9:08 pm, Saturday, 1 August 2026

রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যারা

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:45:48 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 7
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বোচ্চ নীত নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া, সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দলের সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রবীণ ও হেভিওয়েট নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এর মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিগত দিনেও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করা প্রবীণ নেতাদের নাম তালিকার শীর্ষে রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিকদের মধ্য থেকেই কাউকে রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসানোর বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা ইতিবাচক মত দিচ্ছেন। দলীয় ঐকমত্য এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বকেই এই পদের জন্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের। এ অবস্থায় দলের পক্ষ থেকে কাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে। এর আগে গত ২৬ জুলাই বগুড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি নির্দলীয় কাউকে প্রার্থী করা হবে, সে সিদ্ধান্ত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে। এদিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও দলীয় অন্দরে কয়েকজনের নাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক সংকটের সময় দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং দলীয় গণ্ডির বাইরেও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তার নাম আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় নেতাদের ধারণা। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও আব্দুল মঈন খান এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাف হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও উঠে এসেছে। এর বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস, একজন সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপকের নামও আলোচনায় এসেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান। বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে একজন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ এবং জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে এই পদে আসীন করা প্রয়োজন। আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অত্যন্ত গণতান্ত্রিক ও খোলামেলা পরিবেশে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। দলের চেয়ারম্যান মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় খুব দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতির সামনে আসবে।’ অন্যদিকে দলের স্থায়ী কমিটির আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় কার্যক্রম প্রসঙ্গে বলেন, আজকের বৈঠকে শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নয়, বরং দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো কীভাবে আরও ফলপ্রসূ করা যায়, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পদ বা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দল সর্বদা দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়ে আসছে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদের বিষয়ে একটি স্পষ্ট রূপরেখা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে, যা আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

বাংলাদেশ বেতারে নতুন মুখ, গাজীপুরের ঋতু

রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যারা

Update Time : 07:45:48 pm, Saturday, 1 August 2026

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বোচ্চ নীত নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া, সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দলের সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রবীণ ও হেভিওয়েট নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এর মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিগত দিনেও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করা প্রবীণ নেতাদের নাম তালিকার শীর্ষে রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিকদের মধ্য থেকেই কাউকে রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসানোর বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা ইতিবাচক মত দিচ্ছেন। দলীয় ঐকমত্য এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বকেই এই পদের জন্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের। এ অবস্থায় দলের পক্ষ থেকে কাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে। এর আগে গত ২৬ জুলাই বগুড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি নির্দলীয় কাউকে প্রার্থী করা হবে, সে সিদ্ধান্ত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে। এদিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও দলীয় অন্দরে কয়েকজনের নাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক সংকটের সময় দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং দলীয় গণ্ডির বাইরেও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তার নাম আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় নেতাদের ধারণা। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও আব্দুল মঈন খান এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাف হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও উঠে এসেছে। এর বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস, একজন সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপকের নামও আলোচনায় এসেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান। বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে একজন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ এবং জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে এই পদে আসীন করা প্রয়োজন। আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অত্যন্ত গণতান্ত্রিক ও খোলামেলা পরিবেশে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। দলের চেয়ারম্যান মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় খুব দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতির সামনে আসবে।’ অন্যদিকে দলের স্থায়ী কমিটির আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় কার্যক্রম প্রসঙ্গে বলেন, আজকের বৈঠকে শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নয়, বরং দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো কীভাবে আরও ফলপ্রসূ করা যায়, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পদ বা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দল সর্বদা দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়ে আসছে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদের বিষয়ে একটি স্পষ্ট রূপরেখা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে, যা আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।