টেলিভিশন পর্দার প্রাণবন্ত উপস্থিতি, শুদ্ধ ও সাবলীল উচ্চারণ আর মিষ্টি হাসির জাদুতে যিনি একসময় জয় করেছিলেন কোটি দর্শকের মন, তিনি রুমানা মালিক মুনমুন। ২০০৬ সালের ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার শীর্ষ তারকাদের একজন মুনমুন শুধু অভিনয়েই নয়, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ জনপ্রিয় উপস্থাপক হিসেবে। তবে ব্যক্তিগত কারণে কয়েক বছর আগে কানাডায় স্থায়ী হওয়ার পর দেশের বিনোদন অঙ্গন থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে যান তিনি। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে ও চেনা সঞ্চালকের আসনে ফিরেছেন এই লাক্স তারকা। ফিরেই সমসাময়িক প্রসঙ্গে কথা বলেছেন রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুহুল আমিন ভূঁইয়া ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লিগ্যাসি’নিয়ে জানতে চাই অভিনয়, সংগীত, সাহিত্য, নাটক, নৃত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা গুণীদের জীবন-সংগ্রাম, সৃষ্টিশীলতা ও অভিজ্ঞতার গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানটি। ১৩ পর্বের এই অনুষ্ঠানটির শুটিং শেষ করে কানাডায় ফিরেছি। এতে যুক্ত হওয়ার কারণ কী? এই আয়োজনের ধারণাটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। শুধু বিনোদনের জন্য নয়; দেশের গুণী মানুষদের জীবন ও কাজ নিয়ে অর্থবহ আলোচনা দর্শকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ ছিল বলেই উপস্থাপনা করতে রাজি হয়েছি। আশা করছি, আমার ভক্ত এবং দর্শক অনুষ্ঠানটি উপভোগ করবেন। উপস্থাপনায় ফিরেছেন। অভিনয়ে ফিরবেন? আমি কানাডায় চাকরি করছি। স্বল্প সময়ের ছুটিতে এই অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছি। ভালো গল্প, শক্তিশালী চিত্রনাট্য এবং নিজের জন্য অর্থবহ কোনো চরিত্র পেলে ভবিষ্যতে অভিনয়ে ফেরার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করব। অভিনয়জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি নিয়ে জানতে চাই বড় পর্দার অভিনয়ের সংযম, ক্যামেরার ভাষা বোঝা এবং ডাবিংয়ের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো আমি সবচেয়ে বেশি শিখেছি পরিচালক তৌকীর আহমেদের কাছ থেকে। তার পরিচালনায় ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রে ‘মুনা’ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম। হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে নির্মিত সেই চলচ্চিত্রে আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর, আবুল হায়াত ও আফরোজা বানুর মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে পারা আমার অভিনয়জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। সেন্ট মার্টিনে দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুটিংয়ের স্মৃতি এখনও আমার কাছে অমলিন। তরুণ বয়সের উচ্ছ্বাস, সহশিল্পীদের আন্তরিকতা এবং দলগতভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাকে আজও আলোড়িত করে। আমার বিশ্বাস, সেই শিক্ষাই আমাকে পরবর্তী কাজগুলোতে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। দেশের চলচ্চিত্র দেখেন? দেশের বাইরে থাকলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতি আমার আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি। কানাডার প্রেক্ষাগৃহে সুযোগ পেলেই দেশের সিনেমা দেখি। বিদেশের মাটিতে বসে নিজের দেশের চলচ্চিত্র উপভোগ করা এক বিশেষ আবেগের বিষয়। গত দুই দশকে আমাদের চলচ্চিত্র কতটা এগিয়েছে? আগের থেকে আমাদের চলচ্চিত্রের কারিগরি মান, নির্মাণশৈলী এবং উপস্থাপনায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। এখন দেশের অনেক চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা প্রচলিত ধারা ভেঙে নতুন গল্প ও ভাষা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য ইতিবাচক সংকেত। ক্রমাগত সিনেমা হল কমছে। কী বলবেন? মাল্টিপ্লেক্সের আধুনিক সুবিধা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তুলনামূলক বেশি টিকিটমূল্যের কারণে সাধারণ ও গ্রামীণ দর্শক যেন সিনেমা দেখা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমাদের সিনেমার মূল দর্শক খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের সিনেমা দেখার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। সিঙ্গেল স্ক্রিনকে সংস্কার করে সময়োপযোগী গড়ে তুলতে হবে। পরিচালনা কিংবা প্রযোজনায় আগ্রহ আছে? সত্যি বলতে আমার আগ্রহ আছে। তবে এই দুই ক্ষেত্রেই তাড়াহুড়ো করার সুযোগ নেই। প্রযোজনার জন্য যেমন প্রয়োজন পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা, তেমনি প্রয়োজন দর্শকের আস্থা। আর পরিচালনা কেবল ইচ্ছার বিষয় নয়; এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ প্রস্তুতি, অভিজ্ঞতা এবং স্পষ্ট সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি। যখন আমি মনে করব, নিজের ভাবনাকে পরিপূর্ণভাবে পর্দায় তুলে ধরার মতো প্রস্তুতি হয়েছে, তখনই হয়তো এ ধরনের ভূমিকায় আমাকে দেখা যাবে।
3:57 am, Sunday, 2 August 2026
শিরোনাম :
অর্থবহ কোনো চরিত্র পেলে অভিনয়ে ফিরব
-
MIT ERP
- Update Time : 01:16:33 am, Sunday, 2 August 2026
- 9
Tag :
Popular Post

















