আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৯%

মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: ভূরাজনৈতিক পটপরিবর্তন

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:37:13 pm, Friday, 30 October 2026
  • 19

মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: ভূরাজনৈতিক পটপরিবর্তন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পটভূমিতে এক চরম উদ্বেগজনক ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে অত্যন্ত নীরবে সেনা সরাতে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

একই সঙ্গে এই অঞ্চলের কয়েকটি প্রধান কূটনৈতিক মিশন থেকেও কূটনীতিক ও কর্মীদের সরাচ্ছে ওয়াশিংটন। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রুশ গণমাধ্যম আরটি নিশ্চিত করেছে যে জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থানরত আমেরিকান সেনাদের একটি বড় অংশকে অন্যত্র পুনর্বিন্যস্ত করা হচ্ছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা সীমিতসংখ্যক সেনা রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এই আকস্মিক সেনা প্রত্যাহারের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর ও ধ্বংসাত্মক সামরিক কৌশল।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা এই অঞ্চল থেকে পিছু হটছে না; বরং তারা এক নজিরবিহীন আঞ্চলিক সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে নিজেদের সেনা ও সামরিক সম্পদ নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রেখে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি অল-আউট যুদ্ধ বা গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী নকশা বাস্তবায়িত হতে চলেছে, যেন মুসলিম বিশ্ব নিজেদের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেই নিঃশেষ হয়ে যায়।

খবর বেরিয়েছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন পেন্টাগন কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ভূগর্ভস্থ সামরিক কেন্দ্র এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর খার্গ দ্বীপ ও কেশম দ্বীপে নতুন করে বিধ্বংসী হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছেন। আমেরিকার এই ধ্বংসাত্মক চক্রান্তের পেছনে কাজ করছে তাদের অতিসাম্প্রতিক সামরিক ব্যর্থতার গ্লানি ও আক্রোশ।

এর আগে ইরানের ওপর হামলা চালাতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে অভাবনীয় প্রতিঘাত ও প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল, সেই ক্ষতের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন। আমেরিকার প্রাথমিক ধারণা ছিল যে দুই-তিন দিন বা সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের একতরফা সামরিক অভিযানে ইরানকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু ইরানি সামরিক বাহিনী এবং সে দেশের জনগণের অভূতপূর্ব ও শক্ত প্রতিরোধের সামনে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, এমনকি পেন্টাগনের নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডারেও টান ধরতে শুরু করে।

যখন ওয়াশিংটন বুঝতে পারল যে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়, তখনই তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বকে ভেতর থেকে ধ্বংস করার জন্য কূটকৌশল অবলম্বন করে। এই চক্রান্তের সরাসরি ফল হিসেবেই দৃশ্যপটে হাজির করা হয় তথাকথিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বা জোট, যেখানে কৌশলে বিভিন্ন মুসলিম দেশকে একের পর এক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল স্থাপনাগুলোতে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা কূটাভাস বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, আমেরিকা ও ইজরাইল নিজেদের ছক অনুযায়ী হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সৌদি আরবকে গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে।

আর সৌদি আরব অর্থনীতি ও সামরিক দিক থেকে বিপর্যস্ত হওয়া মানে হলো গোটা মুসলিম বিশ্বের চালিকাশক্তি ভেঙে পড়া। কারণ সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও আফ্রিকার কোটি কোটি প্রবাসী মুসলিম কর্মী রাতদিন পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সই অনেক মুসলিম দেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ।

মক্কা জোট গঠনের নামে একদিকে মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তার বাণী শোনানো হলেও বাস্তবে তা মুসলিম শক্তিগুলোকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নিঃশেষ করে দেওয়ার এক অশুভ চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই বেপরোয়া যুদ্ধভাবনার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) পরিষ্কার ভাষায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে আমেরিকা যদি নতুন করে কোনো হামলার দুঃসাহস দেখায়, তবে তেহরান আর কেবল পরোক্ষ প্রতিরক্ষামূলক জবাবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত আমেরিকান ঘাঁটি এবং হামলা চালানো দেশগুলোর সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ধমনি হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও গত প্রায় আট মাস ধরে চলা তীব্র সংঘাতের কারণে যেকোনো শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমঝোতার পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশ্বজুড়ে সরবরাহ হওয়া জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হতো এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এই রণকৌশলগত জলপথে অচলাবস্থা ও হুতিদের ক্রমাগত আক্রমণের কারণে বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইরানি বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, মার্কিন-ইসরাইলি জোট আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ও জীবনযাত্রা অচল হয়ে যাবে এবং তার চরম জের ধরে বিশ্ব অর্থনীতি এক অনবধানযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী মন্দার মুখে পতিত হবে।

