দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী, শিশুসহ মোট ১১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বগুড়া, রাজশাহী, খুলনা ও নেত্রকোনায় ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং চালকদের অসতর্কতা এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বগুড়া : কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় গতকাল শনিবার সকালে নওগাঁ থেকে মাছ বিক্রি শেষে পিকআপে করে ফেরার পথে একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাছবাহী পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ময়মনসিংহের মাছ ব্যবসায়ী লুৎফর রহমানের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। বাকি তিনজন হলেন পিকআপের চালক, হেলপার এবং অপর এক যাত্রী। ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। রাজশাহী : জেলায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন। মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট ডিগ্রি কলেজের সামনে শুক্রবার রাতে একটি বেপরোয়া ডাম্পট্রাক পেছন দিক থেকে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই লিমন নামের এক কিশোর নিহত হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর রাতুল মিয়া নামের অপর কিশোর মারা যায়। এ ঘটনায় স্বাধীন নামের আরেকজন গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, একই দিনে পুঠিয়া উপজেলার আমহাটায় বানেশ্বর-চারঘাট সড়কে ড্রাম্পট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দই ব্যবসায়ী মানিক চাঁদ নিহত হন। দই বিক্রি শেষে ভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর চালক ট্রাক ফেলে পালিয়ে গেলেও পুলিশ নম্বরপ্লেটবিহীন ওই ডাম্পট্রাক জব্দ করতে সক্ষম হয়। খুলনা : জেলার দীঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের ডোমরা দক্ষিণ এলাকায় শুক্রবার রাতে দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মোটরসাইকেলে করে স্বামী সিহাব শেখের সঙ্গে খুলনা থেকে নড়াইলের কালিয়ায় যাচ্ছিলেন ফারজানা খাতুন, তার দুই বছরের শিশুকন্যা মাইমুনা এবং ছোট বোন রুবিয়া খাতুন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই নারী, তার মেয়ে ও কিশোরী শ্যালিকার মৃত্যু হয়। অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া চালক স্বামী সিহাব শেখ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। নেত্রকোনা : জেলার পূর্বধলা উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মারিয়া আক্তার প্রীতি নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবার কাছে যাওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং মহাসড়কগুলোয় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের প্রাণহানি রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এসব সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলোয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং পলাতক চালকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
5:02 am, Sunday, 2 August 2026
শিরোনাম :
পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি
-
MIT ERP
- Update Time : 04:21:07 am, Sunday, 2 August 2026
- 1
Tag :
Popular Post


















