ভোরের আলো ফুটতেই বোকা নদীর বুক চিরে ছুটে চলে ছোট্ট একটি খেয়া নৌকা। নৌকার বৈঠা হাতে বসে থাকেন জিল্লু মিয়া। নদীর দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতের ভরসা হয়ে প্রতিদিন নৌকা নিয়ে ছুটে চলেন তিনি। আর সেই নৌকার বৈঠার টানেই ঘোরে তার সংসারের চাকা। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের বোকা নদীর খেয়ায় দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী পারাপার করছেন জিল্লু মিয়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে মানুষ পারাপার করেই তার জীবিকা। দিন শেষে কখনো ৩০০ টাকা, কখনো ৪০০ টাকা আয় হয়। এই সামান্য আয় দিয়েই চলে তার সংসারের নিত্যদিনের খরচ। বোকা নদীর এই খেয়া দিয়ে প্রতিদিন আলমপুর, ঘোড়াডুম্বুর, ডিগারকান্দি, নাজিমপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। স্থানীয়দের কাছে জিল্লু মিয়া শুধু একজন মাঝি নন, তিনি যেন নদীপথের আপনজন। প্রয়োজনের সময়ে তার খেয়া নৌকাই হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়ের মানুষের পারাপারের অন্যতম ভরসা। জীবনযুদ্ধে জিল্লু মিয়ার সঙ্গী একটি ছোট্ট খেয়া নৌকা আর হাতে ধরা একটি বৈঠা। নদীর ঢেউ, বৃষ্টি কিংবা প্রখর রোদ কোনো কিছুই থামাতে পারে না তার পথচলা। কারণ তার নৌকা থেমে গেলে থেমে যায় সংসারের আয়-রোজগারও। জিল্লু মিয়া বলেন, এই খেয়া নৌকা চালিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। এই টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালাতে অনেক কষ্ট হয়। তারপরও মানুষের পারাপারের সুবিধার কথা চিন্তা করে প্রতিদিন নৌকা নিয়ে নদীতে নামি। যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে, ততদিন এই কাজ করে যেতে চাই। উপকারভোগী শিক্ষার্থী আজহারুল হক তায়েফ বলেন, প্রতিদিন খেয়া পার হয়ে স্কুলে আসতে হয়। প্রায়ই নৌকা না থাকলে আমি স্কুলে আসতে পারি না। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, বোকা নদীর এ খেয়া দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ যাতায়াত করেন। জিল্লু মিয়া নিয়মিত মানুষ পারাপার করেন। তার নৌকা না থাকলে আমাদের চলাচলে অনেক ভোগান্তি পোহাতো হতো।
শিরোনাম :




