এই পুরো বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও ধ্বংসযজ্ঞের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্প যেদিন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো বা আমেরিকার ক্ষমতার শীর্ষ আসনে আসীন হয়েছেন, সেদিন থেকেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও শান্তিপ্রক্রিয়া মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি এমন এক উন্নাসিক, বেপরোয়া ও আত্মকেন্দ্রিক শাসক, যিনি বর্তমান মানবসভ্যতা ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য এক জলজ্যান্ত জঞ্জাল ছাড়া আর কিছুই নন।

এই মানুষরূপী সাম্রাজ্যবাদী জঞ্জাল যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবে, বিশ্বজুড়ে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। নিজের প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প তাঁর ইহুদি জামাতা জারেড কুশনারের ইশারায় ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আগুন জ্বালিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে জেরুজালেমে মার্কিন শক্ত ঘাঁটি ও দূতাবাস স্থানান্তর এবং ফিলিস্তিনকে ইজরাইলের পেটে ঢোকানোর জন্য তথাকথিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ও ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ নামক বিষাক্ত ফর্মুলা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের যুদ্ধবাজ গোষ্ঠীগুলো সরাসরি যুদ্ধ না করে মুসলিম বিশ্বের ভেতর জাতিগত, ধর্মীয় ও গোত্রীয় বিভাজন উসকে দিয়ে পরস্পরকে ধ্বংস করার নীতিতে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসী।

গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর আন্তর্জাতিক শান্তির ফাঁকা বুলি আওড়ানো এসব পশ্চিমা বিশ্বমোড়লদের মূল উদ্দেশ্যই হলো মুসলিম সম্প্রদায়কে চিরকাল তাদের অনুগত ও অর্থনৈতিকভাবে পরাধীন করে রাখা। এই সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদের শিকড় কিন্তু আজকের নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক ইতিহাস ও জটিল রাজনীতি। বিশ্ব রাজনীতিতে প্রায়ই একটি রূপক বা মেটাফরিক্যাল প্রশ্ন সামনে আসে—কুকুর কি লেজ নাড়ায়, নাকি লেজই কুকুরকে নাড়ায়?

আমেরিকা ও ইজরাইলের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের আধিপত্যের গভীরতা পর্যালোচনা করলেও এই প্রশ্নটি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেট যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইজরাইলসংক্রান্ত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে কখনো কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসে না। এতে খুব সহজেই বোঝা যায় যে প্রকৃতপক্ষে বর্ণবাদী জায়নবাদী ইজরাইলি শাসকরাই আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, পুঁজিবাদ ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে।

বিশ্বমঞ্চে স্বৈরাচারী ও অর্থনৈতিক শোষণ বন্ধে আমেরিকার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসন একদা সতর্ক করে বলেছিলেন যে অনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি রাষ্ট্রবিরোধী স্থায়ী সৈন্যবাহিনীর চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক। আজকের মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, মুসলিম বিশ্বের যেকোনো সম্ভাব্য উত্থান, ঐক্য এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাকে চিরতরে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার জন্যই অবৈধ ইজরাইল রাষ্ট্রটিকে এই অঞ্চলে পশ্চিমা শক্তির প্রধান লাঠিয়াল হিসেবে বসিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ওসমানীয় বা অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে ঐতিহাসিক সাইক্স-পিকো চুক্তি ও ১৯১৬ সালে স্যার মার্ক সাইক্স ও ফ্রঁসোয়া জর্জ পিকোর কূটনৈতিক বিভাজন নীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে কৃত্রিম সীমানায় টুকরো টুকরো করা হয়েছিল। এরপর বালফোর ডিক্লারেশন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি গণহত্যার ওপর দাঁড়িয়ে পশ্চিমা জনমতকে ব্যবহার করে আরবদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি দখল করে ইজরাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

