কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকায় দেশজুড়ে চলছে গ্যাসের তীব্র সংকট। প্রাকৃতিক গ্যাসের অভাবে বাসাবাড়িতে জ্বলছে না চুলা। বন্ধ রয়েছে শিল্প কারখানার অনেক যন্ত্রপাতি। এমনকি পরিবহন খাতেও তৈরি হয়েছে অরাজকতা। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে আগস্ট মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানো হয়েছে। ১২ কেজির এক একটি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ৭০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। যা আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। গ্রাহকরা আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছিল প্রাকৃতিক গ্যাসের এ সংকট এলপিজির দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা। গতকাল রোববার বিইআরসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে আগস্ট মাসের জন্য এলপিজির এই নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রিটেইলার পয়েন্টে ভোক্তা পর্যায়ে মূসকসহ নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত এই দাম এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন এই দাম বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের নামে দাম বাড়ানো এ ঘোষণা বিইআরসির পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও দেশের কোথাও তাদের নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যায় না এলপিজির সিলিন্ডার। রাজধানীসহ দেশের প্রায় প্রতিটা এলাকার খুচরা থেকে পাইকারি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতারা সিলিন্ডার প্রতি অন্তত: ৩শ থেকে ৫শ টাকা বাড়তি আদায় করছেন ক্রেতাদের কাছ থেকে বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বাজারের কোথাও ২ হাজার টাকার নিচে পাওয়া যায় না অভিযোগ করে রাজধানীর একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত অর্জুন সূত্রধর বলেন, প্রতিমাসে এই এলপিজির নতুন দাম ঘোষণার নামে সরকার যে নাটকটা করে এর কোনো মানে নেই। দাম বাড়ানোর ঘোষণা মানেই একলাফে কয়েকগুণ দাম বেশি আদায় করার লাইসেন্স দিয়ে দেওয়া বিক্রেতাদের। এ মাসে বেড়েছে ৭০ টাকা। কিন্তু বাজারের কোথাও বাড়তি ৫শ টাকার কমে একটি সিলিন্ডার কেনা প্রায় অসম্ভব। ১৬শ’ টাকার একেকটি সিলিন্ডার কখনো কখনো আড়াই হাজার টাকায়ও কিনতে হয়। এর বিচার কার কাছে চাইব? নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্যের বাজার যখন চড়া তখন অত্যন্ত জরুরি এই পণ্যের এমন বাড়তি দামে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, যদি সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রিই না হয় তাহলে প্রতি মাসে দাম সমন্বয়ের নাটক কেন করা হয়? গতকাল সোমবার রাজধানীর শান্তিনগর, মৌচাক, মগবাজার, হাতিরপুল, গ্রিনরোডসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে কোথাও ২ হাজার টাকার নিচে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা দাম নির্ধারণ করা হলেও কেন ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে রাজধানীর মগবাজারের গাবতলা এলাকার নুরুল এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা বলেন, ‘আপনেরে কেডা কইছে দাম ১৫৯৮ টাকা। ২ হাজার টাকার নিচে এক টাকা কমেও মিলবে না সিলিন্ডার। নিলে নেন নাইলে যান।’ প্রায় একই রকমভাবে তাচ্ছিল্যের সুরে মগাবাজার রেলগেট এলাকার আহমেদ এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা শিপন মিয়া বলেন, ‘সরকার কত টাকা নির্ধারণ কইরা দিছে আমরা জানি না। মালিক আমাগো কইছে ২ হাজার টাকার কম এক টাকাও রাখা যাইব না। আপনের দাম আপনে নিজের কাছে রাখেন।’ যদিও বিইআরসির পক্ষে হুঁশিয়ারি করে বলা হয়েছে, কোনো পর্যায়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে এলপিজি বিক্রি করা যাবে না। তবে নির্ধারিত দামের কোনো তোয়াক্কা না করে বাজারে ব্যবসায়ীরা নিজেদের সুবিধামতো দাম আদায় করছে ভোক্তাদের কাছ থেকে। এক্ষেত্রে নেই বাজার তদারকির পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও।
3:51 am, Monday, 3 August 2026
শিরোনাম :
Popular Post

















