10:09 pm, Saturday, 1 August 2026

খানাখন্দে ঝুঁকিপূর্ণ লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:56:03 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 2
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

লালমনিরহাটের গুরুত্বপূর্ণ লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক এখন যেন এক দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ পথে পরিণত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী ও চালকরা। বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বুড়িমারী স্থলবন্দরসংলগ্ন অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। কোথাও কোথাও যানবাহনকে গতি কমিয়ে একপাশ দিয়ে চলতে হচ্ছে, ফলে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন শ্রমিক ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের প্রায় ৩০টি স্থানে বড় ধরনের খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকার সড়ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় ছোট ছোট গর্ত বড় আকার ধারণ করেছে। ভারী যানবাহনের চাপ, টানা বর্ষণ এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলসহ হাজারো যানবাহন চলাচল করে। ভারত ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার বুড়িমারী স্থলবন্দরে যাতায়াতের একমাত্র ভরসাও এই সড়ক। কিন্তু বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বুড়িমারী স্থলবন্দরের ট্রাকচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, এই সড়কে এখন স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো যায় না। দুর্ঘটনার শঙ্কায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীরগতিতে চলতে হয়। দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে গাড়ি চালালেও এমন বেহাল সড়ক খুব কমই দেখেছি। আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী শামিম আহমেদ খান বলেন, সড়কের কারণে অনেক ট্রাক বিকল হচ্ছে। যন্ত্রাংশের ক্ষয়ক্ষতি ও জ্বালানি খরচ বাড়ছে। এর প্রভাব সরাসরি পণ্য পরিবহন ব্যয়ের ওপর পড়ছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মোটরসাইকেল চালক মিলন জানান, ছোট যানবাহনের জন্য এই সড়ক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। নিম্নমানের সাময়িক সংস্কার কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বুড়িমারী স্থলবন্দরের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, সীমান্ত বাণিজ্য এবং মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের দ্রুত ও স্থায়ী সংস্কারের বিকল্প নেই। এদিকে সওজ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০টি পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচল করে। প্রতিটি ট্রাকে ৪০ থেকে ৫০ টন পর্যন্ত পাথর পরিবহন করা হয়। অতিরিক্ত ভার বহনের কারণে সড়কের ক্ষতি দ্রুত বাড়ছে। লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, গত অর্থবছরে সড়কটির মেরামতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। জরুরি বরাদ্দের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে গর্ত ভরাট ও সাময়িক সংস্কার করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

খানাখন্দে ঝুঁকিপূর্ণ লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

Update Time : 08:56:03 pm, Saturday, 1 August 2026

লালমনিরহাটের গুরুত্বপূর্ণ লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক এখন যেন এক দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ পথে পরিণত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী ও চালকরা। বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বুড়িমারী স্থলবন্দরসংলগ্ন অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। কোথাও কোথাও যানবাহনকে গতি কমিয়ে একপাশ দিয়ে চলতে হচ্ছে, ফলে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন শ্রমিক ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের প্রায় ৩০টি স্থানে বড় ধরনের খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকার সড়ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় ছোট ছোট গর্ত বড় আকার ধারণ করেছে। ভারী যানবাহনের চাপ, টানা বর্ষণ এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলসহ হাজারো যানবাহন চলাচল করে। ভারত ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার বুড়িমারী স্থলবন্দরে যাতায়াতের একমাত্র ভরসাও এই সড়ক। কিন্তু বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বুড়িমারী স্থলবন্দরের ট্রাকচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, এই সড়কে এখন স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো যায় না। দুর্ঘটনার শঙ্কায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীরগতিতে চলতে হয়। দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে গাড়ি চালালেও এমন বেহাল সড়ক খুব কমই দেখেছি। আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী শামিম আহমেদ খান বলেন, সড়কের কারণে অনেক ট্রাক বিকল হচ্ছে। যন্ত্রাংশের ক্ষয়ক্ষতি ও জ্বালানি খরচ বাড়ছে। এর প্রভাব সরাসরি পণ্য পরিবহন ব্যয়ের ওপর পড়ছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মোটরসাইকেল চালক মিলন জানান, ছোট যানবাহনের জন্য এই সড়ক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। নিম্নমানের সাময়িক সংস্কার কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বুড়িমারী স্থলবন্দরের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, সীমান্ত বাণিজ্য এবং মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের দ্রুত ও স্থায়ী সংস্কারের বিকল্প নেই। এদিকে সওজ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০টি পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচল করে। প্রতিটি ট্রাকে ৪০ থেকে ৫০ টন পর্যন্ত পাথর পরিবহন করা হয়। অতিরিক্ত ভার বহনের কারণে সড়কের ক্ষতি দ্রুত বাড়ছে। লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, গত অর্থবছরে সড়কটির মেরামতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। জরুরি বরাদ্দের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে গর্ত ভরাট ও সাময়িক সংস্কার করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।