মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সিলেটে চারটি মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর পৃথক স্থানে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাদের। দুটি হত্যার ঘটনার পর রক্তমাখা আসামিরা প্রকাশ্যে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছালেও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। একই সময়ে বসতঘরের বন্ধ দরজা ভেঙে উদ্ধার হয়েছে এক অবসরগামী পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ। পরপর কাছাকাছি সময়ে রহস্যজনক হত্যাকা-ে নগরজুড়ে ভয় ও শঙ্কা দানা বাঁধছে। দুই খুনে জড়িতরা চিহ্নিত, হাসপাতাল ছেড়ে আত্মগোপনে : নগরীর শিবগঞ্জে কুপিয়ে হত্যা করা হয় যুবলীগ কর্মী জিয়াদকে এবং দক্ষিণ সুরমার সিলামে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বাতির আলীকে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জের হত্যাকা-ে জড়িত আসামিরা ঘটনার পর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তারা হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে সিলামের হত্যাকা-ে জড়িতদের পরিচয়ও মোগলাবাজার থানা পুলিশ নিশ্চিত করতে পেরেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, দুই হত্যাকা-ে জড়িতদের পুলিশ চিহ্নিত করেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। বাসার ভেতরে মিলল অবসরগামী পুলিশ সদস্যের মরদেহ : সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন বাগবাড়ী নরসিংটিলা এলাকার ২৫৯ নম্বর বাসায় দ্বিতীয় তলার ঘরের মেঝে থেকে মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টার দিকে মনোজ কান্তি দাস (৫৫) নামে এক পুলিশ সদস্যের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মনোজ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামের মৃত মহিম চন্দ্র দাসের ছেলে। আগামী ১ আগস্ট থেকে তার অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল। গত বছর স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়ির ভবনে ছেলে-মেয়ের সাথে থাকতেন। সোমবার রাতে ডিউটি শেষে ঘরে ঢোকার পর মঙ্গলবার সারাদিন সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তার লাশ দেখতে পায়। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সিলামে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা : মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামে বাতির আলী নামে এক যুবককে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। পরবর্তীতে তাকে মারধর করে মৃত ভেবে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে চলে যায় তারা। আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত বাতির আলী মুক্তারপুর গ্রামের মৃত ছৈদ মিয়ার ছেলে। নিহতের ফুফু ও স্থানীয় সংরক্ষিত ইউপি সদস্য সাবিনা আক্তার আসমা এটিকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকা- বলে দাবি করেন। মোগলাবাজার থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠিয়েছে এবং এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, পুলিশের একাধিক ছায়া তদন্ত টিম ও গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। পালিয়ে যাওয়া আসামিদের সীমান্ত বা অন্য জেলায় সটকে পড়ার রাস্তা বন্ধ করতে জাল ফেলা হয়েছে। খুব দ্রুতই অন্ধকার চিরে সত্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
4:55 am, Thursday, 30 July 2026
শিরোনাম :







