10:18 pm, Saturday, 1 August 2026

নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় নান্দাইলে পিইডিপি-৪ প্রকল্পের ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা ফেরত

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:16:16 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে না পারায় এবং সময় বৃদ্ধি করেও কাজ শেষ না হওয়ায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি-৪) প্রায় ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণ এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল। বরাদ্দের অর্থ ফেরত যাওয়ায় এসব নির্মাণকাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো বিপাকে পড়েছে। এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬টি বিদ্যালয়ের ফটকসহ সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পৃথক কক্ষ নির্মাণের কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদাররা কাজ শেষ করতে না পারায় তারা একাধিকবার সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। বর্ধিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও অনেক প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছু প্রকল্পের অগ্রগতি ২০ শতাংশেরও কম। এর মধ্যেই পিইডিপি-৪ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত চলে গেছে। উপজেলার কুরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চণ্ডীপাশা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধীতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরপুর বালুয়া পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চর ভেলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণকাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। জাহাঙ্গীরপুর বালুয়া পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, নতুন ভবন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দেউলডাংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি অর্ধনির্মিত অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম জানান, দরজা-জানালা স্থাপন করা হলেও এখনো প্লাস্টারের কাজ শেষ হয়নি। হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেগম নুরুন্নাহার বলেন, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার এলজিইডি কার্যালয়ে যোগাযোগ করলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। চর ভেলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারতলা ভবনের দরজা-জানালা লাগানো হলেও নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। ঠিকাদার গেটে তালা ঝুলিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী ভূইয়া বলেন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। পুরহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান ফকির জানান, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদার আমরু মিয়া বলেন, তিনি কয়েকটি বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ পেয়েছেন এবং অধিকাংশ কাজই শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার জানান, নিজেদের পুঁজি বিনিয়োগ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বরাদ্দের অর্থ ফেরত গেলে ঠিকাদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এলজিইডির প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল বরাদ্দের অর্থ ফেরত যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফেরত যাওয়া অর্থের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকারও বেশি। প্রকল্পগুলো পুনরায় বাস্তবায়ন করতে হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

সোনারগাঁয়ে ২ হাসপাতালকে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা, ওটি সিলগালা

নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় নান্দাইলে পিইডিপি-৪ প্রকল্পের ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা ফেরত

Update Time : 09:16:16 pm, Saturday, 1 August 2026

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে না পারায় এবং সময় বৃদ্ধি করেও কাজ শেষ না হওয়ায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি-৪) প্রায় ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণ এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল। বরাদ্দের অর্থ ফেরত যাওয়ায় এসব নির্মাণকাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো বিপাকে পড়েছে। এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬টি বিদ্যালয়ের ফটকসহ সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পৃথক কক্ষ নির্মাণের কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদাররা কাজ শেষ করতে না পারায় তারা একাধিকবার সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। বর্ধিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও অনেক প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছু প্রকল্পের অগ্রগতি ২০ শতাংশেরও কম। এর মধ্যেই পিইডিপি-৪ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত চলে গেছে। উপজেলার কুরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চণ্ডীপাশা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধীতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরপুর বালুয়া পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চর ভেলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণকাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। জাহাঙ্গীরপুর বালুয়া পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, নতুন ভবন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দেউলডাংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি অর্ধনির্মিত অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম জানান, দরজা-জানালা স্থাপন করা হলেও এখনো প্লাস্টারের কাজ শেষ হয়নি। হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেগম নুরুন্নাহার বলেন, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার এলজিইডি কার্যালয়ে যোগাযোগ করলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। চর ভেলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারতলা ভবনের দরজা-জানালা লাগানো হলেও নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। ঠিকাদার গেটে তালা ঝুলিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী ভূইয়া বলেন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। পুরহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান ফকির জানান, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদার আমরু মিয়া বলেন, তিনি কয়েকটি বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ পেয়েছেন এবং অধিকাংশ কাজই শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার জানান, নিজেদের পুঁজি বিনিয়োগ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বরাদ্দের অর্থ ফেরত গেলে ঠিকাদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এলজিইডির প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল বরাদ্দের অর্থ ফেরত যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফেরত যাওয়া অর্থের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকারও বেশি। প্রকল্পগুলো পুনরায় বাস্তবায়ন করতে হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হবে।