আজ শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪১%

চুয়েট সংকট: সরকারের অনড় অবস্থান ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:04:59 am, Friday, 16 October 2026
  • 20

চুয়েট সংকট: সরকারের অনড় অবস্থান ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট এবং একজন শিক্ষকের হেনস্তার ঘটনা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

নিয়োগের পর থেকেই যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ উপাচার্যের নিয়োগের বিরোধিতা করেন এবং প্রায় অর্ধমাস ধরে আন্দোলন চলতে থাকে, তাহলে সরকারের উচিত ছিল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া। কিন্তু সরকার নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় সংকটের সমাধান হয়নি। আমার বিবেচনায়, এই পরিস্থিতির দায় সরকার এড়াতে পারে না।

কারণ, নিয়োগ দেওয়া যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি সেই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা তৈরি হলে তার সমাধান করাও সরকারের দায়িত্ব। এখানে মূল সমস্যা শুধু উপাচার্যের নিয়োগ নয়; বরং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, বাস্তবতা বিবেচনার ঘাটতি এবং সংকট মোকাবিলায় দূরদর্শিতার অভাব। ১. সরকার হয়তো মনে করেছে, প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কেবল সরকারি আদেশে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এর শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায় যুক্ত। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক বিরোধিতা থাকলে তা উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। ২. আন্দোলনের সময় সরকার পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে প্রতীয়মান হয়।

৩. পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকা অবস্থায় উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়ে আরও সতর্ক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি না করে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়। সরকারের দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনায় বসানো এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা।

একজন শিক্ষক যে রাজনৈতিক মতাদর্শেরই অনুসারী হোন না কেন, তার সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষক জাতি গঠনের কারিগর। তাকে অপমান করা শুধু একজন ব্যক্তিকে হেয় করা নয়, বরং শিক্ষক সমাজের মর্যাদাকেও আঘাত করা। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই সরকারকে সতর্ক হতে হবে এবং সংকটের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

সরকারের করণীয় কী? প্রথমত, চুয়েটের সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত নিরপেক্ষ পর্যালোচনার উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধিতার প্রকৃত কারণ জানতে হবে। নিয়োগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন থাকলে তা স্বচ্ছভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, যোগ্যতা, সততা, প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো প্রয়োজন। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কারো ওপর যেন রাজনৈতিক পরিচয় বা মতবিরোধের কারণে নিপীড়ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হেনস্তা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ সরকারকে একদিকে আন্দোলনের অধিকার রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে ব্যক্তির মর্যাদা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনৈতিক অবস্থান নয়, জনস্বার্থই হোক অগ্রাধিকার ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা বাড়বে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ আন্দোলনের পরও যদি সংকটের সমাধান না হয়, তাহলে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

একটি সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজের নীতিগত অবস্থান বজায় রাখতে পারে। কিন্তু সেই অবস্থান যখন জনস্বার্থ, শিক্ষার পরিবেশ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়, তখন তা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন করা দুর্বলতা নয়; বরং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নতুন করে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হওয়া কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের সংকট চলতে থাকলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা বাড়বে, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং তরুণদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা কমতে পারে। চুয়েটের ঘটনা থেকে সরকারের সবচেয়ে বড় শিক্ষার দিক হলো- সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া আর সংকটের সমাধান করা এক বিষয় নয়। সরকারকে বুঝতে হবে, কোথায় প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে, কোথায় আলোচনায় বসতে হবে এবং কোথায় নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

সময়মতো সংলাপ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে সংকট এড়ানো সম্ভব। অন্যথায়, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অমীমাংসিত বিরোধ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি বাড়াবে। তাই চুয়েটের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে সরকারের উচিত নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি পর্যালোচনা করা। কারণ, রাষ্ট্রের শক্তি শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় নয়; বরং ভুল বুঝতে পারা, মানুষের কথা শোনা এবং সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতায়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

চুয়েট সংকট: সরকারের অনড় অবস্থান ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন

চুয়েট সংকট: সরকারের অনড় অবস্থান ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন

Update Time : 03:04:59 am, Friday, 16 October 2026

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট এবং একজন শিক্ষকের হেনস্তার ঘটনা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

নিয়োগের পর থেকেই যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ উপাচার্যের নিয়োগের বিরোধিতা করেন এবং প্রায় অর্ধমাস ধরে আন্দোলন চলতে থাকে, তাহলে সরকারের উচিত ছিল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া। কিন্তু সরকার নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় সংকটের সমাধান হয়নি। আমার বিবেচনায়, এই পরিস্থিতির দায় সরকার এড়াতে পারে না।

কারণ, নিয়োগ দেওয়া যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি সেই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা তৈরি হলে তার সমাধান করাও সরকারের দায়িত্ব। এখানে মূল সমস্যা শুধু উপাচার্যের নিয়োগ নয়; বরং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, বাস্তবতা বিবেচনার ঘাটতি এবং সংকট মোকাবিলায় দূরদর্শিতার অভাব। ১. সরকার হয়তো মনে করেছে, প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কেবল সরকারি আদেশে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এর শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায় যুক্ত। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক বিরোধিতা থাকলে তা উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। ২. আন্দোলনের সময় সরকার পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে প্রতীয়মান হয়।

৩. পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকা অবস্থায় উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়ে আরও সতর্ক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি না করে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়। সরকারের দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনায় বসানো এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা।

একজন শিক্ষক যে রাজনৈতিক মতাদর্শেরই অনুসারী হোন না কেন, তার সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষক জাতি গঠনের কারিগর। তাকে অপমান করা শুধু একজন ব্যক্তিকে হেয় করা নয়, বরং শিক্ষক সমাজের মর্যাদাকেও আঘাত করা। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই সরকারকে সতর্ক হতে হবে এবং সংকটের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

সরকারের করণীয় কী? প্রথমত, চুয়েটের সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত নিরপেক্ষ পর্যালোচনার উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধিতার প্রকৃত কারণ জানতে হবে। নিয়োগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন থাকলে তা স্বচ্ছভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, যোগ্যতা, সততা, প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো প্রয়োজন। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কারো ওপর যেন রাজনৈতিক পরিচয় বা মতবিরোধের কারণে নিপীড়ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হেনস্তা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ সরকারকে একদিকে আন্দোলনের অধিকার রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে ব্যক্তির মর্যাদা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনৈতিক অবস্থান নয়, জনস্বার্থই হোক অগ্রাধিকার ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা বাড়বে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ আন্দোলনের পরও যদি সংকটের সমাধান না হয়, তাহলে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

একটি সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজের নীতিগত অবস্থান বজায় রাখতে পারে। কিন্তু সেই অবস্থান যখন জনস্বার্থ, শিক্ষার পরিবেশ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়, তখন তা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন করা দুর্বলতা নয়; বরং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নতুন করে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হওয়া কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের সংকট চলতে থাকলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা বাড়বে, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং তরুণদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা কমতে পারে। চুয়েটের ঘটনা থেকে সরকারের সবচেয়ে বড় শিক্ষার দিক হলো- সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া আর সংকটের সমাধান করা এক বিষয় নয়। সরকারকে বুঝতে হবে, কোথায় প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে, কোথায় আলোচনায় বসতে হবে এবং কোথায় নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

সময়মতো সংলাপ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে সংকট এড়ানো সম্ভব। অন্যথায়, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অমীমাংসিত বিরোধ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি বাড়াবে। তাই চুয়েটের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে সরকারের উচিত নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি পর্যালোচনা করা। কারণ, রাষ্ট্রের শক্তি শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় নয়; বরং ভুল বুঝতে পারা, মানুষের কথা শোনা এবং সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতায়।