আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

গাজা যুদ্ধ: বিশ্বমঞ্চে ইসরাইলের ওপর বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপ

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:55:43 pm, Wednesday, 23 September 2026
  • 23

গাজা যুদ্ধ: বিশ্বমঞ্চে ইসরাইলের ওপর বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতারা সাধারণ পরিষদের মঞ্চে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

প্রায় তিন বছর ধরে চলমান এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরাইল এখন কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে রয়েছে। অধিবেশনে বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা গাজার পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’, ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি’, ‘গণহত্যা’ এবং ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা জাতিগত নির্মূলের ঝুঁকি তৈরি করছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজাকে শিশুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় কবরস্থান এবং একটি ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ হিসেবে উল্লেখ করেন। কাতার ও জর্ডানের শীর্ষ নেতারাও গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞকে গণহত্যা এবং ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন।

কাতারের আমির অবিলম্বে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। ইসরাইলের সমালোচনায় শুধু আরব ও মুসলিম দেশগুলোই নয়, দেশটির কয়েকজন পশ্চিমা মিত্রও সরব হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজায় মানবিক করিডোর না খোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নীতি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে বলেও মন্তব্য করেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা করলেও বলেন, ওই হামলার ঘটনা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয় না। ব্রাজিল, সিরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও ইসরাইল সরকারের বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। শুধু বক্তৃতা ও বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ নেই এই আন্তর্জাতিক চাপ। গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কাতার, মিশর ও জর্ডানসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠক করেছেন।

এর পাশাপাশি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডাসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ ইসরাইলি বসতি এলাকা থেকে আসা পণ্যের বাণিজ্য সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বিশ্বশক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনে এশিয়ার উত্থান ও চীনের নতুন বৈশ্বিক প্রস্তাব

গাজা যুদ্ধ: বিশ্বমঞ্চে ইসরাইলের ওপর বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপ

Update Time : 03:55:43 pm, Wednesday, 23 September 2026

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতারা সাধারণ পরিষদের মঞ্চে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

প্রায় তিন বছর ধরে চলমান এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরাইল এখন কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে রয়েছে। অধিবেশনে বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা গাজার পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’, ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি’, ‘গণহত্যা’ এবং ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা জাতিগত নির্মূলের ঝুঁকি তৈরি করছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজাকে শিশুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় কবরস্থান এবং একটি ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ হিসেবে উল্লেখ করেন। কাতার ও জর্ডানের শীর্ষ নেতারাও গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞকে গণহত্যা এবং ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন।

কাতারের আমির অবিলম্বে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। ইসরাইলের সমালোচনায় শুধু আরব ও মুসলিম দেশগুলোই নয়, দেশটির কয়েকজন পশ্চিমা মিত্রও সরব হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজায় মানবিক করিডোর না খোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নীতি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে বলেও মন্তব্য করেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা করলেও বলেন, ওই হামলার ঘটনা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয় না। ব্রাজিল, সিরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও ইসরাইল সরকারের বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। শুধু বক্তৃতা ও বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ নেই এই আন্তর্জাতিক চাপ। গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কাতার, মিশর ও জর্ডানসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠক করেছেন।

এর পাশাপাশি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডাসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ ইসরাইলি বসতি এলাকা থেকে আসা পণ্যের বাণিজ্য সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।