শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সিলেটের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রত্যাশিত প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা দ্রুত নিরসন করতেই আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি মাঠে নিয়ে আসা হয়েছে। কেবল বড় বড় ভবন বা অবকাঠামো তৈরি করে ফেলে রাখা নয়, নির্মিত রাষ্ট্রীয় সম্পদের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। গতকাল শনিবার সিলেট অঞ্চলের ঝুলে থাকা অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনের লক্ষ্যে পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এই সফরে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা। ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনের পর থেকে সিলেট পর্যন্ত সমগ্র রেললাইন এবং রুটভিত্তিক বিভিন্ন স্টেশনের সমস্যা সরেজমিন পরিদর্শন করেন মন্ত্রী ও সফররত প্রতিনিধিদল। শনিবার বেলা ১১টার দিকে ট্রেনটি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে পুরো স্টেশন এলাকা পরিদর্শন করেন তারা। পরে কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি কিছু সময় বিরতি দিলে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও সফররত শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হন। তারা সরাসরি যাত্রীদের কাছ থেকে রেলওয়ের নানা ভোগান্তি ও সমস্যার কথা শোনেন এবং তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। দুপুরে ট্রেনে করে সিলেট স্টেশনে পৌঁছান তারা। এরপর বাসে করে জাফলংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল সিলেট থেকে গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর হয়ে জাফলং পর্যন্ত প্রস্তাবিত নতুন রেল সড়ক নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও বাস্তব সম্ভাব্যতা সরেজমিনে যাচাই করা। জাফলংমুখী বাসে যাত্রা এবং পরবর্তীতে সরেজমিন পরিদর্শনকালে সিলেট-ঢাকা রেলপথে নতুন আধুনিক ট্রেন সংযোজন, ট্রেন শিডিউল বিপর্যয় নিরসন ও রেললাইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে রেলসচিবের সঙ্গে সিদ্ধান্তমূলক আলোচনা করেন মন্ত্রী। সম্প্রতি সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে দেওয়া বক্তব্যের সূত্রে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সিলেট-জাফলং রুটে ট্রেন ও পণ্যবাহী ওয়াগন চালু হলে কম খরচে ও সহজে পাথরসহ বিভিন্ন স্থানীয় পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে, যা একই সঙ্গে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। পাশাপাশি সিলেটের অবহেলায় পড়ে থাকা হাই-টেক পার্ককে কার্যকর করা এবং তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দক্ষ করে তুলতে কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্প্রসারণের বিষয়ে শ্রমসচিবের সঙ্গে পরিকল্পনা রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়।
5:19 am, Sunday, 2 August 2026
শিরোনাম :
সিলেটের মানুষ মানসম্মত যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত
-
MIT ERP
- Update Time : 03:01:27 am, Sunday, 2 August 2026
- 4
Tag :
Popular Post


















