আজ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১৬%

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরিতে যাত্রী পারাপারে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:16:53 am, Tuesday, 3 November 2026
  • 16

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরিতে যাত্রী পারাপারে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার ঐতিহ্যবাহী পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরিতে লুজ বা হেঁটে যাওয়া যাত্রী পারাপারে চরম নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে ঘাট নিয়ন্ত্রক ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা-এর বিরুদ্ধে।

সরকারি নির্ধারিত ভাড়াকে তোয়াক্কা না করে প্রতিটি টিকিটে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো উৎসব বা ছুটির দিন ছাড়াও সাধারণ কর্মদিবসগুলোতেও যাত্রীদের জিম্মি করে বাড়তি টাকা পকেটস্থ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিযুক্ত টিকিট সংগ্রাহকরা। সরকার কর্তৃক লুজ যাত্রীদের ফেরি পারাপারের জন্য প্রতি টিকিটের মূল্য ৪৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও টিকিট কাউন্টার থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে রাখা হচ্ছে ৫০ টাকা।

কোনো যাত্রী অতিরিক্ত পাঁচ টাকা দেওয়ার প্রতিবাদ করলে কাউন্টারের কর্মচারীদের হাতে নাজেহাল ও আপত্তিকর আচরণের শিকার হতে হচ্ছে। ঘাটে পারাপার হতে আসা এক দিনমজুর বলেন, কাজের তাগিদে প্রতিদিন নদী পার হতে হয়। সরকার যে ভাড়া ঠিক করেছে, তার চেয়ে বেশি টাকা দিয়েই টিকিট কাটতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে কাউন্টার থেকে বলা হয়Ñ ‘টিকিট নিলে নেন, না নিলে চলে যান।

’ আমাদের ভোগান্তি দেখার যেন কেউ নেই। নিয়মিত যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই নৌরুটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে টিকিট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। আরেক ভুক্তভোগী যাত্রী বলেন, টিকিট মূল্য ৪৫ টাকা হলেও ৫০ টাকার নিচে তারা টিকিট দিচ্ছে না। কেন ৫ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছেÑ এমন প্রশ্ন তুললে কর্মচারীরা দূরব্যবহার করে এবং হাসিমুখে বলে যে, এ ৫ টাকা নাকি তাদের ‘সকালের নাস্তার খরচ’!

অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে কাউন্টারে টাকা কালেকশনে থাকা কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তারা জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের দৈনিক মাত্র ২৫০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়। এই স্বল্প মজুরির কারণে ঘাট থেকে তোলা বাড়তি ওই ৫ টাকাকে তারা নিজেদের প্রাপ্য বলেই মনে করছেন।

যাত্রীদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে মেসার্স মোস্তফা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, যদি আমাদের কোনো কর্মরত কালেক্টর ৪৫ টাকার বেশি নিয়ে থাকে, তবে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে মেসার্স মোস্তফা-এর স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তফা খানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির আরিচা আঞ্চলিক অফিসের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম আব্দুস সালাম বলেন, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যক্তি বা কর্মচারী অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন, তবে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরিতে যাত্রী পারাপারে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

Update Time : 12:16:53 am, Tuesday, 3 November 2026

দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার ঐতিহ্যবাহী পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরিতে লুজ বা হেঁটে যাওয়া যাত্রী পারাপারে চরম নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে ঘাট নিয়ন্ত্রক ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা-এর বিরুদ্ধে।

সরকারি নির্ধারিত ভাড়াকে তোয়াক্কা না করে প্রতিটি টিকিটে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো উৎসব বা ছুটির দিন ছাড়াও সাধারণ কর্মদিবসগুলোতেও যাত্রীদের জিম্মি করে বাড়তি টাকা পকেটস্থ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিযুক্ত টিকিট সংগ্রাহকরা। সরকার কর্তৃক লুজ যাত্রীদের ফেরি পারাপারের জন্য প্রতি টিকিটের মূল্য ৪৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও টিকিট কাউন্টার থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে রাখা হচ্ছে ৫০ টাকা।

কোনো যাত্রী অতিরিক্ত পাঁচ টাকা দেওয়ার প্রতিবাদ করলে কাউন্টারের কর্মচারীদের হাতে নাজেহাল ও আপত্তিকর আচরণের শিকার হতে হচ্ছে। ঘাটে পারাপার হতে আসা এক দিনমজুর বলেন, কাজের তাগিদে প্রতিদিন নদী পার হতে হয়। সরকার যে ভাড়া ঠিক করেছে, তার চেয়ে বেশি টাকা দিয়েই টিকিট কাটতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে কাউন্টার থেকে বলা হয়Ñ ‘টিকিট নিলে নেন, না নিলে চলে যান।

’ আমাদের ভোগান্তি দেখার যেন কেউ নেই। নিয়মিত যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই নৌরুটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে টিকিট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। আরেক ভুক্তভোগী যাত্রী বলেন, টিকিট মূল্য ৪৫ টাকা হলেও ৫০ টাকার নিচে তারা টিকিট দিচ্ছে না। কেন ৫ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছেÑ এমন প্রশ্ন তুললে কর্মচারীরা দূরব্যবহার করে এবং হাসিমুখে বলে যে, এ ৫ টাকা নাকি তাদের ‘সকালের নাস্তার খরচ’!

অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে কাউন্টারে টাকা কালেকশনে থাকা কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তারা জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের দৈনিক মাত্র ২৫০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়। এই স্বল্প মজুরির কারণে ঘাট থেকে তোলা বাড়তি ওই ৫ টাকাকে তারা নিজেদের প্রাপ্য বলেই মনে করছেন।

যাত্রীদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে মেসার্স মোস্তফা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, যদি আমাদের কোনো কর্মরত কালেক্টর ৪৫ টাকার বেশি নিয়ে থাকে, তবে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে মেসার্স মোস্তফা-এর স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তফা খানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির আরিচা আঞ্চলিক অফিসের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম আব্দুস সালাম বলেন, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যক্তি বা কর্মচারী অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন, তবে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।