আজ বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

আলামত গায়েবের ফাঁদে বিচার প্রক্রিয়া

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:34:02 pm, Monday, 2 November 2026
  • 27

আলামত গায়েবের ফাঁদে বিচার প্রক্রিয়া

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

অভিযানে উদ্ধার হয় দেড় লাখ ইয়াবা, কিন্তু পুলিশের জব্দ তালিকায় ওঠে ৫০ হাজার। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রেরও থাকে না কোনো উল্লেখ। আবার আদালতের মালখানায় ধ্বংসের অপেক্ষায় থাকা ইয়াবা সরিয়ে বিক্রির অভিযোগ ওঠে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, পুলিশ কর্মকর্তার বাসা থেকেই উদ্ধার হয় ৯০ হাজার ইয়াবা ও বিপুল নগদ টাকা। মাদক উদ্ধারের পর তা কোথায় গেল, কার হেফাজতে থাকল, পরীক্ষাগারে পাঠানোর আগে বা আদালতে উপস্থাপনের সময় তার পরিমাণ ও প্রকৃতিতে কোনো পরিবর্তন হলো কি না— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসছে সার্বিক ব্যবস্থাপনার এক দুর্বল জায়গা।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, পুলিশ, বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা প্রতিদিন যে পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে তার একটি বড় অংশই জব্দ তালিকায় ওঠে না এবং সেগুলো আবার চলে যায় মাদক বিক্রেতাদের কাছেই। পুলিশের একাধিক সূত্রমতে, দেশের থানা ও আদালতের মালখানায় বছরের পর বছর পড়ে থাকছে জব্দ করা মাদক, অস্ত্র, নগদ টাকা, যানবাহনসহ বিভিন্ন মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত।

অনেক স্থানে নেই পর্যাপ্ত জায়গা, আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা কিংবা কার্যকর নজরদারি। আলামত জব্দের পর থেকে আদালতে উপস্থাপন পর্যন্ত কে কখন সেটি গ্রহণ করলেন, কোথায় রাখলেন, কখন বের করলেন— তার নির্ভরযোগ্য কোনো ডিজিটাল হিসাবও নেই। এই দুর্বলতার সুযোগে আলামত গায়েব, পরিমাণে অসংগতি কিংবা প্রতিস্থাপনের অভিযোগ উঠছে। ফলে অপরাধ প্রমাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিয়েই তৈরি হচ্ছে সংশয়।

বিশেষ করে মাদক মামলায় উদ্ধার করা নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জব্দ করা মাদক পরীক্ষাগারে পাঠানোর পর তার পরিচয়, উপাদান কিংবা পরিমাণ নিয়ে অসংগতি দেখা দিলে আসামিপক্ষের সামনে তৈরি হয় প্রশ্ন তোলার সুযোগ। আলামতের পরিচয় ও ধারাবাহিক হেফাজত নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার বদলে তখন বিচারপ্রক্রিয়াই আটকে যায় আলামতের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নে। সাম্প্রতিক সময়ের একটি ঘটনা। ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের মালখানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. রেজাউল করিমকে ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে সূত্রাপুর থানা পুলিশ। আদালতের হাজতখানা ও মাদক ধ্বংস শাখায় দায়িত্ব পালন করতেন তিনি।

অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে ধ্বংসের জন্য তালিকাভুক্ত মাদকের লট থেকে আসল ইয়াবা সরিয়ে বাইরে বিক্রি করছিলেন তিনি। ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের নির্দেশে ধ্বংস করার জন্য রাখা মাদক যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির হাতেই নিরাপদ না থাকে, তাহলে অন্য মামলার আলামতের সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত— সে প্রশ্ন সামনে এসেছে এই ঘটনায়।

