4:41 am, Friday, 31 July 2026

ময়লার স্তূপ জানাচ্ছে বিদায়-স্বাগত

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:12:09 am, Friday, 31 July 2026
  • 2
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভাগুলোর একটি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা। অথচ এই প্রথম শ্রেণির পৌরসভার প্রবেশ ও প্রস্থানের মুখেই দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে দুর্গন্ধময় বিশাল এক ময়লার স্তূপ! ‘স্বাগত’ ও ‘বিদায়’ তোরণের নিচেই গড়ে উঠেছে এই ময়লার ভাগাড়। লক্ষ্মীপুর-রায়পুর মহাসড়কের পাশে ফরিদগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার সীমানায় নির্মিত ‘স্বাগত রায়পুর উপজেলা’ ও ‘ধন্যবাদ রায়পুর উপজেলা’ তোরণের ঠিক নিচেই বছরের পর বছর ধরে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার বর্জ্য। ফলে দুর্গন্ধ, পরিবেশদূষণ ও জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বর্জ্যরে উৎকট গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর-রায়পুর মহাসড়কের বর্ডার বাজার এলাকার উত্তর পাশে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার সীমানায় অবস্থিত স্বাগত তোরণের নিচে বিশালাকার বর্জ্যরে স্তূপ জমে আছে। প্রতিদিন রায়পুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড এবং বিভিন্ন হাটবাজার থেকে ভ্যানে করে সংগৃহীত ময়লা-আবর্জনা এনে নিয়মিত এখানেই ফেলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত প্রায় ছয় থেকে সাত বছর ধরে এভাবে উন্মুক্ত স্থানে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এই বর্জ্যরে স্তূপের কারণে সড়কের পাশের জেলা পরিষদের ঐতিহ্যবাহী জলাশয়টি প্রায় সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে। মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলার কারণে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী ও যানবাহনচালকেরা। দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করা এখন প্রায় অসম্ভব ও অসহনীয় হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন হাজারো পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও যানবাহনের যাত্রীরা নাকে রুমাল বা কাপড় চেপে এই পথ অতিক্রম করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেবল ময়লা ফেলেই ক্ষান্ত হয় না, মাঝেমধ্যেই বর্জ্য অপসারণের পরিবর্তে সেখানে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এতে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ছেয়ে যায়, যা বাতাসকে চরমভাবে বিষাক্ত করে তুলছে। বিশেষ করে গরম ও বর্ষাকালে এই দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বহু গুণ বেড়ে যায়। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন ভয়াবহ ও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি চললেও একটি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান বা আন্তরিক উদ্যোগ নেই। এতে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌরসভার ফেলা বর্জ্যরে দুর্গন্ধে আমরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছি। একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার বা সমাধান পাইনি। মহাসড়কের পাশে ও জেলা পরিষদের জলাশয়ে যেভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে, তাতে পুরো এলাকার পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মানুষকে স্বাগত ও বিদায় জানানো হচ্ছে এই দুর্গন্ধময় ময়লার ভাগাড় দিয়ে!’ এ বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসউদ মোরশেদ বলেন, ‘পৌরসভার নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমিও আমাদের হস্তগত হয়নি। আগের পৌর কর্তৃপক্ষও ঠিক একই স্থানে বর্জ্য ফেলত। বর্তমানে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ টন বর্জ্য এখানে রাখা হচ্ছে।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও সরকারি অর্থ বরাদ্দ পেলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।’ এদিকে পরিবেশ সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, মহাসড়কের পাশে উন্মুক্ত স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলার কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে বিকল্প ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা এবং বর্তমান ভাগাড়টি অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখনই প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ময়লার স্তূপ জানাচ্ছে বিদায়-স্বাগত

Update Time : 04:12:09 am, Friday, 31 July 2026

দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভাগুলোর একটি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা। অথচ এই প্রথম শ্রেণির পৌরসভার প্রবেশ ও প্রস্থানের মুখেই দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে দুর্গন্ধময় বিশাল এক ময়লার স্তূপ! ‘স্বাগত’ ও ‘বিদায়’ তোরণের নিচেই গড়ে উঠেছে এই ময়লার ভাগাড়। লক্ষ্মীপুর-রায়পুর মহাসড়কের পাশে ফরিদগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার সীমানায় নির্মিত ‘স্বাগত রায়পুর উপজেলা’ ও ‘ধন্যবাদ রায়পুর উপজেলা’ তোরণের ঠিক নিচেই বছরের পর বছর ধরে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার বর্জ্য। ফলে দুর্গন্ধ, পরিবেশদূষণ ও জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বর্জ্যরে উৎকট গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর-রায়পুর মহাসড়কের বর্ডার বাজার এলাকার উত্তর পাশে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার সীমানায় অবস্থিত স্বাগত তোরণের নিচে বিশালাকার বর্জ্যরে স্তূপ জমে আছে। প্রতিদিন রায়পুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড এবং বিভিন্ন হাটবাজার থেকে ভ্যানে করে সংগৃহীত ময়লা-আবর্জনা এনে নিয়মিত এখানেই ফেলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত প্রায় ছয় থেকে সাত বছর ধরে এভাবে উন্মুক্ত স্থানে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এই বর্জ্যরে স্তূপের কারণে সড়কের পাশের জেলা পরিষদের ঐতিহ্যবাহী জলাশয়টি প্রায় সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে। মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলার কারণে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী ও যানবাহনচালকেরা। দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করা এখন প্রায় অসম্ভব ও অসহনীয় হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন হাজারো পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও যানবাহনের যাত্রীরা নাকে রুমাল বা কাপড় চেপে এই পথ অতিক্রম করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেবল ময়লা ফেলেই ক্ষান্ত হয় না, মাঝেমধ্যেই বর্জ্য অপসারণের পরিবর্তে সেখানে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এতে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ছেয়ে যায়, যা বাতাসকে চরমভাবে বিষাক্ত করে তুলছে। বিশেষ করে গরম ও বর্ষাকালে এই দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বহু গুণ বেড়ে যায়। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন ভয়াবহ ও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি চললেও একটি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান বা আন্তরিক উদ্যোগ নেই। এতে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌরসভার ফেলা বর্জ্যরে দুর্গন্ধে আমরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছি। একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার বা সমাধান পাইনি। মহাসড়কের পাশে ও জেলা পরিষদের জলাশয়ে যেভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে, তাতে পুরো এলাকার পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মানুষকে স্বাগত ও বিদায় জানানো হচ্ছে এই দুর্গন্ধময় ময়লার ভাগাড় দিয়ে!’ এ বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসউদ মোরশেদ বলেন, ‘পৌরসভার নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমিও আমাদের হস্তগত হয়নি। আগের পৌর কর্তৃপক্ষও ঠিক একই স্থানে বর্জ্য ফেলত। বর্তমানে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ টন বর্জ্য এখানে রাখা হচ্ছে।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও সরকারি অর্থ বরাদ্দ পেলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।’ এদিকে পরিবেশ সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, মহাসড়কের পাশে উন্মুক্ত স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলার কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে বিকল্প ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা এবং বর্তমান ভাগাড়টি অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখনই প্রয়োজন।