পরবর্তীতে আমেরিকা বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি হয়ে উঠলেও সেই একশ বছর আগের সাম্রাজ্যবাদী ও মুসলিমবিদ্বেষী বন্দোবস্ত আজও বহাল রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ সনদ, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) বা বৈশ্বিক মানবতা—সবকিছুই আজ ইজরাইলি জায়নবাদের কাছে সম্পূর্ণ অকার্যকর ও পদদলিত। লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত করে প্রতিদিন সেখানে যে সিস্টেমেটিক গণহত্যা ও ভূমি দখল চলছে, তার পেছনে ইঙ্গ-মার্কিন শক্তিগুলোর প্রত্যক্ষ ইন্ধন এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও মধ্যপ্রাচ্যের এই আশঙ্কাজনক ধ্বংসচিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে মুসলিম বিশ্বের নীতি নির্ধারকদের চরম অদূরদর্শিতা এবং আত্মঘাতী বিভাজন অত্যন্ত মর্মান্তিক বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। মার্কিন ও ইসরাইলি সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্ত ও ফাঁদ বুঝতে ব্যর্থ হয়ে অনেক মুসলিম রাষ্ট্র আজ নিজেদের ভাইদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা অক্ষশক্তির মোড়লপনায় অংশ নিচ্ছে।

কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, কেবল পশ্চিমা বশ্যতা স্বীকার করে কোনো জাতি টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান মেরুকরণের বিশ্বে রাশিয়া ও চীনের মতো বিপরীতমুখী কৌশলগত জোটের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করা এবং নিজেদের মধ্যে সার্বভৌম অর্থনৈতিক ও সামরিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া মুসলিম বিশ্বের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। যদি এখনই মুসলিম রাষ্ট্রগুলো তাদের পারস্পরিক বিভেদ ও যুদ্ধ বন্ধ করে যৌথভাবে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়, তবে এই ক্ষয়িষ্ণু মধ্যপ্রাচ্য অচিরেই সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে এক চিরন্তন অন্ধকার ও বিনাশের অতল গহ্বরে তলিয়ে দেবে।

সুতরাং মার্কিন-জায়নবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সচেতনতা ও ইস্পাতকঠিন ঐক্যই হতে পারে এই মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়। মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সহায় হোন এবং সহীহ বুঝ নসিব করুন। লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নলডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে একজনের ১ বছরের কারাদণ্ড

মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: ভূরাজনৈতিক পটপরিবর্তন

Update Time : 07:37:13 pm, Friday, 30 October 2026

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পটভূমিতে এক চরম উদ্বেগজনক ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে অত্যন্ত নীরবে সেনা সরাতে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

একই সঙ্গে এই অঞ্চলের কয়েকটি প্রধান কূটনৈতিক মিশন থেকেও কূটনীতিক ও কর্মীদের সরাচ্ছে ওয়াশিংটন। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রুশ গণমাধ্যম আরটি নিশ্চিত করেছে যে জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থানরত আমেরিকান সেনাদের একটি বড় অংশকে অন্যত্র পুনর্বিন্যস্ত করা হচ্ছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা সীমিতসংখ্যক সেনা রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এই আকস্মিক সেনা প্রত্যাহারের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর ও ধ্বংসাত্মক সামরিক কৌশল।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা এই অঞ্চল থেকে পিছু হটছে না; বরং তারা এক নজিরবিহীন আঞ্চলিক সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে নিজেদের সেনা ও সামরিক সম্পদ নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রেখে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি অল-আউট যুদ্ধ বা গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী নকশা বাস্তবায়িত হতে চলেছে, যেন মুসলিম বিশ্ব নিজেদের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেই নিঃশেষ হয়ে যায়।

খবর বেরিয়েছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন পেন্টাগন কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ভূগর্ভস্থ সামরিক কেন্দ্র এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর খার্গ দ্বীপ ও কেশম দ্বীপে নতুন করে বিধ্বংসী হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছেন। আমেরিকার এই ধ্বংসাত্মক চক্রান্তের পেছনে কাজ করছে তাদের অতিসাম্প্রতিক সামরিক ব্যর্থতার গ্লানি ও আক্রোশ।

এর আগে ইরানের ওপর হামলা চালাতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে অভাবনীয় প্রতিঘাত ও প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল, সেই ক্ষতের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন। আমেরিকার প্রাথমিক ধারণা ছিল যে দুই-তিন দিন বা সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের একতরফা সামরিক অভিযানে ইরানকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু ইরানি সামরিক বাহিনী এবং সে দেশের জনগণের অভূতপূর্ব ও শক্ত প্রতিরোধের সামনে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, এমনকি পেন্টাগনের নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডারেও টান ধরতে শুরু করে।

যখন ওয়াশিংটন বুঝতে পারল যে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়, তখনই তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বকে ভেতর থেকে ধ্বংস করার জন্য কূটকৌশল অবলম্বন করে। এই চক্রান্তের সরাসরি ফল হিসেবেই দৃশ্যপটে হাজির করা হয় তথাকথিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বা জোট, যেখানে কৌশলে বিভিন্ন মুসলিম দেশকে একের পর এক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল স্থাপনাগুলোতে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা কূটাভাস বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, আমেরিকা ও ইজরাইল নিজেদের ছক অনুযায়ী হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সৌদি আরবকে গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে।

আর সৌদি আরব অর্থনীতি ও সামরিক দিক থেকে বিপর্যস্ত হওয়া মানে হলো গোটা মুসলিম বিশ্বের চালিকাশক্তি ভেঙে পড়া। কারণ সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও আফ্রিকার কোটি কোটি প্রবাসী মুসলিম কর্মী রাতদিন পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সই অনেক মুসলিম দেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ।

মক্কা জোট গঠনের নামে একদিকে মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তার বাণী শোনানো হলেও বাস্তবে তা মুসলিম শক্তিগুলোকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নিঃশেষ করে দেওয়ার এক অশুভ চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই বেপরোয়া যুদ্ধভাবনার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) পরিষ্কার ভাষায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে আমেরিকা যদি নতুন করে কোনো হামলার দুঃসাহস দেখায়, তবে তেহরান আর কেবল পরোক্ষ প্রতিরক্ষামূলক জবাবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত আমেরিকান ঘাঁটি এবং হামলা চালানো দেশগুলোর সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ধমনি হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও গত প্রায় আট মাস ধরে চলা তীব্র সংঘাতের কারণে যেকোনো শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমঝোতার পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশ্বজুড়ে সরবরাহ হওয়া জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হতো এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এই রণকৌশলগত জলপথে অচলাবস্থা ও হুতিদের ক্রমাগত আক্রমণের কারণে বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইরানি বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, মার্কিন-ইসরাইলি জোট আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ও জীবনযাত্রা অচল হয়ে যাবে এবং তার চরম জের ধরে বিশ্ব অর্থনীতি এক অনবধানযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী মন্দার মুখে পতিত হবে।

এই পুরো বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও ধ্বংসযজ্ঞের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্প যেদিন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো বা আমেরিকার ক্ষমতার শীর্ষ আসনে আসীন হয়েছেন, সেদিন থেকেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও শান্তিপ্রক্রিয়া মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি এমন এক উন্নাসিক, বেপরোয়া ও আত্মকেন্দ্রিক শাসক, যিনি বর্তমান মানবসভ্যতা ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য এক জলজ্যান্ত জঞ্জাল ছাড়া আর কিছুই নন।

এই মানুষরূপী সাম্রাজ্যবাদী জঞ্জাল যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবে, বিশ্বজুড়ে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। নিজের প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প তাঁর ইহুদি জামাতা জারেড কুশনারের ইশারায় ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আগুন জ্বালিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে জেরুজালেমে মার্কিন শক্ত ঘাঁটি ও দূতাবাস স্থানান্তর এবং ফিলিস্তিনকে ইজরাইলের পেটে ঢোকানোর জন্য তথাকথিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ও ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ নামক বিষাক্ত ফর্মুলা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের যুদ্ধবাজ গোষ্ঠীগুলো সরাসরি যুদ্ধ না করে মুসলিম বিশ্বের ভেতর জাতিগত, ধর্মীয় ও গোত্রীয় বিভাজন উসকে দিয়ে পরস্পরকে ধ্বংস করার নীতিতে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসী।

গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর আন্তর্জাতিক শান্তির ফাঁকা বুলি আওড়ানো এসব পশ্চিমা বিশ্বমোড়লদের মূল উদ্দেশ্যই হলো মুসলিম সম্প্রদায়কে চিরকাল তাদের অনুগত ও অর্থনৈতিকভাবে পরাধীন করে রাখা। এই সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদের শিকড় কিন্তু আজকের নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক ইতিহাস ও জটিল রাজনীতি। বিশ্ব রাজনীতিতে প্রায়ই একটি রূপক বা মেটাফরিক্যাল প্রশ্ন সামনে আসে—কুকুর কি লেজ নাড়ায়, নাকি লেজই কুকুরকে নাড়ায়?