এটি কেবল একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নয়; বরং আদালতের হেফাজতে থাকা আলামত ব্যবস্থাপনার ওপরও বড় প্রশ্ন। কক্সবাজারের উখিয়ায় গত ২২ অক্টোবরের একটি অভিযান ঘিরে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র থেকে জানা যায়, বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন থাইংখালী স্টেশন এলাকায় অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছৈয়দুল বশর ওরফে সিসি বশরকে আটক করে পুলিশ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের দাবি, এ সময় দেড় লাখ পিস ইয়াবা এবং একটি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়। কিন্তু পুলিশের জব্দ তালিকায় ইয়াবার পরিমাণ উল্লেখ করা হয় ৫০ হাজার পিস। অস্ত্রটিরও কোনো উল্লেখ ছিল না। অর্থাৎ স্থানীয়দের দাবি সত্য হলে উদ্ধার করা মাদকের এক লাখ পিস এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্রের হিসাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং থানার ওসির কাছে মৌখিক ক্ষোভও জানান। গণমাধ্যমেও ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে এক লাখ পিস ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জব্দ তালিকার অসংগতি নিষ্পত্তির আগেই ২৫ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপার উখিয়া থানায় গিয়ে এসআই কিবরিয়া ও তার দলের সদস্যদের নগদ অর্থ পুরস্কার ও স্বীকৃতি দেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের তদন্তের আগে পুরস্কার দেওয়ার ঘটনাটিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল এক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা এবং নগদ ৩৬ লাখ ২০ হাজার ৮৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আটক করা হয় ওই পুলিশ কর্মকর্তার শ্যালক মোমেন মেহেদী আশিক, তার স্ত্রী ও এক সহযোগীকে। স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করেন, শ্যালকের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা কোনো সংস্থারই জব্দ তালিকায় নেই। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হেফাজত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ মাদক উদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।

উদ্ধার করা মাদক যথাযথভাবে জব্দ, নথিভুক্ত ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। পুলিশের সাবেক ডিআইজি আজিজুল হক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আধুনিক যুগেও বাংলাদেশে আলামত সংরক্ষণ করা হয় পুরোনো পদ্ধতিতে। মাদক বা অস্ত্র জব্দের পর তা প্যাকেট বা পুটলিতে ভরে সিলগালা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কাপড়ের পুটলিতে গলিত গালা বা মোম ব্যবহার করে সিলগালা করা হয়।

সিলের উদ্দেশ্য হলো, জব্দের পর প্যাকেটটি খোলা বা পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা। কিন্তু সিল থাকলেই আলামত শতভাগ নিরাপদ— এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, সিলগালার পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক নথিভুক্তি, আলামতের ছবি, ওজন, নমুনা সংগ্রহের বিবরণ, গ্রহণ ও হস্তান্তরের রেকর্ড এবং প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিচয় সংরক্ষণ।

শুধু সিলের ওপর নির্ভর করে আলামতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। তিনি আরও বলেন, অপরাধী চক্র বা অসাধু দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি সিল জাল বা পুনরায় প্যাকেট সিল করার সুযোগ পায়, তাহলে আসল আলামত সরিয়ে অন্য বস্তু রাখার আশঙ্কা তৈরি হয়। মাদক মামলায় এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারের রাসায়নিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরীক্ষায় উপাদানের অসংগতি পাওয়া গেলেই যে আলামত প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন, নষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা পরীক্ষার পদ্ধতিগত ত্রুটিও এর কারণ হতে পারে। তাই প্রতিটি অসংগতির স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। পুলিশ সূত্রমতে, মালখানার অবকাঠামোগত দুরবস্থাও সংকটকে গভীর করছে। সম্প্রতি পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ৭৪০টি থানা এবং ২২৭টি আদালতের মালখানার মধ্যে মাত্র ৩৭২টি ব্যবহার উপযোগী।

অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক জব্দ করা আলামত মালখানায় রাখার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। কোথাও জায়গার সংকট, কোথাও জরাজীর্ণ ভবন, আবার কোথাও দীর্ঘদিনের অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ আলামত। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গত ৮ জুলাই হাইকোর্ট অধস্তন আদালত ও থানার মালখানায় জব্দ করা মালামাল সংরক্ষণ এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ১২ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। আদালতের এই উদ্যোগ মালখানার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের দুর্বলতা দূর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি এখনো অজানা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, গত ১৬ জুলাই সরকার ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন-২০২৬’ পাস করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব আধুনিক মালখানা স্থাপনের আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরপরই অধিদপ্তর নিজস্ব আধুনিক মালখানা স্থাপন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিকীকরণ এবং কর্মপরিকল্পনা রূপরেখা গ্রহণ করেছে।

ধারা ২৮ক অনুযায়ী আলামত সংরক্ষণে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, বিশেষায়িত মালখানা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত অপরাধের জন্য সাইবার ক্রাইম কন্ট্রোল ব্রাঞ্চ গঠন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে দ্রুত ৬৭১টি শূন্যপদ পূরণ এবং মাঠপর্যায়ে আলামত অনুসন্ধানে বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে জব্দকৃত মাদক ধ্বংসের নিয়ম করা হয়েছে এবং বিচারিক গতি বাড়াতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পাবলিক প্রসিকিউটরের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আইনি সংস্কার ও রোডম্যাপ তৈরি হলেও সময়মতো অর্থায়ন, দ্রুত সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং সারা দেশে লজিস্টিক সাপোর্ট পৌঁছানোই এখন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মালখানাতেই সিসিটিভি ক্যামেরা, প্রবেশ ও বের হওয়ার ডিজিটাল রেকর্ড, বারকোড বা কিউআর কোডভিত্তিক আলামত শনাক্তকরণ, ওজন ও ছবি সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল হেফাজত-রেকর্ড চালু করা প্রয়োজন।

কোনো আলামত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া হলে কে নিয়েছেন, কখন নিয়েছেন, কার কাছে জমা দিয়েছেন— সব তথ্য তাৎক্ষণিক নথিভুক্ত থাকতে হবে। ফরেনসিক পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠানোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর করা জরুরি। সাবেক আইজিপি খন্দকার হাসান মাহমুদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অপরাধীকে শনাক্ত, গ্রেপ্তার কিংবা বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করাই বিচারপ্রক্রিয়ার শেষ কথা নয়।

উদ্ধার করা আলামত আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন এবং তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একটি মামলায় আসামির বিরুদ্ধে যত শক্ত অভিযোগই থাকুক, আলামতের ধারাবাহিকতা ও সত্যতা নিয়ে যুক্তিসংগত সন্দেহ তৈরি হলে বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। শুধু আইন পরিবর্তন বা অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না। যতদিন পর্যন্ত মালখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য শক্ত সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল রেজিস্ট্রি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না যাবে, ততদিন আলামতের অপব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।

মনে রাখতে হবে, মালখানার অন্ধকারে আলামত হারিয়ে গেলে শুধু মাদক বা অস্ত্রের হিসাব হারায় না, দুর্বল হয়ে পড়ে রাষ্ট্রের বিচারিক ভিত্তিও। সার্বিক বিষয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য বা যে কেউ জড়িত থাকলে তার কোনো ছাড় নেই। সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জায়গায় এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড বা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানিতে বড় শুল্ক ছাড় দিল এনবিআর

আলামত গায়েবের ফাঁদে বিচার প্রক্রিয়া

Update Time : 10:34:02 pm, Monday, 2 November 2026

অভিযানে উদ্ধার হয় দেড় লাখ ইয়াবা, কিন্তু পুলিশের জব্দ তালিকায় ওঠে ৫০ হাজার। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রেরও থাকে না কোনো উল্লেখ। আবার আদালতের মালখানায় ধ্বংসের অপেক্ষায় থাকা ইয়াবা সরিয়ে বিক্রির অভিযোগ ওঠে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, পুলিশ কর্মকর্তার বাসা থেকেই উদ্ধার হয় ৯০ হাজার ইয়াবা ও বিপুল নগদ টাকা। মাদক উদ্ধারের পর তা কোথায় গেল, কার হেফাজতে থাকল, পরীক্ষাগারে পাঠানোর আগে বা আদালতে উপস্থাপনের সময় তার পরিমাণ ও প্রকৃতিতে কোনো পরিবর্তন হলো কি না— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসছে সার্বিক ব্যবস্থাপনার এক দুর্বল জায়গা।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, পুলিশ, বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা প্রতিদিন যে পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে তার একটি বড় অংশই জব্দ তালিকায় ওঠে না এবং সেগুলো আবার চলে যায় মাদক বিক্রেতাদের কাছেই। পুলিশের একাধিক সূত্রমতে, দেশের থানা ও আদালতের মালখানায় বছরের পর বছর পড়ে থাকছে জব্দ করা মাদক, অস্ত্র, নগদ টাকা, যানবাহনসহ বিভিন্ন মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত।

অনেক স্থানে নেই পর্যাপ্ত জায়গা, আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা কিংবা কার্যকর নজরদারি। আলামত জব্দের পর থেকে আদালতে উপস্থাপন পর্যন্ত কে কখন সেটি গ্রহণ করলেন, কোথায় রাখলেন, কখন বের করলেন— তার নির্ভরযোগ্য কোনো ডিজিটাল হিসাবও নেই। এই দুর্বলতার সুযোগে আলামত গায়েব, পরিমাণে অসংগতি কিংবা প্রতিস্থাপনের অভিযোগ উঠছে। ফলে অপরাধ প্রমাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিয়েই তৈরি হচ্ছে সংশয়।

