আজ রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬০%

নদীর বুকে কোটি টাকার আমড়ার হাট, কৃষকের তীরে দীর্ঘশ্বাস

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:28:56 pm, Saturday, 31 October 2026
  • 15

নদীর বুকে কোটি টাকার আমড়ার হাট, কৃষকের তীরে দীর্ঘশ্বাস

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নদীর বুকে সারি সারি পানসি নৌকা। নৌকাভর্তি সবুজ-হলুদ আমড়া। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক আর দরদামে মুখর চারপাশ। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে নদীর চরে বসে এই ব্যতিক্রমী ভাসমান আমড়ার হাট। দূরদূরান্ত থেকে আসেন পাইকাররা।

কয়েক ঘণ্টার বেচাকেনায় লেনদেন হয় প্রায় কোটি টাকা। অথচ যাঁদের শ্রমে ফলেছে এসব আমড়া, সেই কৃষকদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ, কম দাম ও সংরক্ষণের অভাবে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না তাঁরা। পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আমড়ার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এখানকার সুস্বাদু ও মিষ্টি আমড়ার চাহিদা রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী, রাজশাহী ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায়।

আমড়াকে ঘিরে গড়ে উঠেছে কৃষি, শ্রম, পরিবহন ও ব্যবসার বিশাল কর্মযজ্ঞ। স্থানীয়দের দাবি, এ অঞ্চলের প্রায় ৬০ হাজার কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমড়ার বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নেছারাবাদে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে চার হাজারের মতো বাগানে আমড়ার আবাদ হয়েছে।

চলতি মৌসুমে প্রতি হেক্টরে গড়ে ১৬ থেকে ১৭ মেট্রিক টন আমড়া উৎপাদিত হয়েছে। সে হিসাবে মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। নদীর বুকে ব্যতিক্রমী ভাসমান হাট নেছারাবাদ ও ঝালকাঠি উপজেলার নদীসংলগ্ন আদমকাঠি, জিন্দাকাঠি, ভিমরুল, কুড়িয়ানা ও আটঘর এলাকায় আমড়ার উৎপাদন ও বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ভাসমান বাজার।

প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার আদমকাঠি ও ভিমরুলের নদী-খালের চরে পানসি নৌকায় বসে এ হাট। কৃষকেরা নৌকায় করে বাগানের আমড়া নিয়ে আসেন। পাইকাররা নৌকায় নৌকায় ঘুরে দরদাম করে সেসব আমড়া কেনেন। পরে তা পৌঁছে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। স্থানীয় চাষিদের দাবি, সপ্তাহে এসব হাটে প্রায় কোটি টাকার আমড়া বেচাকেনা হয়। ভাসমান এই বাজার শুধু কৃষিপণ্য কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ভালো ফলনেও লাভের খাতায় ঘাটতি আমড়াচাষি অমল বলেন, উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে বাড়ছে না আমড়ার দাম। জমির পরিচর্যা, সার, শ্রমিকের মজুরি, ফল সংগ্রহ ও পরিবহন—প্রতিটি পর্যায়ে খরচ বেড়েছে। অথচ আমড়া দ্রুত পেকে যাওয়ায় বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে ফল বিক্রি করতে হয়। আরেক চাষি অমর বলেন, একসময় আমড়াচাষ করে কৃষকেরা ভালো লাভ করতেন।

এখন উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো আয় হচ্ছে না। দ্রুত হিমাগার নির্মাণ করা না হলে আমড়া ও পেয়ারা চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী চাষ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে। চাষিদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম ও অতিরিক্ত গরমের কারণে আমড়া দ্রুত পেকে যাচ্ছে। এতে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ফল বাজারে ওঠায় দাম কমে যাচ্ছে।

