5:02 am, Sunday, 2 August 2026

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দাবিতে ডিসিকে স্মারকলিপি

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:21:18 am, Sunday, 2 August 2026
  • 1
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নিরবচ্ছিন্ন ও লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ জুলাই এলাকাবাসীর পক্ষে সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এ সময় ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, চর অনুপনগর ইউপি চেয়ারম্যান এস আব্দুল বাদীসহ আরও কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৪ গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। এ ছাড়া সেচনির্ভর এই জনপদে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কৃষিকাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাই (হরিপুর) গ্রিড থেকে বরেন্দ্র ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (বহরম) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (মাদ্রাসা মার্কেট) উপকেন্দ্রের মাধ্যমে এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। একটিমাত্র ৩৩ কেভি ফিডারের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ২৫ মেগাওয়াট হলেও ১৫টি ইউনিয়নের বর্তমান বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। প্রায় ১০ মেগাওয়াটের ঘাটতির কারণে জাতীয়ভাবে লোডশেডিং না থাকলেও স্থানীয়ভাবে নিয়মিত ফোর্সশেডিং করতে হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নয়াগোলা থেকে দামুসবিল পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার নতুন ৩৩ কেভি ডাবল সার্কিট লাইন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে নয়াগোলা (সাতনইল) এলাকায় মাত্র সাত স্প্যান লাইনের কাজ বাকি থাকায় পুরো প্রকল্পটি চালু করা যাচ্ছে না। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, এক ব্যক্তির আপত্তি ও মামলার কারণে সামান্য এই অংশের কাজ আটকে রয়েছে। অথচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সেখানে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণে জমির কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবু একজনের আপত্তির কারণে লক্ষাধিক গ্রাহক বিদ্যুৎসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমতাবস্থায়, দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে অবশিষ্ট সাত স্প্যান লাইনের কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দাবিতে ডিসিকে স্মারকলিপি

Update Time : 04:21:18 am, Sunday, 2 August 2026

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নিরবচ্ছিন্ন ও লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ জুলাই এলাকাবাসীর পক্ষে সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এ সময় ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, চর অনুপনগর ইউপি চেয়ারম্যান এস আব্দুল বাদীসহ আরও কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৪ গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। এ ছাড়া সেচনির্ভর এই জনপদে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কৃষিকাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাই (হরিপুর) গ্রিড থেকে বরেন্দ্র ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (বহরম) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (মাদ্রাসা মার্কেট) উপকেন্দ্রের মাধ্যমে এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। একটিমাত্র ৩৩ কেভি ফিডারের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ২৫ মেগাওয়াট হলেও ১৫টি ইউনিয়নের বর্তমান বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। প্রায় ১০ মেগাওয়াটের ঘাটতির কারণে জাতীয়ভাবে লোডশেডিং না থাকলেও স্থানীয়ভাবে নিয়মিত ফোর্সশেডিং করতে হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নয়াগোলা থেকে দামুসবিল পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার নতুন ৩৩ কেভি ডাবল সার্কিট লাইন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে নয়াগোলা (সাতনইল) এলাকায় মাত্র সাত স্প্যান লাইনের কাজ বাকি থাকায় পুরো প্রকল্পটি চালু করা যাচ্ছে না। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, এক ব্যক্তির আপত্তি ও মামলার কারণে সামান্য এই অংশের কাজ আটকে রয়েছে। অথচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সেখানে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণে জমির কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবু একজনের আপত্তির কারণে লক্ষাধিক গ্রাহক বিদ্যুৎসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমতাবস্থায়, দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে অবশিষ্ট সাত স্প্যান লাইনের কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।