শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে সায় দিচ্ছে দেশের গুপ্ত বাহিনী— এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি আরও বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট ভারতে গিয়ে— সেইখান থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে।
আর দেশের ভেতরে থাকা গুপ্ত ও সুপ্তরা তালের পাখা দিয়ে বাতাস করছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি এসএম জিলানী সভাপতিত্বে দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস এবং অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সামবেশ করেন নেতাকর্মীরা।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আযাদ, সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, কেন্দ্রীয় নেতা ডাক্তার জাহিদ, রফিকুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, মাসুম বিল্লাহ, জহির উদ্দিন তুহিন, শেখ ফরিদসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।
দেশে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট চক্র বিদেশ থেকে ষড়যন্ত্রের জাল বুনে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। কিন্তু এদেশের জনগণ সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে আছে। এই রাজপথ অন্য কোনো দলের কাছে বিক্রি করা হয়নি বা কেউ কিনে নেয়নি।
এ রাজপথ এদেশের মেহনতি জনগণের। বিএনপি সবসময় অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেছে। বিএনপির ভিত্তি হলো জনগণ। মধ্যবাড্ডা, কাফরুল, উত্তরা, মিরপুর ও শাহবাগে গাড়িতে আগুন দিয়ে যারা পরিকল্পিত সন্ত্রাস চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান রিজভী।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও সরকারের পদ পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট চলছে। পৃথিবীর অনেক দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে— কিউবায় ১০-১৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। অথচ বিরোধী দলের কিছু নেতা না বুঝে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাত্র ৩৫ জনের একটি সংক্ষিপ্ত ও সাশ্রয়ী বহর নিয়ে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিয়ে দেশের টাকা সাশ্রয় করেছেন। অথচ বিগত সরকারের সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ১৫০-২০০ লোক নিয়ে প্রমোদভ্রমণে যেতেন এবং নিউইয়র্ক থেকে লন্ডন ও ফিনল্যান্ডে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করা। তারা পাচারকৃত টাকার খোঁজ নিতে যেতেন।
বর্তমান সরকার সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত আন্তরিক এবং দেশের অর্থনীতিকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ইতোমধ্যে জানিয়েছে যে বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে দেশের অর্থনীতি উন্নতির দিকে মোড় নিচ্ছে। অথচ একটি মহল জনগণের কষ্টকে পুঁজি করে বিলাসিতা ও অতিরিক্ত গাড়ি বহর নিয়ে শোডাউন করে অপচয় করছে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যমুনা সেতুর টুলের হিসাব ছিল সাড়ে ৪০০ গাড়ি। আর জামায়াতের আমির বলেছেন— এক হাজার গাড়ি নিয়ে গেছেন। এত গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম বা রংপুরে যাওয়ার কী প্রয়োজন ছিল? যদি ধরেও নিই যে সাড়ে ৪০০ গাড়ি ছিল, তবে এ পরিমাণ জ্বালানি খরচ না করে তা যদি সাশ্রয় করা হতো, তবে দেশের উপকার হতো।
আজকে বিদ্যুতের সংকট, গ্যাসের সংকট এবং চুলা জ্বালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। অথচ এর মধ্যেও এত অপচয় ও বিলাসিতা করে বড় বড় বক্তব্য রাখা হচ্ছে— তা জনগণ সবই বুঝে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার হতদরিদ্র মানুষ ও প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।




















