9:01 pm, Saturday, 1 August 2026

গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না : নাহিদ ইসলাম

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:56:03 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ডিআরইউ মিলনায়তনে ‘সম্প্রীতির জুলাই: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা যে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই আদর্শ এখনো ধারণ করি। কীভাবে সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়, তা নিয়েই আজকের আলোচনা। গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছেন। আন্দোলনের শুরু থেকেই এর অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ছিল। এই আন্দোলনে অন্তত নয়জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য শহীদ হয়েছেন। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতাসীনরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আওয়ামী লীগ নিজেদের অসাম্প্রদায়িক এবং অন্যদের সাম্প্রদায়িক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করত। নির্বাচনের আগে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হতো। এবারের নির্বাচনেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। তিনি মনে করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা উচিত। কোনো একটি দলের সঙ্গে একচেটিয়া সম্পর্ক গড়ে তোলা হলে সেই দলের কর্মকাণ্ডের দায়ও তাদের ওপর বর্তাতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আস্থা ও সম্পর্ক বৃদ্ধি করা, যাতে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করে। জুলাই-পরবর্তী সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মন্দির পাহারা দিয়েছে। আমরা চাই না এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক। তবে সংকটের সময় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে একসঙ্গে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আমরা জুলাইয়ে দেখেছি। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। অতীতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত জমি দখল, হামলা, নির্যাতনসহ সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি। সংস্কার প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সক্রিয় সমর্থন কামনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সবার অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে। বিচারব্যবস্থা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে এর সুফল দেশের সব নাগরিক ভোগ করবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর ওপর দমন-পীড়নের পুরোনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে পাচ্ছি। আবারও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, সংস্কার, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, বিচার প্রক্রিয়ায় অঙ্গীকার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিশ্চিত করা গেলে সরকারকে সহযোগিতা করা সম্ভব হতো। এখনো আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের, সেন্ট মেরি ক্যাথেড্রালের পরিচালক ফাদার এলবার্ট টমাস রোজারিও, এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা ‘রাজনৈতিক অবস্থান প্রদর্শনের কৌশল’: ইশরাক

গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না : নাহিদ ইসলাম

Update Time : 07:56:03 pm, Saturday, 1 August 2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ডিআরইউ মিলনায়তনে ‘সম্প্রীতির জুলাই: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা যে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই আদর্শ এখনো ধারণ করি। কীভাবে সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়, তা নিয়েই আজকের আলোচনা। গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছেন। আন্দোলনের শুরু থেকেই এর অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ছিল। এই আন্দোলনে অন্তত নয়জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য শহীদ হয়েছেন। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতাসীনরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আওয়ামী লীগ নিজেদের অসাম্প্রদায়িক এবং অন্যদের সাম্প্রদায়িক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করত। নির্বাচনের আগে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হতো। এবারের নির্বাচনেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। তিনি মনে করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা উচিত। কোনো একটি দলের সঙ্গে একচেটিয়া সম্পর্ক গড়ে তোলা হলে সেই দলের কর্মকাণ্ডের দায়ও তাদের ওপর বর্তাতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আস্থা ও সম্পর্ক বৃদ্ধি করা, যাতে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করে। জুলাই-পরবর্তী সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মন্দির পাহারা দিয়েছে। আমরা চাই না এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক। তবে সংকটের সময় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে একসঙ্গে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আমরা জুলাইয়ে দেখেছি। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। অতীতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত জমি দখল, হামলা, নির্যাতনসহ সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি। সংস্কার প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সক্রিয় সমর্থন কামনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সবার অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে। বিচারব্যবস্থা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে এর সুফল দেশের সব নাগরিক ভোগ করবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর ওপর দমন-পীড়নের পুরোনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে পাচ্ছি। আবারও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, সংস্কার, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, বিচার প্রক্রিয়ায় অঙ্গীকার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিশ্চিত করা গেলে সরকারকে সহযোগিতা করা সম্ভব হতো। এখনো আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের, সেন্ট মেরি ক্যাথেড্রালের পরিচালক ফাদার এলবার্ট টমাস রোজারিও, এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।