বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একদিনে চার নবজাতকের জন্ম হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের জন্ম হয়েছে স্বাভাবিক প্রসবে, অন্য তিনজনের জন্ম হয়েছে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। একদিনে চার নবজাতকের আগমনে হাসপাতালজুড়ে আনন্দমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক প্রসবে সন্তান জন্ম দেওয়া প্রসূতি উর্মি খাতুনের বয়স ২১ বছর। তিনি শেরপুর উপজেলার শালফা গ্রামের সাজু মিয়ার স্ত্রী। অন্যদিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া তিন প্রসূতি হলেন—বগুড়ার ধুনট উপজেলার ফকিরহাট এলাকার রবিউল ইসলামের স্ত্রী জলি খাতুন (২৬), শেরপুর উপজেলার হোসেনবাদ গ্রামের চাঁদিনী খাতুন (৩০) এবং একই উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের আবু তালেবের স্ত্রী নার্গিস বেগম (২৫)।
হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনুসূয়া রায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারগুলো করেন। অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. মমিনুল ইসলাম। এ সময় স্টাফ নার্সরা অস্ত্রোপচার ও প্রসূতিদের সেবায় সহযোগিতা করেন। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, গত অক্টোবর মাসে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি ভূমিকা রাখছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম বলেন, “মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসূতিদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
একদিনে চার নবজাতকের জন্ম আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। এ সাফল্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ” তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, এলাকার কোনো মা যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং নিরাপদ প্রসবের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা নেওয়ার আহ্বান জানাই।
” একদিনে চার নবজাতকের জন্মে তাঁদের স্বজনদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।





















