11:17 pm, Saturday, 1 August 2026

চলতি বছরে বেলুচিস্তানে ৩১ হাজারের বেশি অভিযান চালিয়েছে পাক সেনা

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:48:09 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 5
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে বেলুচিস্তানে ৩১ হাজারের বেশি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান (আইবিও) পরিচালনা করেছে পাকিস্তানি বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাওয়ালপিন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানজুড়ে মোট ৪০ হাজার ৩৪৮টি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বেলুচিস্তানে ৩১ হাজার ৮০টি, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ৭ হাজার ১৭৭টি এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ২ হাজার ৯১টি অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি। চৌধুরী বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান দিন-রাত অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানি বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০টি অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি দাবি করেন, একই সময়ে সামরিক বাহিনীর অভিযানে ‘নিশ্চিত সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত ২ হাজার ৮৪ জন নিহত হয়েছে, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১০ জনের সমান। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা তোষণমূলক নীতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে সামরিক মুখপাত্র বলেন, তাদের অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে, সংবিধান ও আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, ‘হয় তারা আত্মসমর্পণ করবে, নয়তো আমরা তাদের নির্মূল করব।’ চৌধুরী আরও জানান, রাষ্ট্র যতক্ষণ না সন্ত্রাসবাদের হুমকি পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে বলে মনে করবে, ততক্ষণ সামরিক অভিযান চলবে। বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চৌধুরী রাজনৈতিক ও উপজাতীয় অভিজাত শ্রেণির একটি অংশের বিরুদ্ধে এমন একটি শোষণমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার অভিযোগ করেন, যা সাধারণ মানুষকে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। তিনি বলেন, ‘অভিজাততন্ত্র, সর্দারতন্ত্র এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার প্রবণতা’ বেলুচিস্তানের অন্যতম মৌলিক সমস্যা। চৌধুরীর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ হুমকির মুখে পড়লে হামলা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করা গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে নয়, বরং বেলুচিস্তানের জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

চলতি বছরে বেলুচিস্তানে ৩১ হাজারের বেশি অভিযান চালিয়েছে পাক সেনা

Update Time : 08:48:09 pm, Saturday, 1 August 2026

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে বেলুচিস্তানে ৩১ হাজারের বেশি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান (আইবিও) পরিচালনা করেছে পাকিস্তানি বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাওয়ালপিন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানজুড়ে মোট ৪০ হাজার ৩৪৮টি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বেলুচিস্তানে ৩১ হাজার ৮০টি, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ৭ হাজার ১৭৭টি এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ২ হাজার ৯১টি অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি। চৌধুরী বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান দিন-রাত অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানি বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০টি অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি দাবি করেন, একই সময়ে সামরিক বাহিনীর অভিযানে ‘নিশ্চিত সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত ২ হাজার ৮৪ জন নিহত হয়েছে, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১০ জনের সমান। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা তোষণমূলক নীতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে সামরিক মুখপাত্র বলেন, তাদের অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে, সংবিধান ও আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, ‘হয় তারা আত্মসমর্পণ করবে, নয়তো আমরা তাদের নির্মূল করব।’ চৌধুরী আরও জানান, রাষ্ট্র যতক্ষণ না সন্ত্রাসবাদের হুমকি পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে বলে মনে করবে, ততক্ষণ সামরিক অভিযান চলবে। বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চৌধুরী রাজনৈতিক ও উপজাতীয় অভিজাত শ্রেণির একটি অংশের বিরুদ্ধে এমন একটি শোষণমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার অভিযোগ করেন, যা সাধারণ মানুষকে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। তিনি বলেন, ‘অভিজাততন্ত্র, সর্দারতন্ত্র এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার প্রবণতা’ বেলুচিস্তানের অন্যতম মৌলিক সমস্যা। চৌধুরীর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ হুমকির মুখে পড়লে হামলা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করা গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে নয়, বরং বেলুচিস্তানের জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবে।