তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়ার উন্নয়নে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে তিন থেকে আট বিঘা খাসজমি চিহ্নিত করে সংস্কারের মাধ্যমে খেলার মাঠ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং তরুণ-তরুণীদের জন্য এসব মাঠ উন্মুক্ত রাখা হবে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
জেলা স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন ও সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের আট বিভাগের স্টেডিয়ামে ইনডোর সুবিধা, সুইমিংপুল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ক্রীড়া অবকাঠামোর সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতি তদন্তের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) কাজ করছে। প্রতিটি ক্রীড়া সংস্থা ও ফেডারেশনকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টন, আর্চারি ও শুটিংসহ ১৫টি ইভেন্ট নিয়ে বছরব্যাপী ক্রীড়া ক্যালেন্ডার চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এতে বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র পর্যায়ের খেলোয়াড়েরা অংশ নেবেন। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে ৫০৩টি উপজেলায় অনলাইনে এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন। ভবিষ্যতের ক্রীড়াবিদ তৈরির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম আসরের ৩০৬ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ৪০ জনকে নির্বাচিত করে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) পড়াশোনার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোকসানা বেগম, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাসুদ রানাসহ অন্যরা। পরে প্রতিমন্ত্রী ২০ দিনব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন।












