দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর জামিন পাওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি ল ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রথম লক্ষ্য হলো তার জামিন বাতিল করা এবং পরবর্তী সময়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। তবে প্রশ্ন উঠেছে—একটি ল ফার্মের আইনি পদক্ষেপেই কি বিদেশে থাকা কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ল ফার্ম সরাসরি কাউকে গ্রেপ্তার বা দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে না। এটি কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা রাষ্ট্রীয় সংস্থা নয়। তবে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় একটি ল ফার্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে আদালতে আবেদন করা, আইনি যুক্তি উপস্থাপন, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা থাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ‘বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিলের জন্য দুবাইয়ে একটি ল ফার্মকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ রোববার (২ আগস্ট) রাজশাহী পুলিশ লাইনস ড্রিল শেডে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ল ফার্ম নিয়োগ করেছি। আমাদের চেষ্টা আমরা করছি। আমরা আশা করছি, বেল ক্যানসেল করতে পারব এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে ফেরত আনতে পারব।’ তিনি আরও জানান, হোম সেক্রেটারি দুবাইয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং নিয়োগ করা ল ফার্মকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ না করার শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে। জামিনের বিস্তারিত শর্ত জানতে আদালতের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ল ফার্মের ক্ষমতা কতটুকু? ল ফার্ম হলো আইনজীবীদের একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান, যারা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারের হয়ে আইনি পরামর্শ ও আদালতে প্রতিনিধিত্ব করে। তবে তাদের নিজস্ব কোনো গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা নেই। বিদেশে থাকা কোনো ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সাধারণত কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়—সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতে আইনি আবেদন; প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও নথি উপস্থাপন; প্রত্যর্পণ বা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়া শুরু; দুই দেশের সরকারের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয়; এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতের অনুমোদন। অর্থাৎ, ল ফার্ম আইনি লড়াই পরিচালনা করতে পারবে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আদালত ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার ওপর। বিশ্বে এর আগেও অনেক আলোচিত প্রত্যর্পণ মামলায় আন্তর্জাতিক ল ফার্মগুলো কাজ করেছে। ভারতের বিজয় মালিয়া ও নীরব মোদিকে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরানোর মামলায় আইনজীবীরা আদালতে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। বেনজীরকে ফেরানোর পথে চ্যালেঞ্জ বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু জামিন বাতিল করাই যথেষ্ট নয়। তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং দুই দেশের সরকারি যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। ফলে সরকারের নিয়োগ করা ল ফার্ম হতে পারে এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু একমাত্র পথ নয়। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ল ফার্ম বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর পথ তৈরি করতে পারে, কিন্তু তাকে ফিরিয়ে আনার চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে রাষ্ট্র ও আদালতের হাতে।
11:59 pm, Sunday, 2 August 2026
শিরোনাম :
বেনজীরকে নিয়ে আসতে পারবে কি ‘ল ফার্ম’?
-
MIT ERP
- Update Time : 11:12:23 pm, Sunday, 2 August 2026
- 7
Tag :
Popular Post



