পচনশীল হওয়ায় সংরক্ষণের সুযোগ না পেয়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই কম দামে আমড়া বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের। ঝুঁকিতে পাইকার ও ব্যবসায়ীরাও আমড়ার বাজারে শুধু কৃষকেরাই নন, পাইকার ও ব্যবসায়ীদেরও নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নোয়াখালীর আমড়া ব্যবসায়ী সেলিম সিকদার বলেন, আমড়া পচনশীল ফল হওয়ায় দ্রুত বিক্রি করতে হয়। চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম ও অতিরিক্ত গরমের কারণে ফল দ্রুত পেকে যাওয়ায় তাঁদের ঝুঁকি বেড়েছে।

সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা, পরিবহন ব্যয় এবং ফল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়েই তাঁরা আমড়া কেনেন। আমড়ার আড়তদার সুভাষ কুমার সিকদার বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারদরের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদে আমড়াচাষে আগ্রহ হারাতে পারেন। একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আমড়া সংরক্ষণ করে ধাপে ধাপে বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

এতে একসঙ্গে অতিরিক্ত ফল বাজারে ওঠার চাপ কমবে এবং কৃষকেরা তাড়াহুড়ো করে কম দামে আমড়া বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। হিমাগার, প্রশিক্ষণ ও সহজ ঋণের দাবি স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, নেছারাবাদে আমড়া ও পেয়ারা সংরক্ষণের উপযোগী আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা জরুরি। তবে হিমাগার নির্মাণের আগে ফলের প্রকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও সংরক্ষণপ্রযুক্তি কৃষি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি উৎপাদনের পরিমাণ, সংরক্ষণ ব্যয় ও কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, কৃষকেরা কৃষি কার্যালয়ে আবেদন করলে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নেছারাবাদের আমড়াচাষ ও ভাসমান হাট শুধু কৃষিপণ্যের বাণিজ্যকেন্দ্র নয়; এটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই খাত টিকিয়ে রাখতে কৃষক, ব্যবসায়ী, কৃষি বিভাগ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নদীর বুকে পানসি নৌকায় কোটি টাকার আমড়ার বাণিজ্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ অঞ্চলের আমড়ার সুনাম—সবই রয়েছে। এখন প্রয়োজন কৃষকের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা।

কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে তাই স্থানীয়দের প্রধান দাবি, নেছারাবাদে একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

চাঁদপুরে এইচএসসিতে পাসের হার ৪৫.০৫, আলিমে ৬৪.২৭ শতাংশ

নদীর বুকে কোটি টাকার আমড়ার হাট, কৃষকের তীরে দীর্ঘশ্বাস

Update Time : 11:28:56 pm, Saturday, 31 October 2026

নদীর বুকে সারি সারি পানসি নৌকা। নৌকাভর্তি সবুজ-হলুদ আমড়া। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক আর দরদামে মুখর চারপাশ। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে নদীর চরে বসে এই ব্যতিক্রমী ভাসমান আমড়ার হাট। দূরদূরান্ত থেকে আসেন পাইকাররা।

কয়েক ঘণ্টার বেচাকেনায় লেনদেন হয় প্রায় কোটি টাকা। অথচ যাঁদের শ্রমে ফলেছে এসব আমড়া, সেই কৃষকদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ, কম দাম ও সংরক্ষণের অভাবে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না তাঁরা। পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আমড়ার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এখানকার সুস্বাদু ও মিষ্টি আমড়ার চাহিদা রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী, রাজশাহী ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায়।

আমড়াকে ঘিরে গড়ে উঠেছে কৃষি, শ্রম, পরিবহন ও ব্যবসার বিশাল কর্মযজ্ঞ। স্থানীয়দের দাবি, এ অঞ্চলের প্রায় ৬০ হাজার কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমড়ার বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নেছারাবাদে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে চার হাজারের মতো বাগানে আমড়ার আবাদ হয়েছে।

চলতি মৌসুমে প্রতি হেক্টরে গড়ে ১৬ থেকে ১৭ মেট্রিক টন আমড়া উৎপাদিত হয়েছে। সে হিসাবে মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। নদীর বুকে ব্যতিক্রমী ভাসমান হাট নেছারাবাদ ও ঝালকাঠি উপজেলার নদীসংলগ্ন আদমকাঠি, জিন্দাকাঠি, ভিমরুল, কুড়িয়ানা ও আটঘর এলাকায় আমড়ার উৎপাদন ও বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ভাসমান বাজার।

