ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত চালানো সব হামলার মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ ছাড়া তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা গেছে, সম্ভাব্য এই অভিযান ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো হতে পারে। হামলা হলে, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই হবে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের প্রথম বড় সামরিক অভিযান। গতকাল শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর খুব কঠিন আঘাত হানব। একপর্যায়ে তারা বলবে, আমরা আর এটি সহ্য করতে পারছি না।” ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠকে ট্রাম্প নতুন হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে প্রেসিডেন্ট হামলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে “পিক্যাক্স মাউন্টেন” নামের একটি স্থান, যেখানে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজ লুকিয়ে রেখেছে। এসব প্রযুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, অভিযান পুনরায় শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি থেকে সরে আসতে হবে। এদিকে, সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে “খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা” চলছে এবং এর ফলেই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে জর্ডানে ইরানের আকস্মিক হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অভিযানের পর সেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। কয়েক দিনের বিরতির পর চলতি সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। তবে শুক্রবার রাতে বড় কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ট্রাম্প ইরানকে “অত্যন্ত অসম্মানজনক” আচরণের জন্য অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী আলোচনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ইরান রক্ষা করেনি। অন্যদিকে, তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। কিছু কর্মকর্তার ধারণা, যুদ্ধবিরোধী অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়বে—এমন আশায় ইরান আলোচনা দীর্ঘায়িত করতে পারে। আজ শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা না করতে আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে।” রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “যে কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে কাজ করবে, তাকে যুদ্ধের আগুনে পুড়তে হবে।”
11:30 pm, Sunday, 2 August 2026
শিরোনাম :
ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হামলার প্রস্তুতি ইসরায়েল-আমেরিকার
-
MIT ERP
- Update Time : 08:25:45 pm, Saturday, 1 August 2026
- 8
Tag :
Popular Post

