বিশেষ করে মাদক মামলায় উদ্ধার করা নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জব্দ করা মাদক পরীক্ষাগারে পাঠানোর পর তার পরিচয়, উপাদান কিংবা পরিমাণ নিয়ে অসংগতি দেখা দিলে আসামিপক্ষের সামনে তৈরি হয় প্রশ্ন তোলার সুযোগ। আলামতের পরিচয় ও ধারাবাহিক হেফাজত নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার বদলে তখন বিচারপ্রক্রিয়াই আটকে যায় আলামতের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নে। সাম্প্রতিক সময়ের একটি ঘটনা। ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের মালখানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. রেজাউল করিমকে ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে সূত্রাপুর থানা পুলিশ। আদালতের হাজতখানা ও মাদক ধ্বংস শাখায় দায়িত্ব পালন করতেন তিনি।

অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে ধ্বংসের জন্য তালিকাভুক্ত মাদকের লট থেকে আসল ইয়াবা সরিয়ে বাইরে বিক্রি করছিলেন তিনি। ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের নির্দেশে ধ্বংস করার জন্য রাখা মাদক যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির হাতেই নিরাপদ না থাকে, তাহলে অন্য মামলার আলামতের সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত— সে প্রশ্ন সামনে এসেছে এই ঘটনায়।

এটি কেবল একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নয়; বরং আদালতের হেফাজতে থাকা আলামত ব্যবস্থাপনার ওপরও বড় প্রশ্ন। কক্সবাজারের উখিয়ায় গত ২২ অক্টোবরের একটি অভিযান ঘিরে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র থেকে জানা যায়, বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন থাইংখালী স্টেশন এলাকায় অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছৈয়দুল বশর ওরফে সিসি বশরকে আটক করে পুলিশ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের দাবি, এ সময় দেড় লাখ পিস ইয়াবা এবং একটি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়। কিন্তু পুলিশের জব্দ তালিকায় ইয়াবার পরিমাণ উল্লেখ করা হয় ৫০ হাজার পিস। অস্ত্রটিরও কোনো উল্লেখ ছিল না। অর্থাৎ স্থানীয়দের দাবি সত্য হলে উদ্ধার করা মাদকের এক লাখ পিস এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্রের হিসাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং থানার ওসির কাছে মৌখিক ক্ষোভও জানান। গণমাধ্যমেও ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে এক লাখ পিস ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জব্দ তালিকার অসংগতি নিষ্পত্তির আগেই ২৫ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপার উখিয়া থানায় গিয়ে এসআই কিবরিয়া ও তার দলের সদস্যদের নগদ অর্থ পুরস্কার ও স্বীকৃতি দেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের তদন্তের আগে পুরস্কার দেওয়ার ঘটনাটিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল এক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা এবং নগদ ৩৬ লাখ ২০ হাজার ৮৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আটক করা হয় ওই পুলিশ কর্মকর্তার শ্যালক মোমেন মেহেদী আশিক, তার স্ত্রী ও এক সহযোগীকে। স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করেন, শ্যালকের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা কোনো সংস্থারই জব্দ তালিকায় নেই। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হেফাজত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ মাদক উদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।

উদ্ধার করা মাদক যথাযথভাবে জব্দ, নথিভুক্ত ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। পুলিশের সাবেক ডিআইজি আজিজুল হক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আধুনিক যুগেও বাংলাদেশে আলামত সংরক্ষণ করা হয় পুরোনো পদ্ধতিতে। মাদক বা অস্ত্র জব্দের পর তা প্যাকেট বা পুটলিতে ভরে সিলগালা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কাপড়ের পুটলিতে গলিত গালা বা মোম ব্যবহার করে সিলগালা করা হয়।

সিলের উদ্দেশ্য হলো, জব্দের পর প্যাকেটটি খোলা বা পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা। কিন্তু সিল থাকলেই আলামত শতভাগ নিরাপদ— এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, সিলগালার পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক নথিভুক্তি, আলামতের ছবি, ওজন, নমুনা সংগ্রহের বিবরণ, গ্রহণ ও হস্তান্তরের রেকর্ড এবং প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিচয় সংরক্ষণ।