প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার আদমকাঠি ও ভিমরুলের নদী-খালের চরে পানসি নৌকায় বসে এ হাট। কৃষকেরা নৌকায় করে বাগানের আমড়া নিয়ে আসেন। পাইকাররা নৌকায় নৌকায় ঘুরে দরদাম করে সেসব আমড়া কেনেন। পরে তা পৌঁছে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। স্থানীয় চাষিদের দাবি, সপ্তাহে এসব হাটে প্রায় কোটি টাকার আমড়া বেচাকেনা হয়। ভাসমান এই বাজার শুধু কৃষিপণ্য কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ভালো ফলনেও লাভের খাতায় ঘাটতি আমড়াচাষি অমল বলেন, উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে বাড়ছে না আমড়ার দাম। জমির পরিচর্যা, সার, শ্রমিকের মজুরি, ফল সংগ্রহ ও পরিবহন—প্রতিটি পর্যায়ে খরচ বেড়েছে। অথচ আমড়া দ্রুত পেকে যাওয়ায় বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে ফল বিক্রি করতে হয়। আরেক চাষি অমর বলেন, একসময় আমড়াচাষ করে কৃষকেরা ভালো লাভ করতেন।

এখন উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো আয় হচ্ছে না। দ্রুত হিমাগার নির্মাণ করা না হলে আমড়া ও পেয়ারা চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী চাষ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে। চাষিদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম ও অতিরিক্ত গরমের কারণে আমড়া দ্রুত পেকে যাচ্ছে। এতে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ফল বাজারে ওঠায় দাম কমে যাচ্ছে।

পচনশীল হওয়ায় সংরক্ষণের সুযোগ না পেয়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই কম দামে আমড়া বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের। ঝুঁকিতে পাইকার ও ব্যবসায়ীরাও আমড়ার বাজারে শুধু কৃষকেরাই নন, পাইকার ও ব্যবসায়ীদেরও নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নোয়াখালীর আমড়া ব্যবসায়ী সেলিম সিকদার বলেন, আমড়া পচনশীল ফল হওয়ায় দ্রুত বিক্রি করতে হয়। চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম ও অতিরিক্ত গরমের কারণে ফল দ্রুত পেকে যাওয়ায় তাঁদের ঝুঁকি বেড়েছে।

সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা, পরিবহন ব্যয় এবং ফল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়েই তাঁরা আমড়া কেনেন। আমড়ার আড়তদার সুভাষ কুমার সিকদার বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারদরের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদে আমড়াচাষে আগ্রহ হারাতে পারেন। একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আমড়া সংরক্ষণ করে ধাপে ধাপে বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

এতে একসঙ্গে অতিরিক্ত ফল বাজারে ওঠার চাপ কমবে এবং কৃষকেরা তাড়াহুড়ো করে কম দামে আমড়া বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। হিমাগার, প্রশিক্ষণ ও সহজ ঋণের দাবি স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, নেছারাবাদে আমড়া ও পেয়ারা সংরক্ষণের উপযোগী আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা জরুরি। তবে হিমাগার নির্মাণের আগে ফলের প্রকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও সংরক্ষণপ্রযুক্তি কৃষি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি উৎপাদনের পরিমাণ, সংরক্ষণ ব্যয় ও কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, কৃষকেরা কৃষি কার্যালয়ে আবেদন করলে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নেছারাবাদের আমড়াচাষ ও ভাসমান হাট শুধু কৃষিপণ্যের বাণিজ্যকেন্দ্র নয়; এটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই খাত টিকিয়ে রাখতে কৃষক, ব্যবসায়ী, কৃষি বিভাগ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নদীর বুকে পানসি নৌকায় কোটি টাকার আমড়ার বাণিজ্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ অঞ্চলের আমড়ার সুনাম—সবই রয়েছে। এখন প্রয়োজন কৃষকের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা।

কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে তাই স্থানীয়দের প্রধান দাবি, নেছারাবাদে একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপন।