এনজিও ও কিছু ব্যক্তির ঋণের কিস্তি পরিশোধের আশায় প্রলোভনে পড়ে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করে চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দিনমজুর মন্টু মিয়া। ১০ লাখ টাকায় কিডনি বিক্রির চুক্তি হলেও নেপালে নিয়ে অস্ত্রোপচারের পর তাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তা দিতে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ১৩ জুন জয়পুরহাট আমলি আদালত-৫ এ মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশক্রমে পরদিন মামলাটি কালাই থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় ১ থেকে ৮ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন চিকিৎসককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন বগুড়ার সদর উপজেলার নিশিন্দারা (খাঁপাড়া) গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সাব্বির আহমেদ, একই জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়ার শাহজান আলীর ছেলে সুমন আলী, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন ওরফে চকো মিয়ার ছেলে আব্দুল মান্নান, একই গ্রামের ধলু মিয়ার ছেলে সাইদুর রহমান, উদয়পুর ইউনিয়নের লওনা (বহুতি) গ্রামের মৃত আ. জোব্বার খলিফার ছেলে আব্দুস ছাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জের মৃত আজম চৌধুরীর ছেলে তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরী। মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর মন্টু মিয়া সংসার চালাতে গিয়ে বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। ঋণের কিস্তির সাপ্তাহিক ও মাসিক চাপ সামলাতে না পেরে তিনি যখন চরম বিপাকে পড়েন, ঠিক তখনই ১ থেকে ৫ নম্বর আসামিরা তাকে নানাভাবে সাহায্যের আশ্বাস দেয়। আসামিরা তাকে জানায়, ঢাকার এক ধনাঢ্য ব্যক্তির কিডনি নষ্ট হয়েছে এবং বাদী যদি তার শরীর থেকে একটি কিডনি দান করেন, তবে তাকে নগদ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এই টাকা দিয়েই তিনি তার সমস্ত ঋণ সহজে পরিশোধ করতে পারবেন। আসামিদের এই প্রলোভনে বিশ্বাস করে মন্টু মিয়া ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে কিডনি বিক্রি করতে রাজি হন। এরপর আসামিরা তাকে ঢাকায় একটি ক্লিনিকে নিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায়। কিডনি প্রতিস্থাপনের উপযোগী নিশ্চিত হওয়ার পর তারা বাদীর নামে পাসপোর্ট তৈরি করে দেয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে বায়না বাবদ মাত্র ৫০ হাজার টাকা হাতে দিয়ে আসামিরা প্রথমে তাকে ঢাকায় এবং পরবর্তীতে ভারত হয়ে নেপালে নিয়ে যায়। নেপালের ‘মারি সিটি হাসপাতাল’-এ তাকে ভর্তি করানোর পর ৩-৪ জন অজ্ঞাতপরিচয় চিকিৎসকের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার চালিয়ে তার শরীর থেকে একটি কিডনি কেটে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর আসামিরা বাদীকে পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনে। এরপর মন্টু মিয়া তার চুক্তির বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে আসামিরা নানা টালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের সামনে তিনি তার পাওনা টাকা জোরালোভাবে দাবি করলে অভিযুক্তরা তা সম্পূর্ণ দিতে অস্বীকার করে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে দায়ের করা এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
8:07 am, Friday, 31 July 2026
শিরোনাম :












