বাস্তবমুখী উপস্থাপন, নিবিড় আবেগ আর মধ্যবিত্তের চিরায়ত পারিবারিক অনুভূতির অনন্য রূপকার নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘মাইক’ কিংবা সর্বশেষে বিপুল ঝড় তোলা ‘এটা আমাদেরই গল্প’। দর্শকের ভালোবাসায় রাজ বারবার প্রমাণ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ গল্পই সবচেয়ে বড় বিনোদন। ট্রেন্ডের পেছনে না ছুটে নিজস্ব নির্মাণশৈলীতে গল্প বলা এবং নতুনদের সুযোগ দিয়ে নাট্যাঙ্গনে ভিন্ন ধারা বজায় রাখা এই জনপ্রিয় নির্মাতার নতুন ধারাবাহিক নাটক নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিবুল ইসলাম আফ্রিদি। বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে? বর্তমানে ব্যস্ততা যাচ্ছে আমার নতুন কাজ ‘ফিরে আসার গল্প’-এর প্রি-প্রোডাকশনের কাজ নিয়ে। গল্প, চরিত্র, লোকেশনসহ শুটিংয়ের আগের সব প্রস্তুতি গুছিয়ে নিচ্ছি। আপনার নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাটকের হারানো দর্শক এবং পারিবারিক গল্প পুনরায় ফিরেছে। আপনার কাজের ক্ষেত্রজুড়েই পারিবারিক সম্পর্ক। মধ্যবিত্ত পরিবারের আবেগ-অনুভূতি পর্দায় ফোটানোর এই অনুপ্রেরণা কীভাবে? মানুষের সবচেয়ে বড় গল্পগুলো আসলে তার নিজের পরিবারকে ঘিরেই। আমাদের হাসি, কান্না, অভিমান, ভালোবাসা, ভুল বোঝাবুঝি, সবকিছুর শুরু এবং শেষ কোথাও না কোথাও পরিবারে গিয়ে মিশে যায়। তাই আমার গল্পে পারিবারিক সম্পর্ক বারবার ফিরে আসে। পারিবারিক গল্পের নাটক নির্মাণ করতে গিয়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে? পারিবারিক গল্প নির্মাণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, গল্পটাকে একই সঙ্গে বাস্তব, আবেগপূর্ণ এবং বিনোদনমূলক রাখা। কারণ পরিবার নিয়ে গল্প করতে গেলে খুব সহজেই গল্পটা উপদেশমূলক বা অতিরিক্ত আবেগ নির্ভর হয়ে যেতে পারে। আমি সবসময় চেষ্টা করি, যেন চরিত্রগুলোকে একেবারে বাস্তব মানুষের মতো মনে হয়, তাদের ভালো দিক থাকবে, ভুল থাকবে, অভিমান থাকবে, আবার ভালোবাসাও থাকবে। ‘ফিরে আসার গল্প’ দর্শক কবে দেখতে পাবে? ‘ফিরে আসার গল্প’ দর্শকরা খুব শিগগিরই দেখতে পাবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট তারিখ খুব দ্রুতই অফিসিয়ালি জানিয়ে দেওয়া হবে। ইন্ডাস্ট্রিতে ধারাবাহিক নাটক জনপ্রিয়তা পেলে সেই ধারাবাহিক বেশ দীর্ঘ হয়। সেই তুলনায় আপনার ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। আপনি চাইলে আরও দীর্ঘ করতে পারতেন, কিন্তু করেননি কেন? কোনো গল্পকে অযথা টেনে লম্বা করলে তার মূল আবেগ ও শক্তি অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। দর্শক যে অনুভূতি নিয়ে গল্পের সঙ্গে যুক্ত হন, সেটি ধরে রাখাটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও আমি গল্পটাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ করিনি। আপনার অন্যান্য ধারাবাহিক নাটকের তুলনায় ‘এটা আমাদেরই গল্প’ আরও বেশি জনপ্রিয় ও সাফল্য পেয়েছে। এমন জনপ্রিয়তা অন্য কেউ পেলে একই শিল্পীদের নিয়ে আরও কয়েকটি ধারাবাহিক নির্মাণ হতো। কিন্তু আপনি একেবারেই ব্যতিক্রম। কারণ, আপনার নতুন ধারাবাহিক নাটকে পূর্বের কয়েকজন শিল্পী ছাড়া অধিকাংশই নেই। এই ট্রেন্ড এবং পুনরাবৃত্তি না করার কারণ কী? একজন নির্মাতার দায়িত্ব শুধু সফল ফর্মুলা অনুসরণ করা নয়, বরং নিজের দর্শককে নতুন গল্প, নতুন চরিত্র ও নতুন অনুভূতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এর সাফল্য আমার জন্য একটা বড় অনুপ্রেরণা, কিন্তু ‘ফিরে আসার গল্প’কে আমি সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখতে চাই না। আমি চাই, দর্শক নতুন এই গল্পটাকেও তার নিজস্ব পরিচয়ে ভালোবাসুক। ‘এটা আমাদেরই গল্প’-তে দুটি অসাধারণ গান দর্শক পেয়েছিল। আসন্ন ধারাবাহিকে কি এমন মন জুড়ানো সংগীত দর্শক পাবে? ইনশাআল্লাহ, এবারও দর্শক মন জুড়ানো কিছু গান পাবেন। ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এর মতো ‘ফিরে আসার গল্প’-এও মোট তিনটি গান থাকছে। গানগুলোতে কণ্ঠ দিচ্ছেন আরফিন রুমি, ইমরান, সজীব, পুলক, দোলা ও ন্যান্সি। আপনি বরাবরই গল্প অনুযায়ী কাস্টিং করতে পছন্দ করেন— কখনো বড় তারকা, আবার কখনো একেবারে নতুনদের সুযোগ দেন। ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনদের কাজের সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়াটাকে কীভাবে দেখেন? একজন নির্মাতার দায়িত্ব শুধু ভালো গল্প বলা নয়, সেই গল্পের মধ্য দিয়ে নতুন প্রতিভাদেরও সামনে আসার সুযোগ তৈরি করা। তাই ‘ফিরে আসার গল্প’-এও চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচিত শিল্পীদের পাশাপাশি কয়েকজন নতুন মুখকে দেখবেন দর্শক। আশা করছি, তাদের অনেকেই ভবিষ্যতে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নেবেন। তারকাদের শিডিউল বা বাজেটের চাপ সামলে গল্পভিত্তিক কাজ নির্মাণ করা কতটা কঠিন? আসলে বিষয়টা অনেকটাই নির্ভর করে কে, কীভাবে কাজটা পরিচালনা করছেন তার ওপর। তারকার শিডিউল, বাজেট কিংবা প্রোডাকশনের নানা সীমাবদ্ধতা— এসব তো কাজের অংশ। প্রত্যেকেরই নিজস্ব কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। একজন নির্মাতা হিসেবে আমার কাজ হলো সেই সীমাবদ্ধতাগুলোকে বুঝে পরিকল্পনা করা এবং সেখান থেকেই সবচেয়ে ভালো ফলটা বের করে আনা। ওটিটির জোয়ার বইছে। ভবিষ্যতে পুরোপুরি ওটিটি ভিত্তিক কোনো প্রজেক্ট বা বড় ওয়েবের কাজের পরিকল্পনা আছে? ওটিটি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আপাতত আমার নেই। কারণ আমার নিজের একটি প্ল্যাটফর্ম আছে, যেখানে নিয়মিত কনটেন্ট নির্মাণের পাশাপাশি পরিচালনা ও অন্যান্য অনেক বিষয়েও আমাকে সরাসরি সময় দিতে হয়। ফলে সবকিছু সামলাতে গিয়ে সময়ের ওপর বেশ চাপ পড়ে যায়। এখন নাটকের ক্ষেত্রে ইউটিউব ভিউ বা ট্রেন্ডিং একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিউ-কেন্দ্রিক কনটেন্ট বানানোর চাপ আর মানের সামঞ্জস্য রক্ষায় একজন নির্মাতার চ্যালেঞ্জগুলো কী কী? ভিউ খারাপ কিছু নয়। আমরা তো কাজ করি দর্শকের জন্য। সেই কাজ যদি দর্শক না দেখেন, তাহলে কনটেন্ট তৈরি করার মূল উদ্দেশ্যটাই অনেকটা অপূর্ণ থেকে যায়। তাই ভিউকে আমি নেতিবাচকভাবে দেখি না, বরং দর্শকের ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতার একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখি। আবার কবে সিনেমা নির্মাণে পাওয়া যাবে? সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছা অবশ্যই আছে। তবে এই মুহূর্তে আমার পুরো মনোযোগ ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’কে ঘিরে। সিরিজটির কাজ শেষ করার পরই একটু সময় নিয়ে ভাবব— কখন এবং কোন গল্প নিয়ে আবার সিনেমায় ফিরব।
2:28 am, Saturday, 1 August 2026
শিরোনাম :
পারিবারিক গল্পে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গল্পকে বাস্তব রাখা
-
MIT ERP
- Update Time : 01:22:00 am, Saturday, 1 August 2026
- 2
Tag :
Popular Post









