যশোর শহরের লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর মুখ খুলেছেন দুই চিকিৎসক। তাদের দাবি, তারা সেখানে চেম্বার না করলেও সাইনবোর্ডে তাদের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে রোগীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে কার্যক্রম পরিচালনা ও সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে লাইফ কেয়ারের কাগজপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সিভিল সার্জন । লাইফ কেয়ারের সাইনবোর্ডে নাম থাকা ডা. সোনিয়া শারমিন বলেন, তিনি সেখানে চেম্বার করেন না। সাইনবোর্ডে তার নাম ব্যবহার না করার জন্য মালিকপক্ষকে বলেছেন বলেও জানান তিনি।
একই অভিযোগ ডা. নাজনীন পারভীন রিমির। তিনি জানান, লাইফ কেয়ারে তিনি যান না। তার অভিযোগ, এখন তার নামের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের এমন বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে, যারা সেখানে চেম্বার করেন না, তাদের নাম সাইনবোর্ডে রেখে রোগীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে কি না। চিকিৎসকের নাম দেখে রোগীরা সেখানে গিয়ে তাকে না পেলে এর দায় কে নেবে?
অনুমতি ছাড়া নাম ব্যবহার করা হয়ে থাকলে এর জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে কীভাবে? প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার হিসেবে লাইফ কেয়ারকে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৩৮৩। লাইসেন্সটির মেয়াদ ছিল ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত।
এরপর বিভিন্ন ত্রুটির কারণে লাইসেন্স নবায়ন হয়নি বলে জানা গেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকার অভিযোগের পাশাপাশি লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ার পরও কীভাবে কার্যক্রম চলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এর আগে গত ৬ অক্টোবর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মারুফ হোসেন ও আবিদ হাসান নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।
তাদের বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগের পরিচয় ব্যবহার করে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছিল লাইফ কেয়ারকে ঘিরে। একদিকে লাইসেন্সের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে রোগীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এবং সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, লাইফ কেয়ার কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তার কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে। রোববার তাদের কাগজপত্র যাচাই করা হবে। সাইনবোর্ডে চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগটিও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, লাইন কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম ও চিকিৎসা প্রতারণার অভিযোগে গত ৮ অক্টোবর রুপালী বাংলাদেশের অনলাইনে খবর প্রকাশিত হয়।
এরপর থেকে নড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।





















