6:15 am, Thursday, 30 July 2026

যমুনায় ফের ভয়াল ভাঙন

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:01:46 am, Thursday, 30 July 2026
  • 2
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় নির্মিত শহড়াবাড়ি স্পারে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পারের (বাঁধ) প্রায় ৬৫ মিটার অংশ গত মঙ্গলবারই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগে গত ১২ জুলাই এই বাঁধের অগ্রভাগের ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে যায়। বর্তমানে এই ভাঙন সরাসরি ধেয়ে আসছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ জনবসতির দিকে। বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার তীব্র আশঙ্কায় যমুনা পাড়ের পরিবারগুলো এখন তাদের ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। তারা বলছেন, যমুনা যেন আবারও তার চিরচেনা রুদ্ররূপে ফিরে এসেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা, স্মৃতি আর স্বপ্ন পেছনে ফেলে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে পা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, গত চার দিন ধরে যমুনা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমতে শুরু করায় যমুনা নদীতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে বাঁধে তীব্র আঘাত হানায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই মাস ধরে নদীর পাড় ধসে পড়ার শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভাঙনের কবলে পড়ে কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ বাঁশ-কাঠ নামাচ্ছেন, আবার কেউ ভ্যানে করে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। বৃদ্ধদের চোখে জমে উঠছে অশ্রু, আর পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষগুলো ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় সম্পূর্ণ নির্বাক হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই যমুনার ভাঙনে তাদের সর্বস্ব হারাতে হয়। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নানা আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায় না। ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয়, আর নদী কেড়ে নেয় মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও জীবিকার শেষ সম্বল। নদীপাড়ের বহু পরিবারের এখন একমাত্র চিন্তা মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন, আবার কেউ বাঁধের ওপর বা খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। যে উঠানে শিশুদের হাসি-কান্না আর জীবনের অসংখ্য স্মৃতি জড়িত ছিল, সেটিই এখন নদীর গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। স্থানীয়রা আশঙ্কা, ভাঙন যদি একই গতিতে অব্যাহত থাকে, তবে মূল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটিও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে এবং নতুন করে চরম দুর্ভোগে পড়বেন হাজারো মানুষ। কারণ একটি ঘর ভেঙে যাওয়া মানে শুধু ইট-কাঠ বা টিন হারানো নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা আর বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন। যমুনার এই অব্যাহত ভাঙন যেন আর কোনো পরিবারকে নিঃস্ব না করে, এটাই এখন নদীপাড়ের মানুষের সবচেয়ে বড় আকুতি। এ বিষয়ে বগুড়া পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, শহড়াবাড়ি স্পারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে দ্রুত ভাঙন ঠেকানোর কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

যমুনায় ফের ভয়াল ভাঙন

Update Time : 05:01:46 am, Thursday, 30 July 2026

বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় নির্মিত শহড়াবাড়ি স্পারে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পারের (বাঁধ) প্রায় ৬৫ মিটার অংশ গত মঙ্গলবারই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগে গত ১২ জুলাই এই বাঁধের অগ্রভাগের ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে যায়। বর্তমানে এই ভাঙন সরাসরি ধেয়ে আসছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ জনবসতির দিকে। বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার তীব্র আশঙ্কায় যমুনা পাড়ের পরিবারগুলো এখন তাদের ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। তারা বলছেন, যমুনা যেন আবারও তার চিরচেনা রুদ্ররূপে ফিরে এসেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা, স্মৃতি আর স্বপ্ন পেছনে ফেলে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে পা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, গত চার দিন ধরে যমুনা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমতে শুরু করায় যমুনা নদীতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে বাঁধে তীব্র আঘাত হানায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই মাস ধরে নদীর পাড় ধসে পড়ার শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভাঙনের কবলে পড়ে কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ বাঁশ-কাঠ নামাচ্ছেন, আবার কেউ ভ্যানে করে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। বৃদ্ধদের চোখে জমে উঠছে অশ্রু, আর পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষগুলো ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় সম্পূর্ণ নির্বাক হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই যমুনার ভাঙনে তাদের সর্বস্ব হারাতে হয়। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নানা আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায় না। ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয়, আর নদী কেড়ে নেয় মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও জীবিকার শেষ সম্বল। নদীপাড়ের বহু পরিবারের এখন একমাত্র চিন্তা মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন, আবার কেউ বাঁধের ওপর বা খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। যে উঠানে শিশুদের হাসি-কান্না আর জীবনের অসংখ্য স্মৃতি জড়িত ছিল, সেটিই এখন নদীর গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। স্থানীয়রা আশঙ্কা, ভাঙন যদি একই গতিতে অব্যাহত থাকে, তবে মূল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটিও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে এবং নতুন করে চরম দুর্ভোগে পড়বেন হাজারো মানুষ। কারণ একটি ঘর ভেঙে যাওয়া মানে শুধু ইট-কাঠ বা টিন হারানো নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা আর বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন। যমুনার এই অব্যাহত ভাঙন যেন আর কোনো পরিবারকে নিঃস্ব না করে, এটাই এখন নদীপাড়ের মানুষের সবচেয়ে বড় আকুতি। এ বিষয়ে বগুড়া পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, শহড়াবাড়ি স্পারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে দ্রুত ভাঙন ঠেকানোর কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।