দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় এক হাজার ৮০০ শিক্ষক-কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে ৩৬তম বিসিএসের কর্মকর্তারা ৯ বছর, ৩৭তম বিসিএসের কর্মকর্তারা ৮ বছর এবং ৩৮তম বিসিএসের কর্মকর্তারা প্রায় ৭ বছর ধরে একই পদে কর্মরত।
চাকরিতে যোগদানের পর পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও তারা এখনো সহকারী অধ্যাপক হতে পারেননি। এ অবস্থায় দ্রুত পদোন্নতির দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ৩৮তম বিসিএসের শিক্ষক-কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া স্মারকলিপি ও মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ বিষয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে পদোন্নতিজনিত জটিলতা নিরসন, প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে বৈষম্য দূর করার দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ৩৬তম থেকে ৩৮তম ব্যাচের প্রায় ১ হাজার ৮০০ কর্মকর্তা পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রভাষক পদেই কর্মরত।
অথচ একই সময়ে চাকরিতে যোগ দেওয়া অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়েছেন। এমনকি কয়েকটি ক্যাডারে ৩৮তম বিসিএসের কর্মকর্তাদেরও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দাবি, অতীতে শিক্ষা ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তাকে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হতে ১১ থেকে ১৩ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।
এতে পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কর্মস্পৃহাও কমছে। স্মারকলিপিতে পদোন্নতি আটকে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত পদ না থাকা এবং নিয়মিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, দেশের শীর্ষ ১১টি সরকারি কলেজে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৮৫টি সহকারী অধ্যাপকের পদ।
এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। দ্রুত পদগুলো সৃষ্টি করা হলে শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতিজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমবে। এছাড়া স্মারকলিপির সঙ্গে যুক্ত তথ্যে ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের পদ শূন্য থাকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, শিক্ষা ক্যাডারের মোট ৯২৯টি পদের বিপরীতে ২১৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
বাকি ৭১৩টি পদে কাউকে সুপারিশ করা হয়নি। অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ পদ ফাঁকা রয়েছে। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মতে, নিয়মিত পদোন্নতি ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ সীমিত থাকায় মেধাবীদের মধ্যে শিক্ষা ক্যাডারে যোগদানের আগ্রহ কমছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান ও সরকারি কলেজগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পদোন্নতির জটিলতা নিরসনে যেসব দাবি স্মারকলিপিতে ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের পদোন্নতিযোগ্য সব কর্মকর্তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ জন্য নিয়মিত ডিপিসি সভা আয়োজন এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বিষয়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি এবং বিদ্যমান শূন্যপদ দ্রুত পূরণের দাবি জানানো হয়েছে। পদসংকট নিরসনে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
শিক্ষক-কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়া হলে বিদ্যমান পদস্বল্পতার কারণে সৃষ্ট জটিলতা কমবে। একই সঙ্গে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ বাড়বে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তারা।
তারা দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্মারকলিপির একটি অনুলিপি হস্তান্তর করেন। এ সময় মাউশির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন, উপপরিচালক (সরকারি কলেজ-১) অধ্যাপক মো. নুরুল হক সিকদারসহ ৩৮তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাউশি মহাপরিচালক তাদের দাবিগুলো শুনেছেন এবং পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

