শুধু সিলের ওপর নির্ভর করে আলামতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। তিনি আরও বলেন, অপরাধী চক্র বা অসাধু দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি সিল জাল বা পুনরায় প্যাকেট সিল করার সুযোগ পায়, তাহলে আসল আলামত সরিয়ে অন্য বস্তু রাখার আশঙ্কা তৈরি হয়। মাদক মামলায় এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারের রাসায়নিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরীক্ষায় উপাদানের অসংগতি পাওয়া গেলেই যে আলামত প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন, নষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা পরীক্ষার পদ্ধতিগত ত্রুটিও এর কারণ হতে পারে। তাই প্রতিটি অসংগতির স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। পুলিশ সূত্রমতে, মালখানার অবকাঠামোগত দুরবস্থাও সংকটকে গভীর করছে। সম্প্রতি পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ৭৪০টি থানা এবং ২২৭টি আদালতের মালখানার মধ্যে মাত্র ৩৭২টি ব্যবহার উপযোগী।

অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক জব্দ করা আলামত মালখানায় রাখার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। কোথাও জায়গার সংকট, কোথাও জরাজীর্ণ ভবন, আবার কোথাও দীর্ঘদিনের অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ আলামত। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গত ৮ জুলাই হাইকোর্ট অধস্তন আদালত ও থানার মালখানায় জব্দ করা মালামাল সংরক্ষণ এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ১২ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। আদালতের এই উদ্যোগ মালখানার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের দুর্বলতা দূর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি এখনো অজানা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, গত ১৬ জুলাই সরকার ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন-২০২৬’ পাস করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব আধুনিক মালখানা স্থাপনের আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরপরই অধিদপ্তর নিজস্ব আধুনিক মালখানা স্থাপন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিকীকরণ এবং কর্মপরিকল্পনা রূপরেখা গ্রহণ করেছে।

ধারা ২৮ক অনুযায়ী আলামত সংরক্ষণে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, বিশেষায়িত মালখানা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত অপরাধের জন্য সাইবার ক্রাইম কন্ট্রোল ব্রাঞ্চ গঠন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে দ্রুত ৬৭১টি শূন্যপদ পূরণ এবং মাঠপর্যায়ে আলামত অনুসন্ধানে বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে জব্দকৃত মাদক ধ্বংসের নিয়ম করা হয়েছে এবং বিচারিক গতি বাড়াতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পাবলিক প্রসিকিউটরের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আইনি সংস্কার ও রোডম্যাপ তৈরি হলেও সময়মতো অর্থায়ন, দ্রুত সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং সারা দেশে লজিস্টিক সাপোর্ট পৌঁছানোই এখন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মালখানাতেই সিসিটিভি ক্যামেরা, প্রবেশ ও বের হওয়ার ডিজিটাল রেকর্ড, বারকোড বা কিউআর কোডভিত্তিক আলামত শনাক্তকরণ, ওজন ও ছবি সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল হেফাজত-রেকর্ড চালু করা প্রয়োজন।

কোনো আলামত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া হলে কে নিয়েছেন, কখন নিয়েছেন, কার কাছে জমা দিয়েছেন— সব তথ্য তাৎক্ষণিক নথিভুক্ত থাকতে হবে। ফরেনসিক পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠানোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর করা জরুরি। সাবেক আইজিপি খন্দকার হাসান মাহমুদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অপরাধীকে শনাক্ত, গ্রেপ্তার কিংবা বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করাই বিচারপ্রক্রিয়ার শেষ কথা নয়।

উদ্ধার করা আলামত আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন এবং তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একটি মামলায় আসামির বিরুদ্ধে যত শক্ত অভিযোগই থাকুক, আলামতের ধারাবাহিকতা ও সত্যতা নিয়ে যুক্তিসংগত সন্দেহ তৈরি হলে বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। শুধু আইন পরিবর্তন বা অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না। যতদিন পর্যন্ত মালখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য শক্ত সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল রেজিস্ট্রি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না যাবে, ততদিন আলামতের অপব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।

মনে রাখতে হবে, মালখানার অন্ধকারে আলামত হারিয়ে গেলে শুধু মাদক বা অস্ত্রের হিসাব হারায় না, দুর্বল হয়ে পড়ে রাষ্ট্রের বিচারিক ভিত্তিও। সার্বিক বিষয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য বা যে কেউ জড়িত থাকলে তার কোনো ছাড় নেই। সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জায়গায় এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড বা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।