5:14 am, Thursday, 30 July 2026

লেদু হাসান র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:06:54 am, Thursday, 30 July 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, বিএনপি নেতা হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মনোয়ার হোসেন জীবন ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-২)। লেদু আদাবরে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাহকে কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি। এ নিয়ে এই হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। গতকাল বুধবার র‍্যাব-২ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মাদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব জানায়, মামলায় গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন এই লেদু। র‍্যাব জানায়, লেদু হাসানের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। তিনি মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত। রাজধানীর আদাবর এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশা নিহত হওয়ার ঘটনায় আরেক আসামি মনোয়ার হোসেন ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-২। তারা জানায়, মনোয়ার এ হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত পারভেজকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানান, গত ১ জুলাই আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষের একপর্যায়ে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মনোয়ার হোসেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানা গেছে, আবুল বাশার হত্যার জন্য মূল অভিযুক্ত পারভেজকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন মনোয়ার। মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ দিয়ে আসছিলেন। আদাবর থানা বিএনপির সূত্র জানায়, মনোয়ার হোসেন আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দুই দফা বহিষ্কার করা হয়। নবোদয় হাউজিং এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল বাশার হত্যার পর এ ঘটনায় তার জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। র‍্যাব-২-এর দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে মূল হামলাকারীকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন লেদু। সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-২ অধিনায়ক জানান, লেদুর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদকসহ মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১০টি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি, দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আদাবর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটটি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ছয়টি, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া দারুস সালাম থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে লেদু গ্রেপ্তার হয়ে ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। এ ছাড়া ২০২১ সালে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলিসহ তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪। ওই অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। র‍্যাব-২ অধিনায়ক জানান, গ্রেপ্তার লেদুর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাদশাহকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় লেদুসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে আদাবর থানা ও ডিবি মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। ডিবির হাতে ছয়জন এবং আদাবর থানার পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ডিবির হাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— রিপন, তার ভাই নীরব ও তাদের বাবা মজনু মিয়া, মো. মিজানুর রহমান, মো. সুমন ও মো. শহীদ। আদাবর থানার পুলিশ সোয়েব হোসেন সোয়াইব, আরমান ও নয়ন নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

লেদু হাসান র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

Update Time : 04:06:54 am, Thursday, 30 July 2026

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, বিএনপি নেতা হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মনোয়ার হোসেন জীবন ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-২)। লেদু আদাবরে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাহকে কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি। এ নিয়ে এই হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। গতকাল বুধবার র‍্যাব-২ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মাদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব জানায়, মামলায় গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন এই লেদু। র‍্যাব জানায়, লেদু হাসানের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। তিনি মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত। রাজধানীর আদাবর এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশা নিহত হওয়ার ঘটনায় আরেক আসামি মনোয়ার হোসেন ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-২। তারা জানায়, মনোয়ার এ হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত পারভেজকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানান, গত ১ জুলাই আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষের একপর্যায়ে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মনোয়ার হোসেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানা গেছে, আবুল বাশার হত্যার জন্য মূল অভিযুক্ত পারভেজকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন মনোয়ার। মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ দিয়ে আসছিলেন। আদাবর থানা বিএনপির সূত্র জানায়, মনোয়ার হোসেন আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দুই দফা বহিষ্কার করা হয়। নবোদয় হাউজিং এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল বাশার হত্যার পর এ ঘটনায় তার জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। র‍্যাব-২-এর দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে মূল হামলাকারীকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন লেদু। সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-২ অধিনায়ক জানান, লেদুর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদকসহ মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১০টি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি, দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আদাবর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটটি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ছয়টি, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া দারুস সালাম থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে লেদু গ্রেপ্তার হয়ে ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। এ ছাড়া ২০২১ সালে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলিসহ তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪। ওই অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। র‍্যাব-২ অধিনায়ক জানান, গ্রেপ্তার লেদুর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাদশাহকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় লেদুসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে আদাবর থানা ও ডিবি মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। ডিবির হাতে ছয়জন এবং আদাবর থানার পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ডিবির হাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— রিপন, তার ভাই নীরব ও তাদের বাবা মজনু মিয়া, মো. মিজানুর রহমান, মো. সুমন ও মো. শহীদ। আদাবর থানার পুলিশ সোয়েব হোসেন সোয়াইব, আরমান ও নয়ন নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।