আমেরিকা ও ইজরাইলের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের আধিপত্যের গভীরতা পর্যালোচনা করলেও এই প্রশ্নটি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেট যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইজরাইলসংক্রান্ত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে কখনো কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসে না। এতে খুব সহজেই বোঝা যায় যে প্রকৃতপক্ষে বর্ণবাদী জায়নবাদী ইজরাইলি শাসকরাই আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, পুঁজিবাদ ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে।

বিশ্বমঞ্চে স্বৈরাচারী ও অর্থনৈতিক শোষণ বন্ধে আমেরিকার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসন একদা সতর্ক করে বলেছিলেন যে অনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি রাষ্ট্রবিরোধী স্থায়ী সৈন্যবাহিনীর চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক। আজকের মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, মুসলিম বিশ্বের যেকোনো সম্ভাব্য উত্থান, ঐক্য এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাকে চিরতরে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার জন্যই অবৈধ ইজরাইল রাষ্ট্রটিকে এই অঞ্চলে পশ্চিমা শক্তির প্রধান লাঠিয়াল হিসেবে বসিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ওসমানীয় বা অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে ঐতিহাসিক সাইক্স-পিকো চুক্তি ও ১৯১৬ সালে স্যার মার্ক সাইক্স ও ফ্রঁসোয়া জর্জ পিকোর কূটনৈতিক বিভাজন নীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে কৃত্রিম সীমানায় টুকরো টুকরো করা হয়েছিল। এরপর বালফোর ডিক্লারেশন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি গণহত্যার ওপর দাঁড়িয়ে পশ্চিমা জনমতকে ব্যবহার করে আরবদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি দখল করে ইজরাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

পরবর্তীতে আমেরিকা বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি হয়ে উঠলেও সেই একশ বছর আগের সাম্রাজ্যবাদী ও মুসলিমবিদ্বেষী বন্দোবস্ত আজও বহাল রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ সনদ, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) বা বৈশ্বিক মানবতা—সবকিছুই আজ ইজরাইলি জায়নবাদের কাছে সম্পূর্ণ অকার্যকর ও পদদলিত। লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত করে প্রতিদিন সেখানে যে সিস্টেমেটিক গণহত্যা ও ভূমি দখল চলছে, তার পেছনে ইঙ্গ-মার্কিন শক্তিগুলোর প্রত্যক্ষ ইন্ধন এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও মধ্যপ্রাচ্যের এই আশঙ্কাজনক ধ্বংসচিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে মুসলিম বিশ্বের নীতি নির্ধারকদের চরম অদূরদর্শিতা এবং আত্মঘাতী বিভাজন অত্যন্ত মর্মান্তিক বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। মার্কিন ও ইসরাইলি সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্ত ও ফাঁদ বুঝতে ব্যর্থ হয়ে অনেক মুসলিম রাষ্ট্র আজ নিজেদের ভাইদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা অক্ষশক্তির মোড়লপনায় অংশ নিচ্ছে।

কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, কেবল পশ্চিমা বশ্যতা স্বীকার করে কোনো জাতি টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান মেরুকরণের বিশ্বে রাশিয়া ও চীনের মতো বিপরীতমুখী কৌশলগত জোটের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করা এবং নিজেদের মধ্যে সার্বভৌম অর্থনৈতিক ও সামরিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া মুসলিম বিশ্বের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। যদি এখনই মুসলিম রাষ্ট্রগুলো তাদের পারস্পরিক বিভেদ ও যুদ্ধ বন্ধ করে যৌথভাবে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়, তবে এই ক্ষয়িষ্ণু মধ্যপ্রাচ্য অচিরেই সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে এক চিরন্তন অন্ধকার ও বিনাশের অতল গহ্বরে তলিয়ে দেবে।

সুতরাং মার্কিন-জায়নবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সচেতনতা ও ইস্পাতকঠিন ঐক্যই হতে পারে এই মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়। মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সহায় হোন এবং সহীহ বুঝ নসিব করুন। লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।