস্তার বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।